• ই-পেপার

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ, রক্ষণে চমক

মেসির রেকর্ড গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির রেকর্ড গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা

ফুটবল মাঠে কখনো কখনো প্রতিপক্ষের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সামনে স্রেফ করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। রাউন্ড অব থার্টি-টুর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচ যেন আরও একবার সেই চিরন্তন সত্যকেই মনে করিয়ে দিল।

কেপ ভার্দের ইস্পাতকঠিন রক্ষণ আর নিখুঁত ফুটবলকে এক লহমায় চূর্ণ করে দিলেন ফুটবলের যাদুকর লিওনেল মেসি। তার অবিশ্বাস্য এক ফিনিশিংয়ে আপাতত লিড নিয়ে বিরতিতে গিয়েছে আর্জেন্টিনা।

লড়াকু ফুটবল খেলা কেপ ভার্দে তখন পর্যন্ত প্রায় নিখুঁত এক ব্লু-প্রিন্টেই আটকে রেখেছিল আলবিসেলেস্তেদের। কিন্তু প্রতিপক্ষ শিবিরে যখন ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারী মেসি থাকেন, তখন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে এক মুহূর্তের জাদুই যথেষ্ট।

ঠিক তেমনই এক জাদুর মহড়া দেখা গেল ম্যাচের এক মুহূর্তে। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত এক দূরপাল্লার থ্রু-পাস বাড়ালেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। চোখের পলকে বলের লাইনে চলে গেলেন লিওনেল মেসি, ততক্ষণে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

এরপর স্রেফ কোনো চিত্রকরের ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতো এক গোল। প্রথম স্পর্শেই রানিংয়ের ওপর বলটিকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেন মেসি। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা পজিশন সামলানোর আগেই, দ্বিতীয় ছোঁয়ায় চোখের পলকে বল পাঠিয়ে দিলেন জালে! চলতি আসতে তারকা বনে যাওয়া গোলরক্ষক কেবল চেয়ে চেয়ে দেখলেন বলের সেই নিখুঁত গতিপথ।

আর এই চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের রাজকীয় মঞ্চে নিজের রেকর্ড ২০তম গোলটি উদযাপন করলেন এলএম-টেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আগেই ভেঙেছেন মেসি। এখন নিজের সেই রেকর্ডকেই আরো দূরে নিয়ে যাচ্ছেন এই মহাতারকা।

একই সঙ্গে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি মেসির ৭ম গোল। এছাড়া আজকের ম্যাচ দিয়ে আরেক অনন্য মাইলফলক গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের রেকর্ড ৩০ ম্যাচে মাঠে নামলেন আর্জেন্টাইন যাদুকর। 

টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মিশরের ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মিশরের ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম নকআউট ম্যাচ জিতল মিশর। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানের এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিটও নিশ্চিত করলেন মোহাম্মদ সালাহরা। এর আগে ১৯৩৪ সালে শেষবার নকআউটে খেলেছিল মিশর।

টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে এসে গড়বড় করে বসে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার। বারের ওপর দিয়ে বল মেরে দেন তিনি। এরপর মাহমুদ সাবের প্রথম শট নিতে এসে মিশরকে এগিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয় শটে গোল করে কিছুটা সকারুজদের স্বস্তি এনে দেন জ্যাকসন আরবিন। মিশর তাদের দ্বিতীয় শটেও গোল পায়।

তৃতীয় শটে ভুল হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। আওয়ার মাবিল গোল করেন। মিশরের তৃতীয় শটও হয় ঠিকঠাক। চতুর্থ স্পটকিক মিস করে অস্ট্রেলিয়াকে বেকাদায় ফেলেন ১৮ বছর বয়সী হেরিংটন। এরপর আবদেল বল জালে জড়ালে উৎসব শুরু হয় মিশরের।

এর আগে প্রথমার্ধ শেষে ইতিহাস গড়ার সুবাস পাচ্ছিল মিসর। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের এক চরম নাটকীয়তায় অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ফিরতেই যেন সব ওলটপালট হয়ে যায়।

ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটেই ইমান আশুরের সেই চোখধাঁধানো গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছিল তারা।

কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় স্তব্ধ হয়ে যায় মিসর শিবির।

অস্ট্রেলিয়ার একটি ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল ডি-বক্সের ভেতর ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। কিন্তু টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল ঠিকঠাক সংযোগ না হয়ে উল্টো নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়! হানির এই অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মঘাতী গোলেই সমতায় ফেরে সকারুজরা।

এরপর বাকি সময়ে দুই দলই লিড নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে লড়লেও জালের দেখা মেলেনি আর।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কেউ শেষ হাসি হাসতে না পারায় শুরু হয় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকার।

২ গোল করে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মিশরের ডিফেন্ডার!

ক্রীড়া ডেস্ক
২ গোল করে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মিশরের ডিফেন্ডার!
সংগৃহীত ছবি

ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বলের লাইনে পজিশন নিয়েছিলেন নিখুঁতভাবেই। উঁচুতে লাফিয়ে উঠে মাথাও ছোঁয়ালেন দারুণভাবে। বল গিয়ে আছড়ে পড়ল জালে! কিন্তু এমন নিখুঁত ফিনিশিংয়ের পরও বুনো উল্লাসের বদলে দুই হাতে মুখ ঢেকে মাঠেই মুষড়ে পড়লেন মোহামেদ হানি। কারণ, বলটি তিনি প্রতিপক্ষের নয়, জড়িয়েছেন নিজেদের জালেই!

ডালাস স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এই এক আত্মঘাতী ভুলেই যেন ‘ট্র্যাজিক হিরো’ বনে গেলেন ৩০ বছর বয়সী মিসরীয় ডিফেন্ডার। আর এই এক গোলের সৌজন্যেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন হানি, যা কোনো ফুটবলারই কখনো স্বপ্নেও চাইতে পারতেন না।

চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিসর। সেদিনও লাল-সবুজ জার্সিধারীদের পয়েন্ট হারানোর নেপথ্য খলনায়ক ছিলেন এই হানি। বেলজিয়ামের সেই একমাত্র গোলটিও এসেছিল তারই আত্মঘাতী উপহার থেকে।

আর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফের নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক ‘আত্মঘাতী’ গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত হানির মতো দুর্ভাগ্য সঙ্গী করে গোল করেছেন আরও ৬৫ জন ফুটবলার। তবে অভিশপ্ত সেই তালিকায় দুইবার নাম লেখানোর নজির নেই আর কারও!

হানির এই ‘উপহার’ অবশ্য ২০২৬ বিশ্বকাপকেও তুলে দিয়েছে ইতিহাসের নতুন পাতায়। চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি আত্মঘাতী গোল দেখল ফুটবলবিশ্ব, যা বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল দেখেছিল দর্শকেরা।

আত্মঘাতী গোলে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল মিশরের ম্যাচ

ক্রীড়া ডেস্ক
আত্মঘাতী গোলে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল মিশরের ম্যাচ
রয়টার্সের ছবি

প্রথমার্ধ শেষে ইতিহাস গড়ার সুবাস পাচ্ছিল মিসর। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের এক চরম নাটকীয়তায় অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ফিরতেই যেন সব ওলটপালট হয়ে গেল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ম্যাচ এখন ১-১ সমতায়।

ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে ম্যাচ গড়াল ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও যদি কেউ শেষ হাসি হাসতে না পারে, তবে ম্যাচের ভাগ্য লেখা হবে স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে।

অথচ ম্যাচের শুরুটা ছিল সালাহ-আশুরদের রূপকথার মতো। ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটেই ইমান আশুরের সেই চোখধাঁধানো গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছিল তারা।

কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় স্তব্ধ হয়ে যায় মিসর শিবির। অস্ট্রেলিয়ার একটি ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল ডি-বক্সের ভেতর ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। কিন্তু টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল ঠিকঠাক সংযোগ না হয়ে উল্টো নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়! হানির এই অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মঘাতী গোলেই সমতায় ফেরে সকারুজরা।

এরপর বাকি সময়ে দুই দলই লিড নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে লড়লেও জালের দেখা মেলেনি আর।