• ই-পেপার

যে শর্তে বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেল ইরান

আর্জেন্টিনার ‘কলঙ্কিত ও পাতানো’ প্রথম বিশ্বকাপ জয়

ফুয়াদ হাসান
আর্জেন্টিনার ‘কলঙ্কিত ও পাতানো’ প্রথম বিশ্বকাপ জয়
সংগৃহীত ছবি

১৯৭৮ সালের ২১ জুন, এক থমথমে রাত। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের কুখ্যাত নেভি মেকানিক্যাল স্কুলের এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রাজনৈতিক বন্দি ম্যানুয়েল কালমেস হঠাৎ শুনতে পেলেন পুরো শহরজুড়ে এক গগনবিদারী গর্জন।

সেখান থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে, এস্তাদিও জিগান্তে দে আরয়িতো স্টেডিয়ামে তখন চলছে বিশ্বকাপের এক ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচ। পেরুর জালে বল পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রায় আশি হাজার মানুষের সেই উল্লাস রোজারিওর হিমশীতল বাতাস ভেদ করে আছড়ে পড়ল লাতিন আমেরিকার অন্যতম নৃশংস এক টর্চার সেলের দেয়ালে।

ফুটবলপ্রেমী কালমেস বন্দিদশাতেও স্বভাবসুলভভাবেই সেই গোলের আনন্দ উদযাপন করে উঠলেন। মুহূর্তেই এক জল্লাদ গার্ড তার দিকে ঘুরে তাকাল। হিমশীতল গলায় ফিসফিস করে বলল, ‘ওটাই তোমার জীবনের শেষ গোল, যা তুমি উদযাপন করলে।’

এই একটি বাক্যই আসলে ফুটিয়ে তোলে ১৯৭৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আসল আবহ। বাইরের দুনিয়ার কাছে ওটা ছিল ফুটবলের এক বর্ণিল উৎসব, উগ্র জাতীয়তাবাদ আর নান্দনিক বিজয়ের গল্প। কিন্তু আর্জেন্টিনার ভেতরের গল্পটা ছিল গুম, টর্চার সেল, সেন্সরশিপ আর জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার সামরিক স্বৈরশাসনের এক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দলিল।

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ কেবল কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না। এটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত এক ক্রীড়া প্রদর্শনী। যে মাসে ফুটবল একই সঙ্গে হয়ে উঠেছিল স্বৈরাচারের প্রচারণামূলক হাতিয়ার এবং নৃশংসতা ঢাকার এক রঙিন মুখোশ।

স্বৈরাচারের বুটের নিচে ফুটবল

১৯৬৬ সালে যখন ফিফা আর্জেন্টিনাকে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়, তখনো দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে যায়নি। কিন্তু টুর্নামেন্ট যখন শুরু হলো, ততদিনে আর্জেন্টিনা রূপ নিয়েছে এক ভয়ার্ত একনায়কতন্ত্রে। 

১৯৭৬ সালে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল ভিদেলার জান্তা সরকার। এরপরই তারা শুরু করে কুখ্যাত ‘ডার্টি ওয়ার’—যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ছাত্র, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের নির্মমভাবে দমন করা। হাজার হাজার মানুষ রাতারাতি উধাও হয়ে যাচ্ছিল। বন্দিশালায় চলত অমানুষিক নির্যাতন। অনেককে ড্রাগ খাইয়ে অজ্ঞান করে সামরিক বিমান থেকে জীবন্ত ফেলে দেওয়া হতো আটলান্টিক মহাসাগরে। 

ভয়াবহ এই সন্ত্রাসের মধ্যেও জান্তা সরকার ফুটবলের মধ্যে এক দারুণ সুযোগ দেখতে পেয়েছিল।

স্বৈরশাসকেরা সবসময়ই নিজেদের বৈধতা প্রমাণের জন্য মরিয়া থাকে, আর বিশ্বকাপ ছিল তার মোক্ষম হাতিয়ার। আর্জেন্টিনা যদি সফলভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং জয় করতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে তারা নিজেদের খুনে শাসক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় গৌরব ও স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে জাহির করতে পারবে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘স্পোর্টসওয়াশিং’ শব্দটা জনপ্রিয় হওয়ার বহু আগেই এই জেনারেলরা বুঝে গিয়েছিলেন, ফুটবলের জয় মানুষের স্মৃতিতে সাময়িক বিস্মৃতি বা ‘ইমোশনাল অ্যামনেসিয়া’ তৈরি করতে পারে।

এক মিথ্যা ভ্রমের দেয়াল

বিশ্বকাপের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে জান্তা সরকার বিপুল অর্থ ঢেলেছিল। বুয়েনস আইরেসে আসা বিদেশী সাংবাদিকদের দেখানো হতো সুপরিকল্পিত দেশপ্রেমের দৃশ্য। স্টেডিয়ামের আশেপাশের বস্তিগুলোকে লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল বড় বড় রঙিন দেয়াল দিয়ে। কুখ্যাত বন্দিশালাগুলো থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দূরের দুর্গম ক্যাম্পে। আন্তর্জাতিক মহলের যেকোনো সমালোচনাকে উড়িয়ে দেওয়া হতো ‘আর্জেন্টিনা-বিরোধী অপপ্রচার’ বলে।

অথচ, উৎসবমুখর স্টেডিয়ামগুলো থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে টর্চার সেলগুলোতে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চলত অবিরাম।

পরিস্থিতিটা ছিল পরাবাস্তব বা সুরিয়ালিস্টিক। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ভেতরে যখন কনফেত্তি আর গগনবিদারী স্লোগানে জাতীয় দলকে বরণ করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই স্টেডিয়ামের বাইরে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হন্যে হয়ে কাঁদছিল হাজারো পরিবার।

বিখ্যাত লেখক পাবলো ইয়োন্তো সেই গুমোট পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছিলেন এক নির্মম সত্য দিয়ে। তিনি বলেন, ‘লাখো মানুষ সরকারের তৈরি করা সেই ধারণার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল—যেখানে মাঠের জয়কে দেখানো হচ্ছিল এক শান্তিময় দেশের বিজয় হিসেবে।’

কিন্তু আর্জেন্টিনা শান্তিতে ছিল না। তারা আসলে ভয়ের চাদরে স্তব্ধ হয়ে ছিল।

পেরু ম্যাচ এবং ৬-০ গোলের সেই কালো রাত

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপের ফরম্যাটটাই এমন ছিল যা সন্দেহের সব দুয়ার খুলে দিয়েছিল। আধুনিক নকআউট পর্বের মতো তখন সেমিফাইনাল ছিল না। শেষ আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হতো, আর দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন সরাসরি খেলত ফাইনাল। আর্জেন্টিনার গ্রুপে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। শেষ ম্যাচের আগে ব্রাজিল তাদের সব খেলা শেষ করে ফেলায় সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল একদম পরিষ্কার।

ব্রাজিলকে গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলে ফাইনালে যেতে হলে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে জিততেই হতো অন্তত ৪-০ গোলের ব্যবধানে।

সাধারণত ফিক্সচারের এই সুবিধা বন্ধ করতে সমসাময়িক সময়ে একই সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করা হয়। কিন্তু ফিফা কয়েক মাস আগেই সম্প্রচারস্বত্ব আর টিকিট বিক্রির অজুহাতে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি পরে আয়োজন করতে রাজি হয়। ফলে মাঠের নামার আগেই মেনোত্তির দল জানত তাদের ঠিক কী করতে হবে। 

এরপর যা ঘটেছিল, তা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে আজো কুখ্যাত। যে পেরু দলকে তখন লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের দল ধরা হতো, যারা আগের ৫ ম্যাচে মাত্র ৬টি গোল হজম করেছিল, তারা সেই রাতে মাঠে যেন স্রেফ পুতুল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আর্জেন্টিনাকে কোনো বাধাই দিল না তারা। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জিতে একেবারে ৬-০ গোলের ব্যবধানে!

ম্যাচের এই অবিশ্বাস্য ফল রাতারাতি বিশ্বজুড়ে সন্দেহের ঝড় তোলে।

ড্রেসিংরুমে স্বৈরশাসক ভিদেলা ও কিসিঞ্জার

ম্যাচের বাঁশি বাজার ঠিক কয়েক মিনিট আগে পেরুর ড্রেসিংরুমে ঘটেছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। হঠাৎ করেই পেরুর ড্রেসিংরুমে হাজির হন স্বয়ং আর্জেন্টিনার একনায়ক জেনারেল ভিদেলা এবং আমেরিকার সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট হেনরি কিসিঞ্জার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভিদেলা পেরুর খেলোয়াড়দের সামনে দুই দেশের ‘ভ্রাতৃত্বের’ বাণী শোনান, যা ছিল আসলে পেরুর তৎকালীন স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো মোরালেস বারমুদেজের পক্ষ থেকে এক পরোক্ষ বার্তা।

কাগজে-কলমে এটি কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও, খেলোয়াড়দের জন্য তা ছিল স্পষ্ট এক রাজনৈতিক হুমকি বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ।

পরবর্তী দশকগুলোতে পেরুর অনেক খেলোয়াড় স্বীকার করেছেন যে, সেই ম্যাচের আগে তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হয়েছিল, এমনকি পরোক্ষ প্রাণনাশের হুমকিও ছিল। যদিও অনেকে তা অস্বীকার করে দলের ক্লান্তি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন।

কিন্তু এর পেছনের রহস্য কখনো ঢাকা পড়েনি। বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই আর্জেন্টিনা কোনো কারণ ছাড়াই পেরুকে ৩৫ হাজার টন শস্য সাহায্য পাঠায় এবং পেরুর ফ্রিজ হয়ে থাকা মিলিয়ন ডলারের আর্থিক তহবিল অবমুক্ত করে দেয়। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, লাতিন আমেরিকার স্বৈরশাসকদের মধ্যকার কুখ্যাত ‘অপারেশন কনডর’ এর অধীনে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি বিনিময়ের চুক্তিও হয়েছিল এই ম্যাচের বিনিময়ে।

পেরুর সিনেটর জেনারো লেদেসমা পরবর্তীতে আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন, দুই সরকারের মধ্যে গোপন চুক্তি হয়েছিল—পেরু আর্জেন্টিনাকে প্রয়োজনীয় গোল ব্যবধানে জিততে দেবে, আর বিনিময়ে ভিদেলা সরকার বারমুদেজের স্বৈরাচারী সরকারকে রাজনৈতিক ও সামরিক সুবিধা দেবে। 

খেলোয়াড়েরা বীর নাকি স্রেফ দাবার ঘুঁটি?

১৯৭৮ সালের এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আত্মগ্লানির মধ্যে। তারা কি এই নোংরা রাজনৈতিক খেলার অংশ ছিলেন? নাকি তারা ছিলেন বিশাল এক দানবীয় মেশিনের ভেতরে আটকে পড়া নিরীহ কিছু ফুটবলার?

পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার অনেক খেলোয়াড়ই স্বীকার করেছেন, খেলার সময় তারা কিছু না বুঝলেও, পরে তারা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছেন যে পেরু ম্যাচটি আগে থেকেই সাজানো ছিল।

দলের অন্যতম স্ট্রাইকার লিওপোল্ডো লুকে বছরের পর বছর পর আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আজ আমি যা জানি, তারপর বুক ফুলিয়ে বলতে পারি না যে আমি ওই বিজয়ের জন্য গর্বিত। কিন্তু তখন আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা স্রেফ ফুটবল খেলেছিলাম।’

মিডফিল্ডার রিকার্ডো ভিলা তো আরও সরাসরি বলেছিলেন, ‘এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, আমাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।’

এই কথাগুলোই আসলে সেই বিশ্বকাপের নৈতিক জটিলতাকে ফুটিয়ে তোলে। ফুটবলাররা কোনো জেনারেল ছিলেন না, তারা কাউকে টর্চারও করেননি। কিন্তু তাদের পায়ের জাদু আর ঘাম আলটিমেটলি ব্যবহৃত হয়েছিল এক খুনে শাসকের প্রোপাগান্ডা মেশিনের জ্বালানি হিসেবে।

রক্তের দাগ লাগা এক ট্রফি

ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে আর্জেন্টিনা।

বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। তবে মজার বিষয় হলো, মানুষ স্বৈরশাসককে নয়, উদযাপন করছিল তাদের ফুটবল দলকে। সামরিক জান্তা এই জয়ের আবেগকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, ফুটবলের শক্তি স্বৈরাচারের চেয়েও বড় প্রমাণিত হয়েছিল।

সাময়িকভাবে এই বিশ্বকাপ ভিদেলা সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল এবং দেশের ভেতরে এক ভুয়া একতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিল। কিন্তু ফুটবল কখনোই একটা রাষ্ট্রের ভেতরের রক্তপাতকে চিরতরে আড়াল করতে পারে না। মাত্র পাঁচ বছর পর, ফকল্যান্ডস যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয় এবং জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সেই সামরিক একনায়কতন্ত্র।

বিশ্বকাপ স্বৈরাচারকে কিছুটা সময় বা প্রচারের আলো হয়তো দিয়েছিল, কিন্তু চিরস্থায়ী করতে পারেনি।

ইতিহাসের সবচেয়ে ‘অভিশপ্ত’ ট্রফি

প্রায় অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেলেও, ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনার সেই প্রথম বিশ্বকাপ জয় আজও গৌরব আর গ্লানির এক দোলাচলে দুলছে। খাতায়-কলমে এটিই আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা, যে গৌরবের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং ২০২২ সালে লিওনেল মেসি বিশ্বজয় করেছেন। কিন্তু পরের দুটি জয় আর ১৯৭৮ সালের জয়টি এক নয়। এর গায়ে লেগে আছে এক দীর্ঘ, অন্ধকার ছায়া।

ফিফা বা কোনো অফিসিয়াল তদন্ত কমিটি কখনোই পেরু ম্যাচের ফিক্সিংয়ের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করেনি, হয়তো তারা এই প্যান্ডোরার বাক্স আর খুলতে চায়নি। বহু প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।

তবে আসল কেলেঙ্কারিটা কিন্তু একটা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেয়েও অনেক বড়। আসল কেলেঙ্কারি হলো, যে শাসনব্যবস্থা গুম, খুন আর নির্যাতনের জন্য দায়ী ছিল, তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবকে নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতার থিয়েটার বানিয়ে ফেলেছিল।

গ্যালারি পূর্ণ ছিল, পতাকা উড়ছিল, গগনবিদারী চিৎকারে কাঁপছিল স্টেডিয়াম। আর পর্দার আড়ালে স্বৈরশাসকেরা কান খাড়া করে সেই চিৎকার শুনছিল এই আশায় যে, ফুটবলের এই উন্মাতাল উল্লাস যেন রাজপথের সব আর্তনাদ আর রক্তের দাগকে চিরতরে ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়! 

‘অভিশাপ’ নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
‘অভিশাপ’ নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে সুখবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই অর্জনের সঙ্গে সামনে চলে এসেছে একটি পুরনো এবং অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান, যা নতুন করে ভাবাচ্ছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।

আইভরি কোস্টের কাছে ফ্রান্সের ২-১ গোলের পরাজয়ের ফলে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির দল। স্পেন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, আর ফ্রান্স নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।

কিন্তু ইতিহাস বলছে, ১৯৯২ সালে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক নম্বরে থাকা কোনো দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগে শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী দলগুলোর জন্য যেন এক অদৃশ্য অভিশাপ কাজ করেছে।

এই পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের সময় তাদের অবস্থান ছিল ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে। এবার তারা বিশ্বকাপে যাচ্ছে বিশ্বের এক নম্বর দল হিসেবে।

অবশ্য আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসের জায়গাও কম নয়। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি গত কয়েক বছরে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। বিশ্বকাপের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকাও জিতেছে তারা। দলের নেতৃত্বে আছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। 

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। কাগজে-কলমে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হওয়ায় সহজেই নকআউট পর্বে ওঠার আশা করছে তারা।

তবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনাকে শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গেই নয়, লড়তে হবে ইতিহাসের সঙ্গেও। এখন দেখার বিষয়, মেসিদের দল ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলগুলোর দীর্ঘদিনের সেই অভিশাপ ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে কি না।
 

মেসি কি হন্ডুরাসের বিপক্ষে খেলবেন, যা জানালেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি কি হন্ডুরাসের বিপক্ষে খেলবেন, যা জানালেন কোচ
লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।

হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘লিও (মেসি) ভালো আছে এবং আংশিকভাবে দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছে। সে আর আলাদা করে অনুশীলন করছে না। এই প্রীতি ম্যাচগুলোতে কিছু সময় মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে। সে এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে, যা আমাদের জন্য স্বস্তির।’

বিশ্বকাপের আগে কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও স্কালোনি জানিয়েছেন, সবাই ধীরে ধীরে উন্নতি করছে।

তিনি বলেন, ‘যারা আলাদাভাবে অনুশীলন করছে তাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তারা ভালো আছে। তবে আমরা এই প্রীতি ম্যাচগুলোতে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। তাদের অগ্রগতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’

এদিকে হন্ডুরাস ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে থাকবেন হোয়ান মুসো। স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন যে এই ম্যাচে মুসোকে সুযোগ দেওয়া হবে, আর পরের ম্যাচে খেলতে পারেন হেরোনিমো রুলি। 

বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান আর্জেন্টাইন কোচ। তার মতে, চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পাওয়ার জন্য সবাইকে ফিট থাকতে হবে।

হেক্সা মিশন

অপ্টার মতে যেভাবে বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
অপ্টার মতে যেভাবে বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল
ছবি : রয়টার্স

ব্রাজিল নামটা শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে ফিফা বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা। ফুটবল বিশ্বকাপের সমার্থক হয়ে যাওয়া এই লাতিন পরাশক্তিরা বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তো বটেই, একমাত্র দল হিসেবে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ২২টি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই অংশ নিয়েছে সেলেসাওরা।

অথচ এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পিঠেও আছে এক দীর্ঘ হতাশার গল্প। ২০০২ সালে জাপানের ইয়োকোহামায় পঞ্চম তারকা (পেন্টা) জয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪টি বছর। এর পর থেকে গত পাঁচটি বিশ্বকাপের চারটিতেই কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হতে পারেনি সাম্বার দেশ।

তবে এবার ডাগআউটে বসেছেন ফুটবলের চতুর জাদুকর এবং সিরিয়াল উইনার কার্লো আনচেলত্তি। তার অধীনেই ব্রাজিল হারাতে বসা সিংহাসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া। বিখ্যাত ‘অপটা সুপারকম্পিউটার’ ২৫ হাজার বার টুর্নামেন্টের সিমুলেশন চালিয়ে বের করেছে, কিভাবে এবং কোন পথ ধরে এবার ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারে ব্রাজিল।

চলুন দেখে নেওয়া যাক সুপারকম্পিউটারের চোখে ব্রাজিলের সেই সম্ভাব্য রোডম্যাপ :

গ্রুপ পর্ব

গ্রুপ ‘সি’ : মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের সঙ্গী মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। এই গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে সেলেসাওদের দেওয়া হয়েছে ৬০.৮ শতাংশ সম্ভাবনা। আর শেষ ৩২-এ যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৬.৯ শতাংশ। পুরো টুর্নামেন্টে শুধু স্পেনের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা (৯৮.৬ শতাংশ) ব্রাজিলের চেয়ে বেশি।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮২ সালের পর থেকে প্রতিবারই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে গেছে ব্রাজিল। মরক্কো হয়তো কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, তবে আনচেলত্তির দলের জন্য গ্রুপ পর্ব পার হওয়া কোনো কঠিন পরীক্ষা হওয়ার কথা নয়।

শেষ ৩২ (সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ : জাপান)

গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে জাপান। ফলে শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের সামনে পড়তে পারে ‘সামুরাই ব্লু’রা। এই বাধা টপকে শেষ ১৬-তে যাওয়ার জন্য ব্রাজিলকে ৬২.১ শতাংশ ফেভারিট ধরা হয়েছে।

অতীত ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষে গান গাইছে। জাপানের বিপক্ষে খেলা ১৪ ম্যাচের ১১টিতেই জিতেছে ব্রাজিল (ড্র ২টি, হার ১টি)। 

শেষ ১৬ (সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ : নরওয়ে)

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে নরওয়ে। আর তাদের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন আর্লিং হালান্ড। শেষ ১৬-তে এই নরওয়েই হতে পারে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি হবে দুই দলের মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। অবশ্য সেই ম্যাচে ব্রাজিল আগেই নকআউট নিশ্চিত করে ফেলায় কিছুটা গা-ছাড়া ভাব ছিল, অন্যদিকে নরওয়ের জন্য ওটা ছিল বাঁচা-মরার লড়াই।

তবে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে ব্রাজিলের রেকর্ড এককথায় অনবদ্য। এই পর্বে খেলা ১০টি ম্যাচের ৯টিতেই তারা পরের রাউন্ডে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে টানা শেষ আটটি জয়। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই রাউন্ডে ব্রাজিলের রেকর্ড শতভাগ—১৯৮৬ সালে পোল্যান্ডকে ৪-০ এবং ২০০২ সালে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল তারা।

কোয়ার্টার ফাইনাল (সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ : ইংল্যান্ড)

আগের দুই রাউন্ডের প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়েই বলা যায়, আসরটি আসল রূপ নেবে ঠিক এই জায়গায় এসে। কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য এটি হবে এক অগ্নিপরীক্ষা।

ব্রাজিলকে সেমিফাইনালে যেতে হলে রুখতে হবে ইংল্যান্ডকে, যাদের টুর্নামেন্ট জেতার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১১.৪ শতাংশ (স্পেন ও ফ্রান্সের পরই তৃতীয় সর্বোচ্চ)। তবে থ্রি লায়ন্সদের সামনে পেয়ে ব্রাজিল ভয় পাওয়ার চেয়ে আত্মবিশ্বাসীই হবে বেশি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ১২ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে ব্রাজিল (৫ জয়, ৬ ড্র)। আর বিশ্বকাপে চারবারের দেখায় কখনোই ইংল্যান্ডের কাছে হারেনি সেলেসাওরা, জিতেছে শেষ তিনটি ম্যাচই। ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রোনালদিনহোর সেই আইকনিক ফ্রি-কিকের কল্যাণে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর স্মৃতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন।

ইংল্যান্ড সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় এবং পরপর দুটি ইউরোতে (২০২০, ২০২৪) রানার্স আপ হয়ে বেশ উন্নতি করলেও, ১৯৬৬ সালের পর তাদের দীর্ঘ ৬০ বছরের বিশ্বকাপ খরা ব্রাজিলের ২৪ বছরের খরাকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়।

সেমিফাইনাল (সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ : ফ্রান্স)

ইংল্যান্ডের বাধা টপকাতে পারলে ব্রাজিলের সামনে আসবে আরো বড় পাহাড়—দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। সুপারকম্পিউটারের মতে, দিদিয়ের দেশমের দলের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৩৩.৫ শতাংশ।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই পরাশক্তি চারবার মুখোমুখি হয়েছে এবং এখানে ইতিহাস কথা বলছে ফরাসিদের পক্ষে। ১৯৫৮ সালের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথম ট্রফির দিকে এগিয়ে ছিল পেলে-ভাভাদের ব্রাজিল। কিন্তু এর পর থেকে প্রতিবারই ফরাসিদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হতে হয়েছে লাতিনদের। ১৯৮৬ ও ২০০৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করার পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ফ্রান্স।

তা ছাড়া সেমিফাইনালে ফ্রান্সের রেকর্ড অবিশ্বাস্য—তারা তাদের শেষ চারটি সেমিফাইনালই জিতেছে, যার শেষ তিনটিতে কোনো গোলই হজম করেনি। তবে ব্রাজিলও কম যায় না; নিজেদের শেষ সাতটি সেমিফাইনালের মাত্র একটিতে তারা ফাইনালের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয়েছে। আর ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে শেষ পাঁচ সেমির চারটিতেই জিতেছে ব্রাজিল।

ফাইনাল (সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ : স্পেন)

সব বাধা পেরিয়ে ব্রাজিল যদি ফাইনালে উঠতে পারে, তবে শিরোপার মহালড়াইতে তাদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট স্পেন (সুপারকম্পিউটারের চোখে যাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, ১৬.৫ শতাংশ)।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপে তাদের সাম্প্রতিক অতীত একেবারেই সুখকর নয়। ২০১০ চ্যাম্পিয়নদের শেষ তিনটি বিশ্বকাপ মিশন ছিল হতাশাজনক—২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়, আর ২০১৮ ও ২০২২ আসরে বিদায় নিতে হয়েছে শেষ ১৬ থেকেই।

ইতিহাসের পাতায় স্পেনের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের পাল্লাটাই ভারী। ১০ বারের দেখায় মাত্র দুটিতে হেরেছে ব্রাজিল (৫ জয়, ৩ ড্র)। বিশ্বকাপে স্পেনের বিরুদ্ধে শেষ চার ম্যাচে অপরাজিত সেলেসাওরা (৩ জয়, ১ ড্র)। তবে সেই ম্যাচগুলো ছিল গ্রুপ পর্বের, আর বিশ্বকাপের ফাইনালের চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গোলকধাঁধা।

টুর্নামেন্টের প্রথম বাঁশি বাজার আগে, অপটা সুপারকম্পিউটারের ২৫,০০০ সিমুলেশনে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাত্র ৬.৭ শতাংশ সময়ে। সম্ভাবনার দিক থেকে ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে আছে আরো পাঁচটি দেশ।

তবে পরিসংখ্যান এবং সুপারকম্পিউটার যা-ই বলুক, ফুটবল মাঠের রোমাঞ্চ কখনো কোনো চিপ বা অ্যালগরিদমে বন্দি করা যায় না। কার্লো আনচেলত্তির চাণক্য মস্তিস্ক আর ভিনিসিয়ুস-নেইমারদের পায়ের জাদু কি পারবে ২৪ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে ষষ্ঠ সোনালি তারকাটা খোদাই করতে? উত্তরটা তোলা রইল সময়ের খেরোখাতায়।