• ই-পেপার

প্রকাশিত হলো ড. অণিমা রায়ের ‘পঞ্চগীতিকবির গানে স্বদেশচেতনা’

নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ

অনলাইন ডেস্ক
নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ

উপমহাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত ও পথিকৃৎ নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ। ডাকনাম ‘নূরী’ নামে পরিচিত এই প্রখ্যাত সম্পাদক নারী সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় নারীদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

তিনি উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ ছয় দশক পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

নূরজাহান
এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরজাহান বেগম

নূরজাহান বেগম জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৫ সালের ৪ জুন চাঁদপুরের চালিতাতলি গ্রামে। তার পারিবারিক নিবাস ছিল পাইকারদী গ্রামে, যা মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলে তার পরিবার চালিতাতলিতে বসতি স্থাপন করে। তার পিতা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিখ্যাত ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক। মা ফাতেমা বেগম ছিলেন গৃহিণী।

শৈশবে ১৯২৯ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। সেখানে ১১ ওয়েলেসলি স্ট্রিটে ‘সওগাত’ পত্রিকার দপ্তরে বসবাস শুরু করেন। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন।

১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই নারীদের জন্য প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ প্রকাশিত হয়, তখন তিনি বিএ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। শুরুতে পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল। পরে নূরজাহান বেগম পত্রিকাটির সম্পাদনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় এর নেতৃত্ব দেন।

নূরজাহান
২০০৭ সালে ‘নূরজাহান জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে নূরজাহান বেগম

‘বেগম’ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি নারীদের লেখা, ছবি ও মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেন। নারীদের অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতিতে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়।

তিনি সাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫০ সালে তিনি বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার শরৎ গুপ্ত স্ট্রিটে দীর্ঘ সময় বসবাস করেন এবং সেখান থেকেই ‘বেগম’ পত্রিকার কাজ পরিচালনা করেন। নারীদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করতে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে লেখা ও ছবি সংগ্রহ করতেন বলেও জানা যায়।

নূরজাহান
নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নূরজাহান বেগম

নারী জাগরণ, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি একাধিক সম্মাননা লাভ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৭ সালের রোকেয়া পদকসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সামাজিক সম্মাননা।

২০১৬ সালের ২৩ মে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জন্মদিনে নারী সাংবাদিকতার এই অগ্রদূতকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নূরজাহান
লেখক নূরজাহান বেগম


ছবি : সালমা আহমেদ
শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সেবা প্রকাশনীর কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
সেবা প্রকাশনীর কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত
সংগৃহীত ছবি

অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, কর্মচারীদের দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর সেবা প্রকাশনীর সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সেবা প্রকাশনীর মালিকপক্ষ।

সেবা প্রকাশনীর অংশীদার কাজী শাহনূর হোসেন স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেবা প্রকাশনীতে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অনিয়ম–দুর্নীতির বিষয়টি সম্প্রতি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমতাবস্থায় অডিট কার্যক্রম নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সেবা প্রকাশনীর সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে।

২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেবা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর থেকেই তার প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম পাঠকপ্রিয় প্রকাশনা সংস্থাটির কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পরে তার দুই ছেলে কাজী শাহানূর হোসেন ও কাজী মাইমুর হোসেন সমান অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন। আর কাজী আনোয়ার হোসেন জীবদ্দশাতেই কাজী মাইমুর হোসেনের স্ত্রী মাসুমা মাইমুরকে উপদেষ্টা করে গেছেন।

সাময়িক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সেবা প্রকাশনীর উপদেষ্টা মাসুমা মাইমুর বলেন, পারিবারিকভাবে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পেছনের পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব–সংঘাত নেই।

মাসুমা মাইমুর জানান, কাজী মাইমুর হোসেন অসুস্থ রয়েছেন। বড় ভাই কাজী শাহানূর হোসেন সহজ–সরল মানুষ। তার অগোচরে প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম ও দুর্নীতি করছিলেন। বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছিল। ছয় মাস ধরে তিনি গোপনে অনুসন্ধান কারে দেখতে পান বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে বই বিক্রির অর্থ জমা করা হচ্ছে না। কৌশলে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া অনিয়মের কারণে সম্প্রতি নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পও ব্যর্থ হচ্ছিল। এ বিষয়গুলো জানার পরে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে তারা সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই রমনা থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে মাসুমা মাইমুর বলেন, অডিট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত অডিট শুরু হবে। এসব কার্যক্রম শেষ করে পাঠকপ্রিয় সেবা প্রকাশনী নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই সংকটময় সময়ে পাঠকদের তিনি সঙ্গে থাকার অনুরোধ করেছেন।

বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা
বুলবুল ইসলাম ও নৃপেন্দ্রলাল দাশ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলা একাডেমিতে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১১ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। 

এবার রবীন্দ্রসাহিত্যে অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ ও রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় শিল্পী বুলবুল ইসলাম ‘রবীন্দ্র পুরস্কার-২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন।

এক মঞ্চে কবিতা পাঠ ও ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থের পাঠপর্যালোচনা

অনলাইন ডেস্ক
এক মঞ্চে কবিতা পাঠ ও ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থের পাঠপর্যালোচনা
ছবি : কালের কণ্ঠ

আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতা পাঠ ও লুব্ধক মাহবুবের ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে পাঠপর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সৃজন-এর মিরপুর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কবি লুব্ধক মাহবুবের ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও গল্পকার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক ও বিশিষ্ট গবেষক প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।

আনোয়ারুল হক বলেন, “লুব্ধক মাহবুব প্রেমের কবি। প্রবাসজীবনের টানাপোড়েন তার কবিতার অন্যতম অনুষঙ্গ। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থে কবি পরিণত এবং শব্দচয়নে দক্ষতা তার কবিতাকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। তার কবিতার বিষয়ে গভীরভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা স্থান পেয়েছে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং প্রকৃতিও বিশেষভাবে তার কবিতায় উঠে এসেছে।”

প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ বলেন, “লুব্ধক মাহবুব একজন জাত কবি। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। আগের দুটি কাব্যগ্রন্থ থেকে এ গ্রন্থে তিনি অনেক বেশি পরিণত কবি। সু-নির্বাচিত শব্দ চয়ন, অনুপ্রাসের কাব্যময় প্রয়োগ, বক্রোক্তি ও ব্যাজস্তুতির বর্ণময় ব্যবহার, প্রাসঙ্গিক যথাযথ উপমা-উৎপ্রেক্ষা ও চিত্রকল্প এবং গদ্য ছন্দের অনবদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থে নিজের জন্য একটি নিজস্ব ভাষাশৈলী তৈরিতে দারুণভাবে সক্ষম হয়েছেন। গ্রন্থের ৮০টি কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য কবিকে অনন্য বিশিষ্টতায় বিভূষিত করেছে। ৩৪ বছর বিদেশবিভূঁইয়ে অবস্থান করেও নিজের মা-মাটি মানুষকে তিনি ভুলে যাননি।”

অনুষ্ঠানের ‘স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি’ বিষয়ের মূল বক্তব্যে লেখক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা বলেন, ‘সাতচল্লিশে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা যখন তৈরি হয় তখন পূর্ব বাংলার  মুসলমান কমিউনিটি সাগ্রহে তাতে শামিল হয়েছে। এর কারণ যতটা বা ধর্ম, তার চেয়ে বেশি অর্থনীতিকেন্দ্রিক। চল্লিশের দশকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রচুর কবিতা লেখা হয়েছে। ষাটের দশকে গিয়ে কবিদের এ বিষয়ে মোহভঙ্গ ঘটে।’

শেষ পর্বে আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, কবি ও কথাসাহিত্যিক নুসরাত সুলতানা এবং কবি ওয়াহিদ জামান।

আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সম্পর্কে নুসরাত সুলতানা বলেন, ‘কবিতা ব্যাখ্যার অতীত এক শিল্পকর্ম। শিশুর প্রথম কান্না যখন মা শুনতে পান, সেই আনন্দ যেমন ব্যাখ্যা করা যায় না, তেমনি কবিতাও ব্যাখা করা যায় না। কেবল উপলব্ধি করা যায়। কবি আরিফ মঈনুদ্দীন কাব্যজগতে বহু পথ পেরিয়ে এসেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ১৮টি কাব্যগ্রন্থ। এ কবির কবিতার শব্দচয়ন যেমন নান্দনিকতার দাবি রাখে, তেমনি তার গভীর উপলব্ধি ও পাঠকের মননকে নাড়া দেয়। কবির কবিতায় দর্শন ভাবনা, মনস্তত্ব এবং জীবনের ভাঁজকে পরতে পরতে খুলে দেখার আকাঙ্ক্ষা আছে।’

আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সম্পর্কে কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার বলেন, ‘কবিতাগুলোতে মিস্টিক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। কবিতাগুলো হৃদয় নয় বরং মেধাশাসিত।’

আলোচক কবি ওয়াহিদ জামান বলেন, ‘আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সহজ-সরল, কিন্তু গভীর। জীবনের প্রতিটি অনুভবকে ধারণ করার প্রতিশ্রুতি আছে তার কবিতায়।’ 

এ সময় কবি রমজান সরকার, কবি সাদমান সজীব, কবি শামস আরেফিন, কবি ও কথাসাহিত্যিক আকেল হায়দার, অনুবাদক মেজবাহ উদ্দিন, কবি-কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক আহমেদ বাসার, কবি জুননু রাইন, পরিবেশবিদ কবি শেখ আহমেদ ফরহাদ, কবি ও প্রবন্ধকার প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান, প্রফেসর ড. ডি এম, ফিরোজ শাহ, নাট্য নির্মাতা মিতুল খান, গবেষক হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি আহমেদ বাবু, কবি হাসিবুর রহমান জয়, মো. আরিফুল ইসলাম, কবি মুনযির সাদ, কবি ও ছড়াকার হুসাইন আলমগীর, কবি অঞ্জলী রাণী পূজা, কবি ও সাংবাদিক মাসুদ হাসান, কবি ও সম্পাদক বহ্নি কুসুম, কবি ও কথাসাহিত্যিক সাহিনা মিতা, কথাসাহিত্যিক ফরিদুল ইসলাম নির্জন, ড. সর্দার এ হায়দার, কবি রহিজ আলী সরদার, কবি বোরহান মাসুদ, কবি তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, কবি আহমেদ বাবুল, কবি ফরহাদুর রহমান, সোহাগ হাওলাদার, রাসেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।