• ই-পেপার

নওগাঁয় সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১২১

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১২১

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ১২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে রোগটিতে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৪১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ জন, ঢাকা বিভাগে ১০ জন, খুলনা বিভাগে ১২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭ জন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৬ জন রয়েছেন।

একই সময়ে ১০৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ হাজার ৮০০ জন।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭.৫ শতাংশ নারী। ডেঙ্গুতে এই বছর ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।

হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, মৌলভীবাজার ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৬৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হামে শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জন। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১০০৯ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ৯৪ হাজার ৭৬৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১১ হাজার ২৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৭১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত
সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

• বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ,

• স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা,

• স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা,

• ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান (কোয়ালিটি) নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করা,

• এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা,

• নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ এবং জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন বৃদ্ধি,

• গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা,

• ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ,

• ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা,

• ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে সম্প্রতি জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জনের আশা সংশ্লিষ্টদের।

ডেঙ্গু মোকাবেলায় চিকিৎসকদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

বাসস
ডেঙ্গু মোকাবেলায় চিকিৎসকদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু আক্রন্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব বিভাগ ও ডেঙ্গুপ্রবণ জেলার চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি চিকিৎসক যেন জাতীয় প্রোটোকল অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ট্রায়াজ (রোগীর গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ) এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেন।

দেশব্যাপী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) দ্বিতীয় ব্যাচ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন। দুই দফায় রাজধানীতে প্রায় ১৩৫ জন চিকিৎসককে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম)-এর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া বাসসকে বলেন, ইতোমধ্যে রাজধানীতে প্রায় ১৩৫ জন চিকিৎসককে দুই দফায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন সরকারি হাসপাতালের ৬৮ জন এবং দ্বিতীয় দিন বেসরকারি হাসপাতালের ৬৭ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

শিগগিরই ৮ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা ৮ বিভাগের প্রতিটি থেকে ৭০ জন করে প্রশিক্ষণ দেব। শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু হবে।

এ ছাড়াও ডেঙ্গুপ্রবণ জেলাগুলোতেও চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে জানিয়ে ইলিয়াস ভূঁইয়া বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন ৮ থেকে ১০টি জেলায় ৬০ থেকে ৭০ জন চিকিৎসককে প্রথম ধাপে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বাকী ডেঙ্গুপ্রবণ জেলাগুলোয় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গত ৭ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সেই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন দেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের একার দায়িত্ব নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে অংশ নিতে হবে।’

বিগত তিন বছর ডেঙ্গু আক্রন্তের হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু ৫৭৫ জন। আর ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ তৈরি রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এ ধরনের হাসপাতাল আরো করা হবে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসসকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনা মূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। সেই গাইডলাইন ধরে সারা দেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় (২২ জুন পর্যন্ত), এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৭৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৮৬, খুলনা বিভাগে ৫৫৮, রাজশাহী বিভাগে ১৭৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪০, রংপুর বিভাগে ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩০। ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি জুন মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

এ ছাড়াও এ বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন এবং জুনে (২২ জুন পর্যন্ত) ১ হাজার ৮৪২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।