• ই-পেপার

পারামাট্টা নদীতে বাবা-কন্যার মৃত্যু : পিতাকে ঘিরে হত্যা-আত্মহত্যার সন্দেহ

প্যারিসের ভিভাটেক ২০২৬ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রযুক্তি কাঠামো ভাঙার আহ্বান

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
প্যারিসের ভিভাটেক ২০২৬ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর প্রযুক্তি কাঠামো ভাঙার আহ্বান

বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ প্রদর্শনী ভিভাটেক ২০২৬-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপের অতি-নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জোরালোভাবে উঠে এসেছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চালু থাকা এ সম্মেলনে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জনকে এখন সময়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

ফ্রান্সের প্যারি এক্সপো পোর্ত দ্য ভার্সাইয়ে আয়োজিত চার দিনের এ আয়োজনে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার দর্শনার্থী, ১৪ হাজার স্টার্টআপ, চার হাজারের বেশি প্রদর্শক এবং ১৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

সম্মেলনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে উন্নত এআই মডেল, ডেটা সেন্টার ও চিপ প্রযুক্তিতে ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে এআই এখন কেবল প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্র নয় বরং অর্থনৈতিক শক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার কৌশলগত উপাদান। ফলে ইউরোপের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো, ডেটা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং এআই সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

এ প্রেক্ষাপটে ফরাসি স্টার্টআপ মিস্ত্রাল এআই আলোচনায় উঠে এসেছে। ওপেন সোর্স ভিত্তিক বৃহৎ ভাষা মডেল উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের সম্ভাব্য এআই সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতা অর্জনে সমন্বিত ইউরোপীয় কৌশলই হবে মূল চালিকাশক্তি।

এদিকে ভিভাটেকের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত জি-৭ (জি-সেভেন) শীর্ষ বৈঠকেও এআই প্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায়। সেখানে প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরো স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করার ওপর জোর দেন বিশ্বনেতারা।

ইউরোপীয় কমিশন এরই মধ্যে বৃহৎ পরিসরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে এআই গিগাফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর লক্ষ্য বিদেশিনির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপকে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ভিভাটেক–২০২৬ এখন কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মঞ্চ নয় বরং এটি ইউরোপের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অবস্থান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিল কাতার, না মানলে শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক
প্রবাসীদের জরুরি নির্দেশনা দিল কাতার, না মানলে শাস্তি
সংগৃহীত ছবি

কাতার প্রবাসী যেসব কর্মীর রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা বাতিল করা হয়েছে, তাদের এখন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে কাতার ত্যাগ না করলে গুনতে হবে আর্থিক জরিমানা। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমওআই) এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর গালফ নিউজ

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে কাতার বিমানবন্দর পাসপোর্ট বিভাগের ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি এই নতুন নিয়মের কথা জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ বলেন, ‘আগে রেসিডেন্স পারমিট বাতিলের পর দেশ ছাড়ার জন্য ৩০ দিন সময় পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে এই গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় কমিয়ে দুই সপ্তাহ (১৪ দিন) করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৪ দিন পার হওয়ার পরও যদি কেউ কাতারে অবস্থান করেন, তবে প্রতিদিনের জন্য ১০ কাতারি রিয়াল করে জরিমানা গুনতে হবে।’

এ ছাড়া কাতারে আসা দর্শনার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্টে থাকা ভিসা স্ট্যাম্পে কত দিন থাকার অনুমতি রয়েছে, তা যেন তারা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেন। কারণ, ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাতারে অবস্থান করলে প্রতিদিনের জন্য ২০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা করা হবে।’

ভ্রমণের আগে প্রবাসীদের ‘মেত্রাশ’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের আইনি স্ট্যাটাস বা বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। ট্রাফিক জরিমানা, অতিরিক্ত সময় থাকার কারণে কোনো জরিমানা বা অন্য কোনো বকেয়া পাওনা রয়েছে কি না, তা অ্যাপের মাধ্যমে আগেই দেখে নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভ্রমণ করার সময় বিমানবন্দরে জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে এবং দীর্ঘ লাইন এড়াতে যাত্রীদের ইলেকট্রনিক গেট বা ই-গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের আগমন ও প্রস্থান টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে। এ ছাড়া পুরোনো পাসপোর্ট থেকে নতুন পাসপোর্টে রেসিডেন্স পারমিট স্থানান্তরের কাজটিও প্রবাসীরা ‘মেত্রাশ’ অ্যাপের মাধ্যমেই করতে পারবেন।

কাতারে প্রবাসী দম্পতির সন্তান জন্ম নিলে দ্রুত পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা রিপোর্ট করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় রেসিডেন্সি নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ক্যাপ্টেন আল কুওয়ারি জানান, কাতারে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট বা কাগজপত্র নেওয়ার পর, বাবার স্পনসরশিপের অধীনে রেসিডেন্স পারমিট (আকামা) নিতে হবে। রেসিডেন্স পারমিট না থাকলে, কোনো নবজাতক কাতার থেকে বাইরে যাওয়ার পর পুনরায় দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবে না।

হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তাল পূর্ব লন্ডন, আ. লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য থেকে
হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তাল পূর্ব লন্ডন, আ. লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে কেন্দ্র করে পূর্ব লন্ডনে আওয়ামী লীগ ও এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দিনের বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ব্রিটিশ পুলিশ। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা আফছার খান সাদেকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে এলেম পার্ক স্টেশনের সামনে অবস্থিত রমফুডের সামনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের নেতৃত্বে হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে বিকেলে অনুষ্ঠানের বাইরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ভেতরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি হাতে একটি ডিম তুলে নিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের যেসব দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে রয়েছেন, তাদের উদ্দেশেই এই ডিম উৎসর্গ করলাম।’

তার এ মন্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে ছিল ব্রিটিশ পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

পূর্ব লন্ডনের এ ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

দুই দেশে দুই মানুষ : অস্ট্রেলিয়ার ভিসাজটে থমকে আছে পুনর্মিলন

শিপন আহমদ (সিডনি), অস্ট্রেলিয়া
দুই দেশে দুই মানুষ : অস্ট্রেলিয়ার ভিসাজটে থমকে আছে পুনর্মিলন

স্বামী অস্ট্রেলিয়ায়, স্ত্রী দেশে। কিংবা স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায়, স্বামী দেশে। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এভাবেই কাটছে লাখো প্রবাসী পরিবারের জীবন। অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার দীর্ঘসূত্রতা এখন আর শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি পরিণত হয়েছে হাজারো পরিবারের জীবনে এক গভীর মানবিক সংকটে। ভিসা প্রসেসিংয়ে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অভিবাসনসংখ্যা কম দেখাতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আবেদন আটকে রাখা হচ্ছে না।

রবিবার (১৪ জুন) স্কাই নিউজের ‘সানডে এজেন্ডা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টনি বার্ক বলেন, পার্টনার ভিসা আবেদনে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত বিলম্বের ঘটনা থাকলেও তা প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবলসংকটের কারণে হচ্ছে, সরকারের কোনো ইচ্ছাকৃত নীতির কারণে নয়। তিনি দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আটকে রাখা হচ্ছে না। প্রশাসনিক জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতাই এই বিলম্বের মূল কারণ।

সম্প্রতি স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পার্টনার ভিসার অপেক্ষমাণ আবেদন প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে আরো প্রায় ৬০ হাজার নতুন আবেদন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আবেদনের স্তূপ প্রতিবছর বেড়েই চলেছে এবং দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর।
এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন কমিয়ে দেখাতে ভিসা প্রসেসিংয়ের গতি ধীর করেছে। তবে সরকার এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন আইন ১৯৫৮ অনুযায়ী পার্টনার ভিসা ‘ডিমান্ড-ড্রিভেন’ শ্রেণির ভিসা হিসেবে বিবেচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের ভিসায় সাধারণ দক্ষ অভিবাসনের মতো নির্দিষ্ট কোটা আরোপের সুযোগ সীমিত। ফলে আবেদনকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তি করার প্রত্যাশা থাকে।

সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ড. আবুল রিজভি বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন প্রক্রিয়া ধীর করা হয়েছে, তাহলে তা আইনি প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালত সরকারকে মাইগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেনি।

সূত্র জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার মধ্যে অনশোর সাবক্লাস ৮২০/৮০১ এবং অফশোর সাবক্লাস ৩০৯/১০০ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।আবেদনকারীরা সাধারণত প্রথমে অস্থায়ী ভিসা পান এবং নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক আবেদনকারীকেই ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী এই ভিসার মাধ্যমে দেশটির নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং যোগ্য নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা তাদের জীবনসঙ্গীকে অস্ট্রেলিয়ায় আনতে পারেন। এই পথ ধরেই বিশ্বের অনান্য দেশের নাগরিকদের মতো বহু বাংলাদেশি পরিবার পুনর্মিলনের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হতে হতে কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর।

দীর্ঘ এই প্রতীক্ষায় দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক অবসাদ, সম্পর্কে চাপ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা। অনেক পরিবারে সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত থমকে আছে শুধু ভিসার অপেক্ষা। একাধিক প্রবাসীর দাবি, দীর্ঘ ভিসা অপেক্ষা শুধু দম্পতিদের মধ্যেই মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে না, বরং সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে চাকরি, বিদেশ ভ্রমণ এবং ব্যাবসায়িক সিদ্ধান্তেও জটিলতায় পড়তে হচ্ছে অনেককে। ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আবেদনকারী অনেকের পুলিশ ছাড়পত্র ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে নতুন করে এসব নথি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ হচ্ছে মানসিক যন্ত্রণাও।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন আবেদনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আবেদন বৃদ্ধির তুলনায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে পারিবারিক পুনর্মিলন সংক্রান্ত ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতা আরো প্রকট হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা জানিয়েছেন, পার্টনার ভিসা শুধু একটি অভিবাসন প্রক্রিয়া নয়; এটি পরিবারকে এক ছাদের নিচে আনার স্বপ্ন এবং নতুন জীবন গড়ার প্রত্যাশা। তাদের দাবি, দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এই স্বপ্ন আটকে থাকায় হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই ভিসাজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।