• ই-পেপার

ভুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, আমির হামজা বললেন—‘মন থেকে’ জানিয়েছি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি : মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং সংসদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের (নওগাঁ-৬) টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২)-এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

প্রায় ৪৬ ঘণ্টা বাজেট আলোচনা, অংশ নিয়েছেন ২৯১ সংসদ সদস্য

বাসস
প্রায় ৪৬ ঘণ্টা বাজেট আলোচনা, অংশ নিয়েছেন ২৯১ সংসদ সদস্য

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সাধারণ আলোচনায় মোট ২৯১ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন। আর আলোচনা চলে মোট ৪৫ ঘণ্টা ৫১ মিনিট।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি দলের ২০০ জন সদস্য মোট ৩২ ঘণ্টা ৩ মিনিট বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলের ৯১ জন সদস্য মোট ১৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনা শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস করে।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সরকারি দলের ১৮ জন এবং বিরোধী দলের ৭ জনসহ মোট ২৫ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। এ আলোচনা ৩ ঘণ্টা ৩ মিনিট স্থায়ী হয়।

বাজেট ও সম্পূরক উভয় বাজেট আলোচনায় মোট ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। দুই আলোচনার মোট ব্যাপ্তি ছিল ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা

বাসস
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এবার বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজের আয়োজন করা হয়নি।’

প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে আরো ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু এই খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করত। তবে আগের সরকারের সময়ের বিপুল অঙ্কের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে, যা বর্তমান সরকারকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত প্রেসসচিব আরো বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আপ্যায়ন ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা। এ ছাড়া দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’

তিনি আরো জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে আসেন। তিনি শুরু থেকে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘অধিবেশনের বিরতির সময়ও প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং জরুরি বিভিন্ন ফাইলে সই করেন।’

পিছিয়ে গেল পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ, কমছে ভাতা

অনলাইন ডেস্ক
পিছিয়ে গেল পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ, কমছে ভাতা
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে নবম জাতীয় পে স্কেল। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট বা সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর কথা থাকলেও তা কিছুটা পেছাতে পারে। পে স্কেলের গেজেট প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে। এর আগে চলতি মাসেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছিল।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শেষে এই কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পে কমিশনের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি ভাতা সমন্বয় বা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বাড়িভাড়া ভাতা। বর্তমানে কর্মস্থল ও অঞ্চলভেদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে একই হারে বাড়িভাড়া ভাতা বহাল রাখলে সরকারি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এ জন্য বাড়িভাড়া ভাতার হার কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় এই ভাতার পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ অথবা সর্বোচ্চ একটি সীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের শিক্ষা সহায়ক ভাতাও পুনর্বিবেচনার আওতায় এসেছে। বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য যে শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়া হয়, সেটির ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ বা ভাতা কাঠামোয় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানিয়েছে, যাতায়াত ভাতা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা এবং অন্যান্য কিছু ভাতা সমন্বয়ের পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক বা কম ব্যবহৃত ভাতা বিলুপ্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।