• ই-পেপার

বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, জেলে গেছি পাঁচবার : স্পিকার

তুরাগ ও ফরিদপুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
তুরাগ ও ফরিদপুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এইচআরএসএস
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু এবং ঢাকার তুরাগ নদ থেকে তিন দিনে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। 

সোমবার (২৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেছেন, দুটি ঘটনাই জনমনে নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তির জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। ফলে হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’ এই কারণে ফরিদপুরের ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে তুরাগ নদ থেকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এইচআরএসএস বলেছে, এসব মৃত্যুর পেছনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, পরিকল্পিত হত্যা অথবা অন্য কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জড়িত রয়েছে কিনা, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে যথাসময়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যু, বিশেষ করে রাষ্ট্রের হেফাজতে মৃত্যু কিংবা রহস্যজনকভাবে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী দ্রুত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের দাবি রাখে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত যেন না থাকে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’ 

এইচআরএসএস সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, উভয় ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন আছে প্রয়োগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন আছে প্রয়োগ নেই
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশে পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’ প্রণয়ন করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নেই। ফলে প্রতিবছর লাখ লাখ টন ঝুঁকিপূর্ণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। অন্যদিকে শতকোটি টাকার মূল্যবান খনিজ ও বৈশ্বিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) লালমাটিয়ার এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা ‘ভয়েস’ আয়োজিত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় ভয়েসের একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার মাটিতে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৫৮৭ পিপিএম, যা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অত্যন্ত বেশি এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত। অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য পোড়ানোর কারণে দেশের মাটি ও বাতাসে ভারি ধাতুর বিষাক্ততা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশের ১৫টি ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশের নিজস্ব পণ্য ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত বা আমদানি করা পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিতকরণ মানদণ্ড যাচাই করে থাকে।

সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও টেলিভিশন সার্কিট বোর্ডে সোনা, রূপা, তামা ও কোবাল্টের মতো অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিরল ধাতু থাকে, যা সঠিকভাবে নিষ্কাশন করা গেলে দেশের শিল্প খাতে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এই মূল্যবান বর্জ্যগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিষ্কাশন না করার কারণে বিপুল সম্পদের অপচয় হচ্ছে।

ভয়েসের নির্বাহী প্রধান আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) আমিনুর রসূল বাবুল, উই সোসাইটি বাংলাদেশের আকতার উল আলম, ভয়েসের উপপরিচালক মুসাররাত মাহেরা ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল প্রমুখ।

নিমগাছ নিয়ে সোনামণিদের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
নিমগাছ নিয়ে সোনামণিদের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ কিভাবে সবুজ ছায়া দিচ্ছে, সেই ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা ছোট সোনামণিদের গল্প আকারে শোনালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সারা দেশে একযোগে ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি নিজেই একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে এই গল্প বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে একটি নিমগাছ রোপণ করলাম। এই নিমগাছ নিয়ে তোমাদের একটা সত্যিকারের ঘটনা বলি। তোমরা যারা ছোট বন্ধুরা আছো, তোমরা নিশ্চয়ই আরাফাতের ময়দানের নাম শুনেছ। এখন যদি তোমরা আরাফাতের ময়দানের ছবি দেখো, দেখবে সেখানে অনেক গাছ লাগানো আছে। সেই গাছগুলো কিন্তু সব নিমগাছ।

তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না। ১৯৭৮ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আরাফাতের ময়দান দেখে তৎকালীন সৌদি বাদশাহকে বলেছিলেন, এই মাঠটি এত ফাঁকা কেন? এখানে গাছ লাগালে হজ করতে আসা হাজি সাহেবরা গরমে গাছের নিচে সুন্দরভাবে বসতে পারতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন সৌদি বাদশাহ বলেছিলেন, মরুভূমিতে তো কোনো গাছ হবে না, আমরা কী গাছ লাগাব? এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে বের করলেন যে সেখানে নিমগাছ বেঁচে থাকতে পারবে। পরে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ নিমগাছের চারা সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন।

সৌদি সরকার পরবর্তীতে সেই চারা থেকে কলম করে আজ আরাফাতের ময়দানে লাখ লাখ নিমগাছ তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আরাফাতের ময়দানে গেলে যে গাছগুলো দেখা যায়, তার সবই বাংলাদেশের নিমগাছ। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সৌদি আরবের মানুষ কিন্তু ওগুলোকে নিমগাছ বলে ডাকে না। ওটা তাদের কাছে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।

দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী

একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর মালিকানায় পুরনো মালিকদের ফেরত আসার সুযোগ রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এ যুক্ত করা ১৮(ক) ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।

বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে সরকার এই ১৮(ক) ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে একীভূত হওয়া কোনো দুর্বল ব্যাংকের পূর্বতন মালিকরা পুনরায় মালিকানায় ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ পাবেন না।

ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও আমানতকারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট—যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’

এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিনেন্স' সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমানে পুনর্গঠিত সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ওপর সাবেক মালিকদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরে পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি হয়েছিল।