চট্টগ্রামের পটিয়ার শিক্ষা খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম পর্যায়ে মোট ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বড়লিয়া শাহ ছৈয়দ আব্দুছালাম আউলিয়া (রা:) দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ জুন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেস্ক-১) মো. মেহেদী ইকবাল স্বাক্ষরিত জারি করা স্মারকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজের অনুমোদিত তালিকায় এ তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ জুলাইের মধ্যে সরেজমিন জরিপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন ঊঊউ জচগঝ এ আপলোড করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ভবনে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ সম্ভব, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করে ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। এরপর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এ বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট কাটিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বলছেন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান আরো উন্নত হবে।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেন, ‘শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। পটিয়ার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। মনসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত এই অর্থ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা পরিবেশের সুফল পাবে। আগামী দিনেও পটিয়ার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
মনসা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আলম ফারুকী বলেন, ‘নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ অনেক উন্নত হবে। এটি প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় অর্জন।’
রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন ভবনের প্রয়োজন ছিল। সরকারের এই বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।’
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মঈনুল আলম ছোটন বলেন, ‘পটিয়ার শিক্ষা খাতে উন্নয়নের যে অঙ্গীকার করেছিলেন এনামুল হক এমপি তার বাস্তব প্রতিফলন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অনুমোদন প্রদান করায় এমপির প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে পটিয়ার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে যাবে। শিক্ষার উন্নয়নেই সমৃদ্ধ পটিয়া গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে পটিয়া।
স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের এ বিনিয়োগ শুধু ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপেরও দাবি জানান। এসব বরাদ্দের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পটিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং শিক্ষার উন্নয়নেই সমৃদ্ধ পটিয়া গড়ার স্বপ্ন আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।




