কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।
বোর্ডসূত্রে জানা যায়, এবারের পরীক্ষা দিতে নিবন্ধন করেছিলেন এক লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৯৫ হাজার ৮৯ জন।
বোর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, এর মধ্যে ৫৭ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৭৬৫ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় ২০ হাজার ১৬৫ জন বেশি মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, বিভাগ ভিত্তিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৪৩ হাজার ৪৯৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ২৮ হাজার ৪৯৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৩ হাজার ৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
জেলা ভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী কুমিল্লা জেলায়। কুমিল্লার ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৩৩ হাজার ৬১২ জন। নোয়াখালী জেলায় ১৭ হাজার ৯০৫ জন, চাঁদপুরে ১৩ হাজার ৭৯৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ হাজার ৪৮ জন, লক্ষ্মীপুরে ৯ হাজার ৮০ জন এবং সবচেয়ে কম ফেনী জেলায় ৪২টি প্রতিষ্ঠানের ১১টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ৬৪৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিনসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে কুমিল্লা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ জানান, এবার কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুরসহ ৬ জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নকল ও অনিয়মমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনেই বোর্ড বদ্ধপরিকর। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক এবং ভিজিল্যান্স টিমও কঠোর নজরদারিতে থাকবে। কোথাও কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের দুর্বল অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী পরিবারকে সহায়তা করতে আয়- রোজগারে যোগ দিচ্ছে। এ কারণে নিবন্ধনের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারির জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বোর্ড থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে মোমবাতি, চার্জলাইট ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।




