• ই-পেপার

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বুড়িচংয়ে অনুপস্থিত ৬৯ পরীক্ষার্থী

ইবিতে বোর্ডের আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে স্বামীর সাক্ষাৎ, নিয়োগ পেলেন স্ত্রী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবিতে বোর্ডের আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে স্বামীর সাক্ষাৎ, নিয়োগ পেলেন স্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগে একই বিভাগের অধ্যাপকের স্ত্রীকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পাওয়া ফিরোজা নাজনীন বিভাগটির অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ফিরোজা প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য এবং ২য় ও ৩য় বর্ষে মানোন্নয়ন দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ছাত্রী থাকাকালীন দুইটি বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. জাহিদুল।

অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজা ১ম বর্ষে অকৃতকার্য হলেও ড. জাহিদুল পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হওয়ার পর ফলাফল বেড়ে যায়। এদিকে নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন বোর্ড বিশেষজ্ঞ সদস্যের সঙ্গেও ড. জাহিদুল সাক্ষাৎ করেন বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগ ও সিন্ডিকেট সভায় সদস্যের আপত্তির কারণে নিয়োগপত্র প্রদান স্থগিত রাখা হয়। একইসঙ্গে অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।

জানা যায়, আইসিটি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ফিরোজা নাজনীন। তিনি ১ম বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হয়ে রিটেক ও দুইটি কোর্সে মানোন্নয়ন দিয়ে ৩.৩৮ সিজিপিএ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। অথচ ১ম বর্ষে মানোন্নয়ন ছাড়া তার সিজিপিএ ছিলো ২.৯৩। ২য় বর্ষের একটি কের্সে মানোন্নয়নসহ ৩.৪২ সিজিপিএ পায়। পরে ড. জাহিদুল ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হলে তার রেজাল্টে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। ৩য় বর্ষে ১টি মানোন্নয়নসহ ৩.৬৪ ও ৪র্থ বর্ষে ৩.৮৪ সিজিপিএ দাড়ায়। তার মাস্টার্সে ফলাফল ছিল ৩.৬৪। মানোন্নয়ন পরীক্ষার দায়িত্বেও ড. জাহিদুল ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় একাডেমিক রেজাল্টে অনেক পিছিয়ে ছিলেন ফিরোজা নাজনীন। মাস্টার্সে তিনি নন থিসিস গ্রুপের ছাত্রী ছিলেন। অথচ আরেক প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। অনার্সে তার রেজাল্ট ৩.৯৫ এবং মাস্টার্সে থিসিসসহ ৩.৮৮। এছাড়া আরেক প্রার্থী চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু রুম্মান রিফাত অনার্সে ৩.৭৮ ও থিসিসসহ মাস্টার্সে ৩.৯১ রেজাল্ট করলেও তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এছাড়া নিয়োগ বোর্ডের আগের দিন ফিরোজার স্বামী ড. জাহিদুল বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফারহান আহমেদের সঙ্গে কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ারে সাক্ষাৎ করেন। একই স্থানে আইসিটি বিভাগের সভাপতি ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদও গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষজ্ঞ সদস্যের সঙ্গে আমি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি। ২ বছর আগে থেকেই তার সঙ্গে পরিচয়। নিয়োগের বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। ফিরোজা ছাত্রী থাকাকালে পরীক্ষা কমিটির সদস্য ছিলাম, তবে বিয়ের সময় কোনো কমিটিতে ছিলাম না এবং তার কোনো ক্লাসও নেইনি। পরীক্ষা কমিটিতে একাধিক সদস্য থাকেন, একজন শিক্ষক এককভাবে ফলাফল নির্ধারণ করেন না। বরং আমার সঙ্গে বিয়ের কারণে ফিরোজা থিসিস পায়নি এবং মাস্টার্সেও কম নম্বর পেয়েছেন।

অধ্যাপক চৌধুরী ফারহান আহমেদ বলেন, ‘ড. জাহিদুল ইসলাম ছাড়াও সেদিন আরো অনেক শিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। ড. জাহিদের সঙ্গে আমার ২০১৯ সাল থেকে পরিচয়। আমরা গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে একসঙ্গে ক্লাস নিয়েছি। দুজনই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি করেছি। তাই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াটা স্বাভাবিক নয় কি? তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তবে নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কথা হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘যে নিয়োগটির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে সেটি আমি যাচাই-বাছাই করে দেখব।’

ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক শিক্ষকদের শাস্তি দাবি ঢাবি সাদা দলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক শিক্ষকদের শাস্তি দাবি ঢাবি সাদা দলের
সংগৃহীত ছবি

গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ঢাবির সিনেটে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত হয়ে এ দাবি জানান। 

সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাবির কলা অনুষদের ডিন আবুল কালাম সরকার বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদের মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষক অনেক শিক্ষক এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফার্মেসি অনুষদের একজন শিক্ষক বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে সাদা দল নাকি ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী গণহত্যার মতো গণহত্যা করতে চেয়েছে। অথচ সাদা দল সব সময় শিক্ষকদের নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

আবুল কালাম বলেন, ‘গত ১৭ বছরে তাদের কার্যক্রমের জন্য কোনো শাস্তি ওই শিক্ষকদের পেতে হয়নি। এ জন্য তারা এমন ভিত্তিহীন দাবি তোলার সাহস পাচ্ছেন। আজ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সাদা দলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। এ ক্ষেত্রে নিরপরাধ শিক্ষকদের যেন কোনো হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়টিও আমরা সুস্পষ্ট করেছি। আমাদের স্পষ্ট দাবি, যেসব শিক্ষকের অপরাধ প্রমাণিত, কেবল তাদেরই শাস্তির সম্মুখীন করতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের পূর্বের কমিটিতে এমন কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন। যাদের কারণে ক্লাবের কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালনা করা যায়নি। এমনকি ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী ডিনারের আয়োজন পর্যন্ত করা যায়নি।

সাদা দলের এই নেতা বলেন, ‘আমরা দুই সপ্তাহের মধ্যে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখার কথা জানিয়েছি। এর মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে আমরা আরো কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবো।’

সাদা দলের দাবির বিষয়ে ঢাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা সাদা দলের দাবি শুনেছি। আমরা তাদের দাবির ব্যাপারে আন্তরিক। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করব।’

ছাতকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ৮০ জনের নামে মামলা

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া(কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ছাতকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ৮০ জনের নামে মামলা
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ও কৃষিজমি থেকে দিন-রাত চলছে বালু   উত্তোলন।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মরা চেলা নদীর বালু মহালসংলগ্ন ফকিরটিলা মৌজার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ও কৃষিজমি থেকে তিন রাতে বিপুল পরিমাণ বালু জোরপূর্বক উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির মালিক শাহীন মিয়া।

অভিযোগকারী শাহীন মিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পাথারীপুর গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে। বুধবার রাতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ছাতক নৌ-পুলিশের কাছেও পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফকিরটিলা মৌজার জে.এল. নং-৭১, খতিয়ান নং-৩৯৫৬ ও দাগ নং-১২৩-এর প্রায় ৬ একর পুকুর ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে শাহীন মিয়া ও তাঁর সহ-শরিকরা মৌরসি স্বত্বে ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই জমি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে গত ২৮ জুন রাত থেকে তারা পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে বালু উত্তোলন শুরু করে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন প্রতিদিন রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিপুলসংখ্যক লোক গভীর গর্ত খনন করে নৌকাযোগে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যায়। জমির মালিক ও স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তিন রাতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে জমিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শাহীন মিয়া বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সালিস চলাকালীন সময়েও অভিযুক্তরা বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। যাওয়ার সময় আইনগত ব্যবস্থা নিলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।’

এ ঘটনায় গনেশপুর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল কদ্দুছের ছেলে দুলু মিয়া, মঈন উদ্দিনের ছেলে আলাল হোসেন, মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে বাবুল মিয়া, মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে ইমন মিয়া, আনোয়ার পাশাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঢাবিতে বৃক্ষ শুমারি, ২৭৭ প্রজাতির গাছ আছে ১৭ হাজার ১৬১টি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবিতে বৃক্ষ শুমারি, ২৭৭ প্রজাতির গাছ আছে ১৭ হাজার ১৬১টি
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালিত সমন্বিত বৃক্ষ শুমারি-২০২৫-এর ফলাফলে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসে ৬২টি গোত্রের ২৭৭টি প্রজাতির মোট ১৭ হাজার ১৬১টি বৃক্ষ রয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির। আরবরিকালচার সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

শুমারি অনুযায়ী, প্রজাতির ভিত্তিতে ৫৮ শতাংশ দেশি এবং ৪২ শতাংশ বিদেশি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে, তবে বৃক্ষ সংখ্যার হিসেবে দেশি-বিদেশি বৃক্ষের অনুপাত যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৬ শতাংশ। সর্বাধিক আধিক্যসম্পন্ন ১৫টি প্রজাতির মধ্যে মেহগনি, দেবদারু, ম্যাকারথুরি পাম, রেইনট্রি ও সেগুনসহ পাঁচটি বিদেশি প্রজাতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষসমূহের মোট ভূ-উপরিভাগীয় জীবভর ৯ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং ভূ-নিম্নীয় জীবভর ২ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন, যার মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কার্বন মজুদ রয়েছে।

উপযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষসম্পদের মধ্যে ফলদ বৃক্ষ ২৫ শতাংশ, প্রাণিকূল সহায়ক বৃক্ষ ২২ শতাংশ, ঔষধি বৃক্ষ ২১ শতাংশ, কাঠ উৎপাদনকারী বৃক্ষ ২০ শতাংশ এবং শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ ১২ শতাংশ। স্বাস্থ্য মূল্যায়নে মোট ১ হাজার ৮১১টি বৃক্ষকে বিভিন্ন মাত্রার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এবং ২ হাজার ২১৩টি বৃক্ষকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বৃক্ষ শুমারির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদ সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সবুজায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তিনি পরিবেশবান্ধব ও দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ সম্প্রসারণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।