• ই-পেপার

খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডা, আর্জেন্টিনা সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

‘ধরা পড়ে’ সাইকেল ফেরত দিলেন জামায়াত নেতা

অনলাইন ডেস্ক
‘ধরা পড়ে’ সাইকেল ফেরত দিলেন জামায়াত নেতা

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের সাইকেল স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নাতনিকে দিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর  উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। পরে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঝিনাইদহ-৩) মতিয়ার রহমানের নির্দেশে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন ওই জামায়াত নেতা।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকার এসব অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সরকারি বরাদ্দে কেনা বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ার জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক মাদরাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দ করা বাইসাইকেল নিজে সই করে তুলে নিয়েছেন। সেই বাইসাইকেল তিনি নিজের নাতনিকে দিয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামের একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সাইমুনকে সেই সাইকেল না দিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোল পত্রে সই করে সাইকেলটি তুলে নেন। পরে সাইকেলটি নাতনির বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এদিকে এডিপির আওতায় বরাদ্দ করা বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন জামায়াত নেতার পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও নিজেদের স্বজনদের মাঝে বণ্টন করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাইকেলটি আমার এক প্রতিবেশী শিক্ষার্থীকে দিয়েছিলাম। ওই শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন না থাকায় আমি নিজেই স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছিলাম।’

যাকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মেজো ছেলে বেকার। আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার মেয়েকে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল বলেন, ‘এমন ঘটনার খবর পেয়েছি। যদি এ ধরনের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে তা দুঃখজনক। সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।’

মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল ও সাবেক জামায়াত নেতা শের আলী।

তিনি বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে। সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা বাইসাইকেল কৌশলে নিজের স্বজনকে দেওয়ার ঘটনা একজন দায়িত্বশীল মানুষের পক্ষে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’

কোটচাঁদপুর ইউএনও দীপা রানী সরকার বলেন, ‘সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে। এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাইসাইকেল ছাড়াও সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, সড়কের পাশে মিলল মরদেহ

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, সড়কের পাশে মিলল মরদেহ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যার পর তার মরদেহ ল্যাপ-তোশকে মুড়িয়ে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ইতিমধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম।

নিহত মো. মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্তান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করছিলেন। তিনি মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত থেকে মোতালেব হোসেন নিখোঁজ ছিলেন। পরে স্বজনরা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয়রা সড়কের পাশে ল্যাপ-তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এসআই রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি গরম পানির সেঁকা দেওয়ারও আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ফুলগাজীতে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশি মদ-ইয়াবাসহ আটক ১

ফেনী প্রতিনিধি
ফুলগাজীতে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশি মদ-ইয়াবাসহ আটক ১
সংগৃহীত ছবি

ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর কালিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৪ বোতল বিদেশি হুইস্কি ও ১১০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-৭, ফেনী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল ফুলগাজী আনন্দপুর কালিরহাট বাজারসংলগ্ন বিসমিল্লাহ এস.এস. গ্যালারির সামনে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।

আটক ব্যক্তির নাম মনির আহাম্মদ (৪৩)। তিনি ফুলগাজী উপজেলার উত্তর পৈথারা গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ আহাম্মদের ছেলে।

র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, ফুলগাজীর আনন্দপুর কালিরহাট বাজার এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি মাদকদ্রব্য নিয়ে অবস্থান করছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি সঙ্গে থাকা দুটি কার্টন ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

র‍্যাব জানায়, তার ফেলে যাওয়া দুটি কার্টন তল্লাশি করে ১৮০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার মোট ৯৪ বোতল বিদেশি হুইস্কি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মদের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৯২ লিটার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ হাজার টাকা।

এ ছাড়া, একটি কার্টনের ভেতর থেকে স্বচ্ছ পলিজিপারে রাখা ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ হাজার টাকা।

র‌্যাব আরো জানায়, উদ্ধার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেহেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে ৩ যুবকের কারাদণ্ড

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে মাদক সেবনের দায়ে ৩ যুবকের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের গাংনীতে মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে আটকের পর তিন যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  আনোয়ার হোসেন এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাগর আলী (২০), শিলন আলী (২৪) ও জাহিদ (১৯)।



স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাতে একজন যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় পায় এবং সঙ্গে থাকা দুই জন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে গাংনী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এতে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিস মের্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’