• ই-পেপার

রংপুরে

নুজসাত মৃত্যু মামলায় এক দিনের রিমান্ডে সাকিন, জামিন নাকচ

লোহাগড়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
লোহাগড়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পুকুরে ডুবে নুসরাত নামের সাড়ে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের হলদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  

নিহত শিশু নুসরাত (৩) উপজেলার নলদী ইউনিয়নের হলদা গ্রামের স্কুল শিক্ষক শহীদুল্লার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হলদা গ্রামের শহিদুল্লার মেয়ে নুসরাত সকালে বাড়িতে খেলা করছিল। পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সবার অজান্তে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে ডুবে যায়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির শুরু করলে এক পর্যায়ে পুকুর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু তালেব মোল্যা জানান, শিশুর এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়ে হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে এক মা ও তার তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে রায়পুর সাধারণ ছাত্রসমাজের ব্যানারে উপজেলা থানার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত সায়মা আক্তারের সহপাঠী ইশরাত জাহান মেঘলা, খাদিজা আক্তার প্রমি, স্থানীয় বাসিন্দা আল ইমরানসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, রায়পুরের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে পুরো দেশ স্তম্ভিত। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

নিহত সায়মার সহপাঠী ইশরাত জাহান মেঘলা বলেন, ‘আমরা আমাদের মেধাবী বন্ধু সায়মাকে হারিয়েছি। তার পরিবারের সদস্যরাও অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌর শহরের ধানহাট-নদীরপাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮) জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন।

রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্বের অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্বের অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে পাবনার যুবলীগ নেতা মো. সাদ্দাম শেখকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সাদ্দাম শেখ পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ভাটিকয়া গ্রামের নূরালী শেখের ছেলে। তিনি আমিনপুর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তির ডাক ৭১’ নামের একটি সংগঠনের আমিনপুর থানা শাখার সভাপতি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ জানায়, সাদ্দাম শেখ আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় আত্মগোপনে থেকে রাজধানীসহ সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সাদ্দাম শেখ সম্প্রতি ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদনসহ রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এলাকায় সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনুদানের তালিকায় দুই জায়গায় এমপির মেয়ের নাম, পিএস বরখাস্ত

নড়াইল সংবাদদাতা
অনুদানের তালিকায় দুই জায়গায় এমপির মেয়ের নাম, পিএস বরখাস্ত

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম থাকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মাঝে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে আতাউর রহমানের সই এক বিজ্ঞপ্তিতে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদেশটি ২৬ জুন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অনুদান প্রণয়ন করা হয়। অনুদানের তালিকায় দুই জায়গায় সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম রয়েছে। এমন একটি তালিকা শুক্রবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জারি করা অনুদান মঞ্জুরিপত্রে উপকারভোগীদের তালিকায় ‘ফাইজা’ নামটি দুই জায়গায় রয়েছে। এক জায়গা বাবার নামের স্থানে মো. আতাউর, অন্য এক স্থানে মো. বাচ্চু নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের হিসাব শাখা থেকে ১৪ জুন জারি করা চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, নড়াইল সদর উপজেলার অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তার মধ্যে সংসদ সদস্যের নিজ গ্রাম থেকে ৯ জনের নাম এবং তার শশুরবাড়ির ইউনিয়ন লাহুড়িয়া থেকে ৭ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। দুই জায়গায় পৃথকভাবে তার জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, বিগত সময়ে ঐচ্ছিক তহবিলে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এ বছর ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। হঠাৎ করে ঐচ্ছিক তহবিলের বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আমাকে জানালেন, আজই তালিকা জমা দিতে হবে। আমি তখন বললাম তুমি সব ইউনিয়ন থেকে তালিকা নিয়ে নাও। আমার সই করা প্যাড সেখানে রাখা ছিল। সেই প্যাডে তিনি (পিএস) তালিকা প্রণয়ন করে। তালিকায় আমার চেনা-জানা জায়গাগুলো দিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জানার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বললাম, এ টাকা এসেছে কিনা। তিনি বললেন, টাকা এসেছে। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বললাম, তালিকায় যে নাম এসেছে, সেই নামে তো দিতে পারব না। দিতে হবে ভিন্নভাবে। আমি তো এমন না, আমার সন্তানের নামে টাকা নিতে হবে। আমি নতুন তালিকা প্রনয়ণ করেছি, সেই তালিকা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে।