• ই-পেপার

তুরাগ নদে মরদেহ উদ্ধার নিয়ে ছড়ানো তথ্য ভুয়া : ডিএমপি

প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় গেল বাংলাদেশের ১০ হাজার হ্যাচিং ডিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় গেল বাংলাদেশের ১০ হাজার হ্যাচিং ডিম
সংগৃহীত ছবি

প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় রপ্তানি হলো প্যারেন্ট হ্যাচিং এগস (ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদনের উপযোগী ডিম)। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোলট্রি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস লিমিটেডের মাধ্যমে ১০ হাজার ৪৪০টি হ্যাচিং ডিমের এই চালানটি পাঠানো হয়েছে। এর বাজারমূল্য ১৮ হাজার ৭২৯ মার্কিন ডলার।

রবিবার রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিসম্পদ খাতের পণ্য রপ্তানি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিক উন্নয়নের গতি বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি খাতকে রপ্তানিমুখী হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রাণিসম্পদ খাত আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো হ্যাচিং এগস রপ্তানি সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে দেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণেও নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা আন্তর্জাতিক মানের ও রপ্তানিমুখী পোলট্রি শিল্প গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছি। এ ধরনের রপ্তানি উদ্যোগ দেশের পোলট্রি শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকারের আমলে এটিই দেশের প্রথম হ্যাচিং এগস রপ্তানির চালান। এই সফল উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য সম্ভাবনাময় বাজারে বাংলাদেশের পোলট্রি পণ্য রপ্তানির পথ আরও সুগম হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. সাখাওয়াত হোসেন, উপপরিচালক ডা. শারমিন সামাদ, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের ইনচার্জ ডা. মোহাম্মদ ওমর ফারুক। এ ছাড়া কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জিশান হাসান ও কাজী জাহিন হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ফেলোশিপ পেলেন কালের কণ্ঠের ২ প্রতিবেদক

সরকারি সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের আহ্বান

সরকারি পরিষেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন।

রবিবার (২৮ জুন) পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সরকারি পরিষেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও অভিগম্যতা’ শীর্ষক সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মিলনে দেশের ১০ জেলার ৩৩টি স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব সংগঠন প্রান্তিক নারী, লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

এ ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক সাংবাদিকতা ফেলোশিপ সম্পন্ন করায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১৬ জন সাংবাদিককে সনদ ও স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও অধিকারভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।

ফেলোশিপ পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক নিশাত বিজয় ও অনির্বাণ বিশ্বাস, দৈনিক আগামীর সময়ের মেহেরিন আশফিয়া জাহান, দৈনিক কালবেলার মুক্তা মনোয়ারসহ জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের ১৬ জন সাংবাদিক।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের পার্টনারশিপ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি লিড নুজহাত জাবিন। স্বাগত বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। সঞ্চালনা করেন ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ’ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

এ সময় বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় আরো কার্যকর করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. তরিকুল আলম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র সম্পাদক মীর মনসুর জামান, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী কমিশনার মনোয়ারা আক্তার রিফাত, এশিয়া এমসিসি, ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রোগ্রাম অ্যান্ড পার্টনারশিপ লিড প্রিন্স সুমন বাড়ই, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী এবং আমরাই পারির প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও দাবি তুলে ধরেন। আদিবাসী ও প্রান্তিক নারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন দিপ্তী পাহান ও শেফালী বৈরাগী। লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের মানুষ ও দলিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন অনিন্দিতা আফরা বাবুনি ও সংকর সরকার।

আয়োজকরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ক্রিশ্চিয়ান এইড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এবং স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো যৌথভাবে ‘Expanding Civic Space through Active CSO Participation and Strengthened Governance System in Bangladesh (ECSAP)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের ভেতরে ‘বেকারি কারখানা’ পরিচালনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নষ্ট করে এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের ভেতরে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ, বেকারির ময়লা ও জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট দূষণ সাম্প্রতিক নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনার পেছনেও ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের গাফিলতি, সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবের কারণে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে কীভাবে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে বেকারি পরিচালনা ও বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার আড়ালে এমন বাণিজ্যিক মানসিকতা মেনে নেওয়া যায় না। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা খাতে কোনও ধরনের অব্যবস্থাপনা বা অবহেলা সরকার বরদাস্ত করবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, গত মে মাসে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চরম অবহেলার কারণে ছয়টি পরিবার সন্তান হারিয়েছে। হাইপারক্যাপনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতকদের চিকিৎসার সময় এসি বন্ধ ছিল, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপোর্ট ছিল না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদেরও পাওয়া যায়নি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পরদিন নিজে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এত বড় ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহত শিশুদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং হাসপাতালের ভেতরে বেকারি কারখানা, প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ এবং জলাবদ্ধ পরিবেশ বজায় রেখেছে। এসব থেকে নির্গত দূষণ হাসপাতালের পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং তা শিশু মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হাসপাতাল চত্বরে যেভাবে দাহ্য প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে সামান্য অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এসব অনিয়ম ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সরকারি তদারকিতে নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপকে ‘দলীয়করণ’ বা ‘মাথা কেটে ফেলা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের জীবন রক্ষায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দেশের সব হাসপাতালকে কঠোর শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে।

সংসদে বিরোধী দলের এক সদস্যের বক্তব্যের জবাবে পবিত্র কোরআনের সূরা নজমের আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ওহির ভিত্তিতেই কথা বলেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ ধরনের বক্তব্য চরম শিরকের শামিল এবং যারা এমন কথা বলেন, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলনই এবারের বাজেট। তিনি দাবি করেন, এই বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন অনুধাবনের সক্ষমতা সবার নেই।

অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ভ্যাট চালুর সময়ও বিরোধিতা হয়েছিল। কিন্তু এখন ভ্যাট ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায় না। বর্তমান রাজস্ব বাজেটের গুরুত্বও সময়ের সঙ্গে আরো স্পষ্ট হবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই : ত্রাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই : ত্রাণমন্ত্রী

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে একভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ছিল একটি স্বাধীন দেশ গঠনের জন্য, আর জুলাই মাসে যা হয়েছে তা ছিল একটি স্বৈরাচারবিরোধী স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন। দুটি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব ভিন্ন হলেও সব সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই যেন কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসংগতি তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদে তিনি একজন শহীদের সন্তান হিসেবে নিজের আবেগ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আমার নিজের বাবা শহীদ হয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছে এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত গিয়েছে। অথচ তাদের অনেকেরই আজও কোনো গেজেট নেই, ইতিহাসে তাদের নাম সেভাবে লেখা হয় না। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের তালিকা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনাকে মেলানো সমীচীন হবে না, কারণ দুটির লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা।’

তবে জুলাই আন্দোলনে নিজেরা ও তাদের দল সরাসরি যুক্ত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকেও পূর্ণ সম্মান করি।’

তিনি বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে রাজপথে নিহত ও আহতদের অবদানের কথা স্মরণ করে বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন। সম্প্রতি এক শোকার্ত মায়ের তার কাছে আসার স্মৃতিচারণা করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘১৭ বছরের লড়াইয়ে মিছিল করা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে ওই মায়ের সন্তান নিহত হয়েছে। জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা করা হলেও এই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের তালিকা কোথায়? তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে না পারলে তা হবে চরম এক বৈষম্য।’

তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১৭ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ও আহত হয়েছে, তাদেরও অবিলম্বে গেজেটভুক্ত করা হোক। এই বৈষম্যগুলো দূর করতে পারলেই একটি সঠিক, সুন্দর ও সাম্যের বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে।’