• ই-পেপার

গণপিটুনিতে নিহত অন্তরের মরদেহ নিতে স্বজনদের বাধ্য করে পুলিশ

মৌলভীবাজার

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এনসিপি নেতাকে অপহরণের অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এনসিপি নেতাকে অপহরণের অভিযোগ
মৌলভীবাজার এনসিপির মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন। সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলের এক নেতাকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে আইনগত সহায়তা চান তিনি।

শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে মৌলভীবাজার পুলিশ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন তাকে গলায় ছুরি ধরে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এসময় তাকে এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ালে মেরে গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।

তিনি আরো জানান, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ ও মতবিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব রুহুল আমিন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি এবং এনসিপির অন্যান্য কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে দাওয়াত প্রদান, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

কুলাউড়ায় কর্মসূচি চলাকালীন সময়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এ ছাড়া কুলাউড়ার কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর রোডে আরেক দফা এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের কোদালিপুর এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে এবং এতে দলের নিজস্ব নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ এবং অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

লালপুরে ইটভাটা ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে ইটভাটা ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুর উপজেলায় ব্রিকফিল্ডের ব্যবসায়ীর বাড়ি ঘণ্টাব্যাপী ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনগত ভোর ৪টার দিকে উপজেলার জোতদৈবকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের বাড়িতে ভোর প্রায় ৪টার দিকে হামলা চালানো হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ লালপুর গ্রামের সানাউল্লাহর ছেলে সাকলাইন। তার সঙ্গে লোকমানের ছেলে মোহনসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অংশ নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় নগদ ৩২ লাখ টাকা, প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মোট প্রায় ৫৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। হামলাকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হালিমের স্ত্রী মোছা. মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় সাকলাইন তাদের মেয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এসময় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হালিম বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাকলাইন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তার পরিবারের সদস্যরাও একই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে এলাকায় পরিচিত।

এ ঘটনার পেছনে পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল বলে স্থানীয়দের একটি অংশ জানিয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকলাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মায়ের পাশেই তিন মেয়ের শেষ ঠিকানা, সবার কাছে দোয়া চাইলেন ছেলে

অনলাইন ডেস্ক
মায়ের পাশেই তিন মেয়ের শেষ ঠিকানা, সবার কাছে দোয়া চাইলেন ছেলে
সংগৃহীত ছবি

একটি কবরের পাশে আরেকটি কবর—পাশাপাশি শুয়ে রইলেন এক মা ও তার তিন মেয়ে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শাহীনুর বেগম ও তার তিন কন্যাকে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো জনপদ।

নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)।

পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান জুনায়েদ ইসলাম সিফাত জানাজায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। নিহত অন্তর মজুমদার ছাড়াও যদি অন্য কোনো ঘাতক থেকে থাকে, তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তা‌র করতে হবে। সবাই আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।

নিহত শাহীনুরের মা হাজরা বেগম শোকাহত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে ও নাতনিদের যারা হত্যা করেছে, তাদের যেন ফাঁসি হয়। আল্লাহ তাদের বিচার করবেন।

শাহীনুরের শাশুড়িও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, আমার ছেলের বউ ও নাতনিদের কী দোষ ছিল। কেন তাদের হত্যা করা হলো।

এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো লটিয়া গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, শুক্রবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মা ও তার তিন মেয়েকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম, ইকরা ও শিফার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মাও মারা যান।

এ ঘটনায় এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে তার পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

শুক্রবার দুপুরে নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে নিহত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করেন।

এ ছাড়া ঘটনার দিন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে সাত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০ ঘরে সন্ধ্যা পেরোলেই জমে মাদকের আসর

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০ ঘরে সন্ধ্যা পেরোলেই জমে মাদকের আসর
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০টি ঘর যেন এখন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব পরিত্যক্ত ঘরে বসে ইয়াবা ও গাঁজার আসর। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও লেনদেন। মাদক কারবারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকোটের চর গুচ্ছগ্রামে মোট ১৬০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ঘরে পরিবার বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে ৬০টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবীরা এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে অনেকের যাতায়াত রয়েছে। এলাকাটি নদী-সংলগ্ন হওয়ায় নদীপথ ব্যবহার করে সহজেই মাদক আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি, ট্রলার বা স্পিডবোটের মাধ্যমে নদীপথে পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার দোহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদকদ্রব্য এই অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। এসব আসরে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করা হয়। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো এলাকায়। মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ডাকাতি, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি তাদের।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইচাহাক শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে ঢুকে মাদক সেবন করে। কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। ভয় ও নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ওই দিকটায় যেতে চায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা কুলছুম বেগম বলেন, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। ছেলে-মেয়েদের বাইরে যেতে দিই না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই মাদকের আসর বন্ধ করুক।

আকোটের চর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী জানান, গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও কয়েকবার বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, এ ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।