• ই-পেপার

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত কিশোরের ৭ দিন পর মৃত্যু

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনীর’ গোলাগুলি, নিহত ১

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনীর’ গোলাগুলি, নিহত ১
সংগৃহীত ছবি

খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনায় সওকত সরদার (৬০) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রবিউল ইসলাম (৫০) ও ইসরাফিল হোসেন (৩৫) নামের আরো দুইজন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ময়দাপাশা খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সওকত সরদার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

কোস্টগার্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শুক্রবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জরুরি চিকিৎসা শেষে তাঁদের পুনরায় কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রবিউল ইসলাম সুন্দরবনে সক্রিয় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান। তারা জানান, একসময় সুন্দরবনে ‘ইলিয়াস বাহিনী’ নামে একটি বনদস্যু চক্র সক্রিয় ছিল। ওই বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালে তাঁর বোনের স্বামী রবিউল ইসলাম নতুন করে দলটি গঠন করেন। এরপর থেকেই স্থানীয়দের কাছে এটি ‘দুলাভাই বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।

মহারাজপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সুন্দরবনের ভেতর থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রাতভর শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দের পাশাপাশি আগুনের শিখাও দেখা যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা রাতভর লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দেন।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সুন্দরবনের গহীনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় ডাকাত দলের সদস্যরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। রাতব্যাপী অভিযানে তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বনসংলগ্ন এলাকায় এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে তাঁদের মধ্যে সওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। অপর দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, কোস্টগার্ডের উদ্ধার করা তিনজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুজনকে পুলিশ পাহারায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

চাকরিতে পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে আশুলিয়ায় মানববন্ধন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
চাকরিতে পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে আশুলিয়ায় মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং ফ্যাশন ডটকম লিমিটেড কারখানায় নিহত শ্রমিক এনামুল হকের পরিবারকে ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার বগাবাড়ি এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যসহ শতাধিক শ্রমিক অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ঈগল টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানায় ন্যায্য দাবি-দাওয়া উত্থাপনের কারণে একাধিক শ্রমিককে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন চলছে। তারা অবিলম্বে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ, শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ছাড়া গত ২২ জুন আশুলিয়ার ফ্যাশন ডটকম লিমিটেড কারখানায় নিহত শ্রমিক এনামুল হকের পরিবারের জন্য ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন থেকে ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—নিহত শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রম আইন অনুযায়ী তাঁর পরিবারকে ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও দাফন-কাফনের ব্যয় বহন, অতিরিক্ত ওভারটাইম ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার নামে অমানবিক চাপ বন্ধ করে মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অসুস্থ শ্রমিকদের আইনগত ছুটি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা সুলতান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ঢাকা জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সাগর ইসলাম, বাংলাদেশ স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বকুল মিয়া, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনছুর আলীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

এ সময় বিভিন্ন কারখানার বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

দুই কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

যশোর অফিস
দুই কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক
সংগৃহীত ছবি

যশোরে দুই কোটি একুশ লাখ টাকা মূল্যের ১৩ পিস স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে ৪৯ বিজিবির সদস্যরা।

শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর রাতে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গদখালী বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। 

আটককৃত ব্যক্তির নাম সাহাব উদ্দিন সরদার। তার বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের বালুন্ডা গ্রামে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকার চোরাকারবারীদের নিকট হতে স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করে যশোর হয়ে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল।

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। আটককৃত ব্যক্তির কোমরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ১৩ পিস স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ১ কেজি ১৫৮ গ্রাম। যার বাজারমূল্য ২ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদক সেবনের অভিযোগে যশোরে ৪ যুবকের কারাদণ্ড

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
মাদক সেবনের অভিযোগে যশোরে ৪ যুবকের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে ইয়াবা সেবন করে জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে চার যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের হিদিয়া গ্রামের মৃত ফজলু গাজীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের শহিদ মোল্যার ছেলে রুবেল মোল্যা (৩২), আলী বিশ্বাসের ছেলে খলিল উল্লাহ (১৮) এবং চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের তুষার রায়ের ছেলে মানবেন্দ্র রায় (২৭)।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় জানান, শুক্রবার দুপুরে হিদিয়া ও চলিশিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে শফিকুল ইসলাম, রুবেল মোল্যা ও খলিল উল্লাহকে ১৫ দিনের এবং মানবেন্দ্র রায়কে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ‘ইয়াবা সেবনের পর জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।’