• ই-পেপার

পলাশী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে সেমিনার

নবীনগরে যুবলীগ নেতা ‘টাইগার সোহেল’ ফের গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নবীনগরে যুবলীগ নেতা ‘টাইগার সোহেল’ ফের গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি
মো. সোহেল মিয়া ওরফে টাইগার সোহেল। সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের আলোচিত যুবলীগ নেতা মো. সোহেল মিয়া ওরফে টাইগার সোহেলকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে জিনোদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে।

তার বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে যুবলীগ নেতা সোহেলের উত্থান হয়। সেসময় তিনি এমপির প্রভাবে জিনোদপুর বাজার কমিটির সভাপতিও নির্বাচিত হন।

এক পর্যায়ে তিনি এলাকায় মারামারি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার পর এলাকায় নিজেকে ‘টাইগার সোহেল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। এলাকায় তাকে মাদকের গডফাদারও বলা হয়।

আওয়ামী লীগ আমলে তিনি জিনোদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ‘সভাপতি’ প্রার্থী হওয়ারও ঘোষণা দেন।

এদিকে রাতে এলাকার একাধিক লোকজন মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, মাদকসহ নানা অপরাধের গডফাদার খ্যাত টাইগার সোহেল আবারও গ্রেপ্তার হওয়ায় গোটা এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, মো. সোহেল মিয়া ওরফে টাইগার সোহেল একজন যুবলীগ নেতা ও চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় হাসান মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সোহেল মিয়া।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পুলিশের অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৩৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য ও একটি হাইস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে এসআই মামুন হাসান ও সঙ্গীয় ফোর্স বারইয়ারহাট পৌরসভার মেহেদীনগর এলাকায় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় একটি হায়েস মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-ছ-১৩-৫১৬০) শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের সময় গাড়িটি আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা কৌশলে পালিয়ে যায়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৫০ পিস হরলিক্স, ১৪৪ পিস নবরত্ন তেল, ১ হাজার ৫১২ পিস কিটক্যাট চকলেট, ১ হাজার ৪০ পিস স্নিকার্স (ছোট-বড়) এবং ২ হাজার ৫২০ পিস ডেইরি মিল্ক চকলেট। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ১৫ হাজার ২১০ টাকা। 

এ ছাড়া চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত হায়েস মাইক্রোবাসটির আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্য প্রায় ৩৪ লাখ ১৫ হাজার ২১০ টাকা। জব্দকৃত গাড়ি ও মালামাল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। পলাতকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, চোরাচালান দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত ও মহাসড়ক ব্যবহার করে যারা অবৈধভাবে পণ্য পরিবহন করছে, তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

৬ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানি, ৫০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
৬ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানি, ৫০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার লাকসামে ৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) মো. মানিক মিয়া (৫০) নামে এক বৃদ্ধকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই বৃদ্ধ উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চন্দনা বড় বাড়ির মৃত আলী মিয়ার ছেলে। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই বৃদ্ধকে নিজ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।

লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাবুদ্দিন ওই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২১ জুন) বিকেলে বাকপ্রতিবন্ধী ওই শিশুটি বাড়ির পাশে অভিযুক্ত মো. মানিক মিয়ার দোকানের সামনে যায়। এসময় দোকানদার মানিক মিয়া শিশুটিকে ফুসলিয়ে দোকানের ভেতর নিয়ে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং শ্লীলতাহানি করে। ওই সময় বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটির মা আরেক বাড়ি থেকে ফেরার পথে ওই দোকানে শিশুটিকে কান্না করতে দেখেন। এসময় কি হয়েছে? দোকানদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি। একপর্যায়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটি কান্না করতে করতে ওই বৃদ্ধ দোকানদারকে দেখিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে তার মাকে শ্লীলতাহানির ঘটনাটি বুঝায়।

শিশুটির মায়ের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা বিষয়টি আপস-মিমাংসার লক্ষ্যে অভিযুক্ত দোকানদার মো. মানিক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দোকানদার পালিয়ে যান। পরে তিনি এই ঘটনায় বাদি হয়ে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানান, বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটির মা বাদি হয়ে তার ৬ বছরের মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি জানান, বুধবার (২৪ জুন) গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।

ওসির নাম ও ছবি ব্যবহার করে টাকা দাবির অভিযোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
ওসির নাম ও ছবি ব্যবহার করে টাকা দাবির অভিযোগ
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রতারক নিজেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই প্রতারক মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে থানায় অভিযোগ রয়েছে এমন কথা বলে ভীতি সৃষ্টি করে। তাকে অভিযোগ থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে এমন কথা বলে ওই প্রতারক মোটা অংকের টাকা দাবি করছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিঙ্গাপুর প্রবাসী নুরুল ইসলাম খান নামের এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে ওসির নাম ও ছবি ব্যবহার করা একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনকারী প্রতারক নিজেকে মির্জাপুর থানার ওসি পরিচয় দিয়ে নুরুল ইসলামের নামে অভিযোগ রয়েছে বলে জানায়। বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করলে নুরুল ইসলামের সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিক ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে নুরুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানান।

এর কয়েকদিন আগে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খানের কাছেও একই কৌশলে টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে দেশ-বিদেশে প্রতারণার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তবে মির্জাপুর উপজেলাসহ দেশ-বিদেশে বসবাসকারী সকলকে সচেতন থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ টাকা-পয়সা লেনদেন করতে বললে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর অনুরোধ জানান।