• ই-পেপার

সাভারে ফাঁড়ি থেকে হত্যা মামলার আসামির পলায়ন, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

৪ হাজার ডলার নিয়ে নিখোঁজ স্ত্রী, অভিযোগ চীনা স্বামীর

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
৪ হাজার ডলার নিয়ে নিখোঁজ স্ত্রী, অভিযোগ চীনা স্বামীর
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর এক নারীকে বিয়ে করার দুই মাসের মাথায় স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন চীনা নাগরিক আন হংওয়েই। তার দাবি, স্ত্রী প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে চলে গেছেন। স্ত্রীর খোঁজে তিনি কুড়িগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এসে থানায় অভিযোগও করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের খোঁজে ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে আসেন আন হংওয়েই। বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তিনি ফুলবাড়ী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলার এবং তার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে ঘটনাটি ঢাকার সাভার এলাকায় ঘটেছে বলে পুলিশ তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মপুর গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেন ও শাহেরা বেগমের মেয়ে মোর্শেদা বেগম (২২)। প্রায় ১০ বছর আগে একই এলাকার আব্দুল গহুরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে আট বছর বয়সী এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

পরে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় চীনা নাগরিক আন হংওয়েইর সঙ্গে মোর্শেদার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর চীনা স্বামীকে নিয়ে নিজ গ্রামে এলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আন হংওয়েইর অভিযোগ, বিয়ের পর কিছুদিন সংসার করার পর মোর্শেদা হঠাৎ তার কাছ থেকে অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মোর্শেদার প্রথম স্বামী আব্দুল গহুর দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার স্ত্রী তাকে ও তাদের সন্তানকে ছেড়ে চলে যান। পরে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে তার কাছ থেকেও কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে আসার কথা বলে সর্বশেষ ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। কিন্তু আর ফেরেনি। এখন আবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করছে।’

ঢাকায় অবস্থানরত মোর্শেদার এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চীনা নাগরিককে বিয়ের পরও মোর্শেদা তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন। পরে গত ১২ জুন পূর্বপরিচিত নাহিম মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। নাহিম গাইবান্ধা জেলার গিদারি এলাকার ফিরোজ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফেরদৌস ইসলাম বলেন, ‘প্রথম স্বামী ও সন্তানকে রেখে মোর্শেদা চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। এখন চীনা স্বামীও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করছেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।’

এ বিষয়ে মোর্শেদা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঘটনাটি ঢাকার সাভার এলাকায় ঘটেছে। তাই অভিযোগকারীকে সাভার থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাষাগত সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে ইশারার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।’

গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল সোমবার রাতে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন এজাহার নামীয় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের আশরাফ খন্দকার, পার্শ্ববর্তী শিমুল তাইড় গ্রামের রবিউল ইসলাম, বোনারপাড়া গ্রামের শাহ আলম।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, মুকুলের ছোট ভাই পলাশ, মোনারুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বেলা পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

ঘটনার পর একই রাতে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

ধর্ষণ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান

কুমিল্লা প্রতিনিধি
ধর্ষণ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ এই আদেশ দিয়েছেন। এর আগে গত রবিবার একই আদালত জিসানের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ জুন শিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওইদিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

একই দিন রাতে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। পরে পুলিশ জিসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৬ জুন বিকেলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে। পরে বিচারক তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর গত রবিবার (২১ জুন) দুপুরে তাকে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ আহমেদের আদালতে হাজির করে ৭ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ওই দিন বিকেলেই জিসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, ‘জিসানের দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন ডিবি পুলিশ। পরে আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।’

কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘রিমান্ড শেষে জিসানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালত তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে জিসান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেটি এখন বলা যাচ্ছে না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাক খাদে পড়ে শ্রমিক নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাক খাদে পড়ে শ্রমিক নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক খাদে পড়ে রাসেল মিয়া নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালক ও সহকারীসহ আরো চারজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কাজিরখলা গ্রামের টেনা মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চালক আবুল কালাম (৩৫), হেলপার জয়নাল (২২), শ্রমিক আমিনুল হক (২৫) এবং শফিকুল ইসলাম (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা থেকে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি চম্পকনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিল। মিলন বাজার এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় একটি রোলার অতিক্রম করার সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। আহতদের বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাসেল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।