• ই-পেপার

‘গৃহকর্মীকে কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা’, পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার

সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১
সংগৃহীত ছবি

সাভার-আশুলিয়ায় পৃথক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা এবং হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং আশুলিয়া থানা পুলিশ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের দিকনির্দেশনায় আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আশুলিয়ার জামগড়া ভূইয়াপাড়া, তাজপুর, কাইচাবাড়ি, ভাদাইল ইপিজেড মডেল টাউন, পূর্ব নরসিংহপুর, চারাবাগ এবং জামগড়া চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ১০ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৩০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আশুলিয়া থানায় পৃথক সাতটি মামলা দায়ের করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি কিংবা অপরাধীকে আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া থানা পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।’

এদিকে, সাভারে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোছা. বিউটি আক্তার (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর বেদেপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সিরাজ মিয়ার মেয়ে এবং শাহিনের স্ত্রী।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যপাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

অসুস্থ মাকে দেখতে ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফিরছিলেন প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন খান (৩৮)। তবে মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাও আর হয়নি। বাড়ি পৌঁছানোর আগেই দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের একটি পাবলিক টয়লেটে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি পাবলিক টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। 

নিহত ফরিদ উদ্দীন খান দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের খানপাড়ার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদের মা কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাকে দেখতে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে পাশের একটি পাবলিক টয়লেটে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাইরে না আসায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম জানান, ফরিদ উদ্দীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়িতে আসার পথে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের পাবলিক টয়লেটের ভেতরে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে সরকার

রুপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে সরকার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তিনি চান সারা বাংলাদেশের যেন উন্নয়ন হয়। 

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, কায়েতপাড়া ও নগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু। ‎একটি মহল এই সেতুর কাজটি বন্ধ করে রেখেছেন, যাতে করে রূপগঞ্জের উন্নয়ন না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, সেতু দুটি চালু হলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, সময়ের সঙ্গে ব্যয়ও কমবে। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে আমরা অল্প সময়ে আসতে পারব। জনগণ এই সেতু ব্যবহার করে ঢাকা থেকে সিলেট যাবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, বাশিরউদ্দিন বাচ্চু, অ্যাডভোকেট গোলজার হোসেনসহ আরো অনেকে।

রায়পুরায় আরো এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
রায়পুরায় আরো এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ থাকার দুদিন পর আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে। এখনো বুলবুল নামে আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল লতিফ নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। তিনি ছয় মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকেই আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে গোবিনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে তারা স্পিডবোটযোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। এ সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছে। ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিনের সমর্থক অনিক (২০) নিহত হন।

জানা গেছে,  সংঘর্ষের পর থেকেই আলাল মুন্সির সমর্থক বুলবুল, কাউছার মিয়া ও আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার একদিন পর বুধবার দুপুরে নরসিংদীর মাধবদীর জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার গোবিনাথপুর এলাকা থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় এখনো বুলবুল নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গোবিনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, অনিক হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।