• ই-পেপার

স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’

মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাবনাকে সংযুক্ত করার এক নিরলস অভিযাত্রা

ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান
মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাবনাকে সংযুক্ত করার এক নিরলস অভিযাত্রা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের করপোরেট জগৎ, প্রযুক্তি খাত, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গনে যেসব ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে চলেছেন, তাদের মধ্যে ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একাধারে করপোরেট কৌশলবিদ, এঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট, প্রযুক্তি নেতা, সমাজসেবক এবং দক্ষতা ও কর্সংস্থান কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পেশাগত সাফল্য, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের সমন্বয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল করপোরেট নেতাদের একজন হিসেবে।

মেঘনার মাটি থেকে বিশ্বমঞ্চে
১৯৬৯ সালের ১ জুন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত ও মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পিতা মরহুম আবদুল কুদ্দুস এবং মাতা জোহরা খাতুনের স্নেহ, আদর্শ ও শিক্ষায় বেড়ে ওঠেন তিনি। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী, দায়িত্বশীল এবং নেতৃত্বপ্রবণ। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠলেও তার চিন্তা ও স্বপ্ন কখনো সীমাবদ্ধ ছিলো না। সমাজ, শিক্ষা ও মানুষের উন্নয়ন নিয়ে তার কৌতূহল এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীকালে তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের আসনে নিয়ে যায়।

শিক্ষা : জ্ঞান অর্জনের অবিরাম যাত্রা
ড. নুরুজ্জামানের শিক্ষা জীবন ছিল ধারাবাহিক সাফল্যে ভরপুর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব উপলব্ধি করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিষয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এখানেই থেমে থাকেনি। উচ্চতর গবেষণার লক্ষ্যে তিনি টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর সামাজিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সংযোগ কাঠামো। এ গবেষণা তার মানবিক দর্শন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ভাবনার প্রতিফলন।

করপোরেট নেতৃত্বের উজ্জ্বল অধ্যায়
পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই ড. নুরুজ্জামান করপোরেট ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়ে অর্জন করেছেন অসংখ্য সাফল্য।
বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল গ্রুপ সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের কৌশলগত নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি গ্রুপের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তার নেতৃত্বে ড্যাফোডিল গ্রুপ শিক্ষা, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল ব্যবসা খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

একজন দক্ষ সিইও হিসেবে তিনি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না; বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রদূত
বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় ড. নুরুজ্জামান একজন পরিচিত মুখ। তিনি বিশ্বাস করেন প্রযুক্তি কেবল একটি ব্যবসায়িক উপকরণ নয়; বরং সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশনস বোর্ড (ISTQB)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং টেস্ট ম্যাচিউরিটি মডেল ইন্টিগ্রেশন (TMMi) ফাউন্ডেশনেরও বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার নেতৃত্বে প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সফটওয়্যার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

স্টার্টআপ ও অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্টে নতুন দিগন্ত
ড. নুরুজ্জামান শুধু করপোরেট প্রশাসক নন; তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা সহায়ক এঞ্জেল ইনভেস্টর এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্টের মেন্টরও। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটানো প্রতিষ্ঠান ডকটাইম লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমাধান তৈরিতে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে সামনে আনতে চান না। বরং তিনি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে আগ্রহী, যেখানে নতুন উদ্যোক্তারা বেড়ে উঠতে পারেন। তাঁর কাছে সাফল্য মানে নিজের প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ নয়; বরং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেওয়ার মতো একটি পরিবেশ তৈরি করা।

বৈশ্বিক কর্মসংস্থান ও দক্ষ অভিবাসনের প্রবক্তা
বর্তমান বিশ্বে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে ড. নুরুজ্জামান আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সঠিক প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে তারা বিশ্ববাজারে আরও সফল হতে পারে। তার পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু তরুণ আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করছে এবং সরাসরি কর্মসংস্থান লাভ করছে।

বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে অভিজ্ঞতার আলো
ড. নুরুজ্জামান বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন। এসব সফরের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া প্রশাসনে সম্পৃক্ততা
তরুণ সমাজের উন্নয়নকে তিনি জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত মনে করেন। এ বিশ্বাস থেকেই তিনি গ্রামীণ শিক্ষা জীবন থেকে বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা এবং জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

সমাজসেবার মানবিক অধ্যায়
করপোরেট সাফল্যের পাশাপাশি সমাজসেবাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন। এ চিন্তা থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মেধালালন সার্কেল’। সংগঠনটি নিম্নআয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করছে, যা তাঁর পিএইচডি থিসিসের প্রায়োগিক আখ্যান। 

এ ছাড়া তিনি ‘আমরা মেঘনাবাসী’ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিজ জন্মভূমির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালে খাদ্য সহায়তা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো প্রশংসনীয়।

পারিবারিক জীবন
ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি পারিবারিক জীবনেও সমানভাবে দায়িত্বশীল। তার সহধর্মিণী ফারহা দিবা ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র শিক্ষক। তাদের একমাত্র পুত্র আবরার ফাইয়াজ বর্তমানে কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণপূর্বক চাকরি করছেন। পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা তার ব্যক্তিজীবনের অন্যতম ভিত্তি।

বাংলাদেশের এক বৈশ্বিক দূত
ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। করপোরেট সুশাসন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশে তার নিরলস প্রচেষ্টা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

আজ তিনি শুধু একজন সফল করপোরেট নির্বাহী নন; তিনি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার এক প্রতীক। তার জীবনগাথা নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণা, যেখানে কঠোর পরিশ্রম, সততা, দূরদর্শিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ এক সুতোয় গাঁথা। ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে—স্বপ্ন যদি বড় হয়, দৃষ্টিভঙ্গি যদি সুদূরপ্রসারী হয় এবং মানুষের কল্যাণ যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে একটি গ্রাম থেকে উঠে এসেও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল ডিসকভারি ডে-২০২৬

ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিকস ও ডিজিটাল হেলথকেয়ারের সর্বাধুনিক উদ্ভাবন উপস্থাপন

অনলাইন ডেস্ক
ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিকস ও ডিজিটাল হেলথকেয়ারের সর্বাধুনিক উদ্ভাবন উপস্থাপন
সংগৃহীত ছবি

মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড, অ্যাবট ডায়াগনস্টিকসের সহযোগিতায় সফলভাবে ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ, হাসপাতাল প্রশাসক এবং শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার অগ্রযাত্রা’।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মি. চন্দ্রেশ মাদানি (Chaandrish Madani), ডিস্ট্রিবিউটর অপারেশন ম্যানেজার, কোর ডায়াগনস্টিকস, অ্যাবট এবং মি. শামসুদ্দিন জিয়া, চিফ অপারেটিং অফিসার, মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড। তারা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল রূপান্তর, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মি. শামসুদ্দিন জিয়া বলেন, ‘ডিজিটাল রূপান্তর এবং ইন্টেলিজেন্ট ডায়াগনস্টিকসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা বৈশ্বিক উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন, জ্ঞান বিনিময় করতে পারবেন এবং এমন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারবেন যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার দক্ষতা, নির্ভুলতা এবং রোগী সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা প্রদান করেন:

• মি. সিহি পার্ক (Sehee Park), মার্কেটিং ম্যানেজার, DHS & Systems, Core Diagnostics, Abbott • মিস ক্রিস্টিন গোপালাকৃষ্ণন (Kristin Gopalakrishnan), ডিজিটাল হেলথ সল্যুশনস এক্সিকিউটিভ, Core Diagnostics, Abbott • প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এস. এম. মাহবুবুল আলম, এমবিবিএস, এমসিপিএস (ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি), এফসিপিএস (হিস্টোপ্যাথলজি), সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

বক্তারা ল্যাবরেটরি অটোমেশন, ডিজিটাল হেলথ সল্যুশনস, কানেক্টেড ডায়াগনস্টিকস এবং স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা ও রোগীর সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীরা ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি, ল্যাবরেটরি ইনফরমেটিক্স, ওয়ার্কফ্লো অপ্টিমাইজেশন এবং ডিজিটাল হেলথকেয়ার সল্যুশনসের সর্বশেষ উদ্ভাবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাজীবীদের জন্য জ্ঞান বিনিময়, মতবিনিময় এবং নেটওয়ার্কিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। আলোচনায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষতা বৃদ্ধি, মান নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীকরণ এবং উন্নত ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে মি. নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড, অনুষ্ঠানের সকল বক্তা, অংশগ্রহণকারী এবং সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ইন্টেলিজেন্ট ডায়াগনস্টিকস, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনের ওপর। ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে বাংলাদেশের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই, যাতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দক্ষ, নির্ভুল এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবা প্রদান করতে পারে।’

ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬-এর মাধ্যমে মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেড এবং অ্যাবট ডায়াগনস্টিকস উদ্ভাবননির্ভর, স্মার্ট ও সংযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিকাশে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অনলাইন জুয়া ও সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে বিকাশের মতবিনিময়সভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
অনলাইন জুয়া ও সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে বিকাশের মতবিনিময়সভা
সংগৃহীত ছবি

অনলাইন জুয়া, হুন্ডি এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে চারটি মতবিনিময়সভার আয়োজন করে বিকাশ। মাঠপর্যায়ে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত লেনদেন নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী, রিজিওনাল সেলস টিম ও ডিস্ট্রিবিউশন এর ফিল্ড ফোর্সসহ মাঠ পর্যায়ের প্রায় ১৬ হাজার কর্মীকে এই সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মতবিনিময় সভায়, এজেন্ট নেটওয়ার্ক পরিচালনায় আর্থিক লেনদেনে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ, টাকার উৎসের সচেতনতা, সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্টিং, নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ, কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ, নন-কমপ্লায়েন্ট এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিকাশ-এর হেড অফ ডিস্ট্রিবিউশন ও রিটেইল বিজনেস ইরফানুল হক। এসময় প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ক্লাসটার বিজনেস হেড, রিজিওনাল ম্যানেজার এবং এরিয়া ম্যানেজাররাও উপস্থিত ছিলেন।

দেশজুড়ে বিস্তৃত বিকাশ-এর এজেন্ট নেটওয়ার্ক সব শ্রেণির মানুষের কাছে সেবা সহজলভ্য করে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিকাশ-এর চ্যানেল পার্টনার হিসেবে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি এজেন্ট নিয়ে গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা কেবল এজেন্টদের ব্যবসা পরিচালনা তদারকিই নয়, বরং তাদের প্রশিক্ষণ, লেনদেনের সঠিকতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রাহক সেবার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত সহায়তা ও নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।

সভায় অংশগ্রহণকারী ডিস্ট্রিবিউটররা কীভাবে কমপ্লায়েন্স মেনে ব্যবসা করে ঝুঁকিমুক্ত থেকেছেন - সেসব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কমপ্লায়েন্স মেনে চলার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বিকাশ এর পক্ষ থেকে যেসকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তা ব্যবসার জন্য সুবিধাজনক বলেও উল্লেখ করেন তারা। এ সময় অনলাইন জুয়া, হুন্ডি এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো, যথাযথ সময়ে রিপোর্টিং এবং সকলের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে জোর দেয়া হয় বিকাশ-এর পক্ষ থেকে।

নবম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে স্বীকৃতি পেল ৮৯টি ক্যাম্পেইন

অনলাইন ডেস্ক
নবম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে স্বীকৃতি পেল ৮৯টি ক্যাম্পেইন
সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং অঙ্গনের সেরা ক্যাম্পেইনগুলোকে স্বীকৃতি জানিয়ে লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নবম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডের পালা। এই আসরে ২৬টি আলাদা ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয় মোট ৮৯টি ক্যাম্পেইন। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর পরিবেশনায় ও ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড পেশাজীবী, এজেন্সি নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ২৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চালু থাকা ক্যাম্পেইনগুলো মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হয়। এবার প্রতিযোগিতার উত্তাপ ছিল রেকর্ড পর্যায়ে—৬৬টি প্রতিষ্ঠান হতে জমা পড়ে ১,০৭২টি মনোনয়ন। সেরা ক্যাম্পেইন বাছাইয়ে অনুসরণ করা হয় সুনির্দিষ্টভাবে সাজানো দুই ধাপের জুরি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে শর্টলিস্টিং পর্বে ৮টি জুরি প্যানেলে ১১৩ জন বিশিষ্ট জুরি ক্যাম্পেইনগুলো যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন। এরপর শর্টলিস্ট হওয়া ক্যাম্পেইনগুলো ওঠে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ গ্র্যান্ড জুরি পর্বে, যেখানে ৮টি গ্র্যান্ড জুরি সেশনে ১১০ জন স্বনামধন্য ক্যাটাগরি বিশেষজ্ঞ চূড়ান্ত মূল্যায়ন করে বেছে নেন সেরাদের সেরা।

চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে ৬৩টি ক্যাম্পেইন ব্রোঞ্জ, ২০টি ক্যাম্পেইন সিলভার এবং ৬টি ক্যাম্পেইন গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। উৎকর্ষের সর্বোচ্চ মান অটুট রাখার প্রতিশ্রুতি থেকে এবার কোনো গ্র্যান্ড প্রিক্স দেওয়া হয়নি। জমকালো এই গালায় উপস্থিত ছিলেন ৫০০-রও বেশি ডিজিটাল মার্কেটিং ও ব্যবসায়িক পেশাজীবী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমাদের খাত কতদূর এগিয়েছে, আর কতদূর এগোনো সম্ভব। মার্কেটিং এখন আর কেবল গল্প বলা নয়; এটি এখন রিয়েল-টাইম এনগেজমেন্ট, হাইপার-পারসোনালাইজেশন আর তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়। আজ যাদের আমরা সম্মান জানাচ্ছি সেই ক্যাম্পেইনগুলোই প্রমাণ করে বাংলাদেশের মার্কেটাররা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। এই অ্যাওয়ার্ড শুধু উৎকর্ষের স্বীকৃতি নয়; এটি আমাদের সবার প্রতি এক চ্যালেঞ্জ — উদ্ভাবন চালিয়ে যাওয়ার, নতুন কিছু পরীক্ষা করার এবং বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সম্ভাবনাকে নতুন করে গড়ার।’

অ্যাওয়ার্ড পর্বের আগে একই ভেন্যু লা মেরিডিয়ান ঢাকায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ১২তম ডিজিটাল সামিট। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে এই সামিটে বক্তা ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে যোগ দেন দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, বিজ্ঞাপন ও ক্রিয়েটিভ পেশাজীবী, ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া ও মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিস্ট, এজেন্সি নির্বাহী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

‘রিথিংকিং ডিজিটাল – স্ট্র্যাটেজি, স্টোরি অ্যান্ড সায়েন্স' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের সামিটের আলোচনায় উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যাওয়া ভোক্তা প্রত্যাশা, প্লাটফর্ম ডিসরাপশন এবং সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সম্মিলনে প্রতিষ্ঠানগুলোর পথচলার নানা দিক। সামিটে ছিল ৩টি কিনোট সেশন, ৩টি প্যানেল ডিসকাশন, ৩টি ইনসাইট সেশন, ২টি কেস স্টাডি এবং ১টি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ।’

কিনোট সেশনে বক্তা হিসেবে ছিলেন তানভীর ফারুক, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, কাজী মিডিয়া লিমিটেড; দ্রাবির আলম, চিফ অপারেটিং অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর, এক্স - ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং এজেন্সি; এবং সালেহ ঘানায়েম, হেড মেটাপ (মিডল ইস্ট, টার্কি, আফ্রিকা অ্যান্ড পাকিস্তান), ইমার্জিং মার্কেট পার্টনারশিপ, টিকটক।

দিনব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে ভোক্তার পুরো যাত্রাপথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অ্যাটেনশন-ড্রিভেন মার্কেটিং থেকে ইন্টেলিজেন্স-ড্রিভেন এনগেজমেন্টে রূপান্তর, নতুন ডিসকভারি ইকোসিস্টেমের উত্থান, ক্রিয়েটর ইকোনমি এবং তথ্য, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব—যা দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের এই যুগে ব্র্যান্ডের প্রাসঙ্গিক থাকা ও ভোক্তার সঙ্গে আরও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ার পথ দেখায়।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড ও ১২তম ডিজিটাল সামিটের পরিবেশনায় ছিলো মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই); সঞ্চালনায় ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর; স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার – অ্যালেফ গ্রুপ, ইনক. বিবিএফ সিএমও ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএএবি) ও এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ); নলেজ পার্টনার - মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি); হসপিটালিটি পার্টনার – লা মেরিডিয়ান ঢাকা; অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার – টার্কিশ এয়ারলাইনস; এবং পিআর পার্টনার - ব্যাকপেজ পিআর।