• ই-পেপার

গ্যাস নেই, পড়ে আছে ২১ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ

কর আদায়ে শুধু এনবিআরকেই চাপ দেওয়া হয় কেন : হোসেন জিল্লুর

অনলাইন ডেস্ক
কর আদায়ে শুধু এনবিআরকেই চাপ দেওয়া হয় কেন : হোসেন জিল্লুর

এনবিআরের কর আদায় প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, কর আদায়ে শুধু এনবিআরকেই চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড় দেওয়া হয়। সম্প্রতি বাজেট ঘাটতি বিষয়ক এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেছেন, সার্বিক এনবিআরের রাজস্ব আহরণের কাজে একটা দুষ্ট চক্র কাজ করে। একদিকে আছে কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানি। আরেক দিকে আছে ফাঁকি। হয়রানি ও ফাঁকির দুষ্টচক্রকে যদি আমরা বের করতে পারি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সংস্কৃতির বদলের মাধ্যমে তাহলে ঘাটতিগুলোর ওভার টাইম কমবে। এটা রাতারাতি কমবে না। 

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাধি হলো অপচয়। শুধু অপ্রয়োজনীয় খরচ নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানও আমরা তৈরি করে বসে আছি, যা অপচয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সাম্প্রতিক একটা গবেষণা প্রতিবেদন বেরিয়েছে, সেখানে দেখা গেছে ১২২টির মতো রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩৭টি শুধু লাভজনক। এর মধ্যে ২২টায় কোনো কাজই হচ্ছে না অর্থাৎ অকার্যকর। 

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, যদি এসব অকার্যকর প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সেখান থেকে যে টাকা বাঁচবে, তা দিয়েও বাজেট ঘাটতি অনেকটা পূরণ করা সম্ভব। অপচয়ের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প একই মাপকাঠিতে দেখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণও বন্ধ করা দরকার। রাষ্ট্রীয় এসব অপচয় বন্ধ হলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে এবং বছর বছর ঘাটতি টানতে হবে না।
 

একটি ফ্ল্যাটে কতবার কর? প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে উদ্বেগ আবাসন খাতে

অনলাইন ডেস্ক
একটি ফ্ল্যাটে কতবার কর? প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে উদ্বেগ আবাসন খাতে
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে চলা মন্দার মধ্যে নতুন কর আরোপ, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয় দেশের আবাসন খাতকে আরো চাপে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আবাসন খাত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্পে কর্মরত প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্মাণসামগ্রীর ওপর করহার বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার বিপরীতে জমির মালিকদের ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা করের আওতায় আনার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, জমির মালিকদের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক চুক্তি অর্থের পাশাপাশি ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার ওপরও ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর দিতে হবে। এর আগে শুধু প্রাথমিক চুক্তি অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য ছিল।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তি যদি তার ৫ কাঠা জমি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেন, তাহলে প্রথমে প্রাপ্ত প্রাথমিক চুক্তি অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। পরে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বুঝে নেওয়ার সময়ও ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। একইভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট হস্তান্তর বা বিক্রির সময়ও ১৫ শতাংশ কর আরোপিত হবে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতাদের মতে, জমির মালিকদের ওপর নতুন এই কর আবাসন খাতে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ২৪টি ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্পে জমির মালিক যদি ১২টি ফ্ল্যাট পান এবং সেগুলোর মূল্য ১২ কোটি টাকা হয়, তাহলে তাকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দামের ওপর পড়বে।

শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান শেলটেকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিক্রি কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু চলতি মাসে আবার বিক্রি কমে গেছে। তাঁর মতে, জমির মালিকদের ওপর নতুন কর আরোপের ফলে আবাসন খাতের গতি আরো শ্লথ হবে, কমে যাবে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের হারও। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মো. শাহজাহান আরো বলেন, প্রতিবছরই নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে। এবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন করের কারণে ব্যয় আরো বাড়বে। একই সঙ্গে জমির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ফ্ল্যাটের মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরো কয়েকজন আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আবাসন খাতে মন্দা ভাব চলছে। এ সময়ে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যদের বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছিলেন তারা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তায় সেটি হয়নি। আবার কর আরোপের কারণে ব্যবসায়ে গতি ফেরাও কঠিন হবে। তার কারণ করের প্রভাবে খরচ বাড়বে। ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আবাসন বাজারে স্থবিরতা দেখা দেয়। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাজারে গতি ফেরেনি। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং দেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন কর আরোপের ফলে আবাসন খাতের বিদ্যমান সংকট আরো গভীর হতে পারে।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানাম করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার। দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (২৩ জুন ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো : ১৩৯ টাকা ৭০ পয়সা
পাউন্ড : ১৬২ টাকা ০৬ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৩৫ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৪ টাকা ৮৬ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৬ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৬৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ২৯ টাকা ৭৩ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৭৮ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ১৮ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫২ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলা বাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

দেশে সোনার পর রুপার দামেও বড় পতন, ভরিতে কমল কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে সোনার পর রুপার দামেও বড় পতন, ভরিতে কমল কত?
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে আরেক দফা কমানো হয়েছে রুপার দাম। এবার ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা।

বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে সবশেষ গত ১৯ জুন সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২৪ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

এদিকে, ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮০ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪০ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৯ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।