জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃতি ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রেখেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ‘কুরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের’ অভিযোগ তুললে এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপসহ দুই দলের সদস্যদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিতর্ক শেষ হয়।
আজ বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অস্বীকার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের পরিণতি শুভ হবে না। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে যেভাবে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তা ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল। তিনি দাবি করেন, আয়াতটির রাজনৈতিক প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা সঠিক হয়নি। কুরআনের আয়াত নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। তিনি কুরআন-হাদিস নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন বলে তার মনে হয় না। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে। কোনো ভুল ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুরআনের ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ তোলার ফলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। মাহফুজুল্লাহ একজন মাদ্রাসাশিক্ষিত ব্যক্তি। সৎ উদ্দেশ্যেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তা বৃদ্ধি পায়, আর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অর্থে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, আলোচিত আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে বিষয়টিকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাজেটের প্রশংসা না করলে আল্লাহর আজাব নেমে আসবে, এমন ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা উচিত নয়। বিষয়টি আলেমদের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।
এরপর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা মাইক ছাড়াই কথা বলা শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান স্পিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। কুরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হবে।
পরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন আলোচনায় অংশ নিয়ে আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সবাইকে সহিহ ও সঠিক ব্যাখ্যার ওপর আমল করতে হবে।
সবশেষে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিতর্কের অবসান টানার চেষ্টা করে বলেন, সংসদের সব সদস্যই আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী। অভিযুক্ত সদস্য নিজেও একজন আলেম। তাই কোনো ব্যঙ্গ বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি তিনি। তিনি আন্তরিকভাবেই কথাগুলো বলেছেন। বিষয়টিকে অযথা বিতর্কিত না করে সংসদের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য সকলের প্রকি আহ্বান জানান তিনি।





