• ই-পেপার

আইভীর বাড়ির সামনে কর্মীর ভিড়, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি

সংসদে আলোচনা করে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিত ছিল : এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সংসদে আলোচনা করে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিত ছিল : এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
সাভারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘সরকারের উচিত ছিল জাতীয় সংসদে আলোচনা করে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো। সংসদকে পাশ কাটিয়ে মধ্যরাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিনের বেলায়ও সিদ্ধান্ত নেয়নি। অথচ সরকার পক্ষ থেকে বলা আছে, সব বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদের মাধ্যমে সব বিষয় সমাধান করবে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা যুব বিভাগের উদ্যোগে সাভার সদর ইউনিয়নের চাপাইন নিউ মডেল স্কুল মাঠে বৃক্ষরোপণ ও গাছ বিতরণ কর্মসূচি পালন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন,  ‘প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি হয়েছে, দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা দেশে খুন, গুম, ধর্ষণ হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে।’

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আন্দোলনে নামবেন জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশে রাজনীতি করতে পারবে না, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, তারা গণহত্যাকারী দল।’

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ঢাকা জেলার সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলার আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, ঢাকা জেলা সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. শাহাদাত হোসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত সাভার পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হাসান মাহবুব মাস্টার, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান জীম, সাভার পৌরসভার নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. মনসুর আলী, সাভার থানার সেক্রেটারি মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত সাভার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহীম প্রমুখ। 

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

চাঁদপুর প্রতিনিধি
বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়ে জিয়াউর রহমানকে হারিয়েছে, বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়াকে মরতে হয়েছে। এই বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এরাই কিন্তু আপনার বাবার খুনি, এরাই কিন্তু আপনার মায়ের খুনি, এরাই কিন্তু বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর খুনি, এরাই কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের অসংখ্য নেতাকর্মীর খুনি। এরা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে হত্যা করেছিল, শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেম-ওলামাকে হত্যা করেছিল, পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।’

এই অনুষ্ঠানে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শতাধিক নেতাকর্মী এনসিবিতে যোগদান করেন।

গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করা শক্তির উত্থান হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করা শক্তির উত্থান হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতিবিদদের হীন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। একই সঙ্গে একটা শক্তির উত্থান হচ্ছে, যে শক্তি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে রাজনীতিতে কিছুটা হলেও এথিক্স ও মূল্যবোধ ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখনকার রাজনীতি পুরোপুরিভাবে এক ভয়াবহ পরিণতিতে চলে গেছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র হরণ করা হয়। সমাজ, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ বংশধরদের কাছে রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে হীন ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অর্থাৎ রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। এটা কখনোই সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়। যারা এগুলো করছেন, তারা সচেতনভাবে করছেন। এদের মধ্যে অনেককে আমরা ব্যক্তিগতভাবে চিনি, তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যে ভাষা নিয়ে আসেন, সেটা রাজনীতির স্বাভাবিক ধারাকে ধ্বংস করবার জন্য যথেষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘এখন সময়টা অন্যরকম, সমাজটা অন্যরকম। এত বড় একটা আন্দোলন, অভ্যুত্থান, তারপরেও কিন্তু আমরা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এখন আবার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শুরু হয়েছে সেই প্রক্রিয়াটাকে ব্যাহত করার। আমার কাছে মনে হয়, গণতন্ত্র খুব বিপদে পড়েছে। এই যে চতুর্দিকে বিভিন্নভাবে একটা সুপরিকল্পিত, সচেতনভাবে একটা প্রচেষ্টা যে, সবকিছু ভেঙে ফেলা, অর্থহীন করে ফেলার চেষ্টা- এর মধ্য দিয়ে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু মহল নির্বাচনের আগে থেকেই এমনভাবে চক্রান্ত করছেন, যাতে গণতন্ত্র এখানে না থাকে। সৌভাগ্য আমাদের, আমরা একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে খুব দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে, সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে একটা শক্তির উত্থান হচ্ছে, যে শক্তি কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। যে শক্তি মানুষের অধিকারকে স্বাভাবিক নিয়মে, গণতান্ত্রিক উপায়ে রক্ষা করতে বিশ্বাস করে না। সুতরাং এই শক্তি যেন উঠে দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তির এক হওয়া উচিত।’

বিএনপি বিপ্লবী কোনো দল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক রকম চিন্তা করেন। প্রত্যেক মানুষের সেই অধিকার আছে। কিন্তু বিএনপির মূল যে চরিত্র, সেই চরিত্রটা ঠিক একটা উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। কেউ যদি বিএনপির কাছে বিপ্লব আশা করেন, তাহলে ভুল করবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যেতে চায়। সেখান থেকেই জনগণের কল্যাণের জন্য বিএনপি কাজ করে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন, পরিদর্শনে বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন, পরিদর্শনে বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সম্প্রতি সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. রফিকুল ইসলাম ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা ‘মৃত’ ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ‘ব্রেন-ডেড’ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও কর্নিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক অঙ্গ জীবিত দাতার কাছ থেকে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

দেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ এখনো সীমিত বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্যাডাভারিক কিডনি প্রতিস্থাপন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সেখানে একজন ব্রেন-ডেড রোগীর শরীর থেকে নেওয়া দুটি কিডনি দুজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এত দিনেও দেশে এটি নিয়মিত বা প্রতিষ্ঠিত প্রোগ্রাম হিসেবে গড়ে ওঠেনি।

দেশে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের অগ্রগতি ধীর হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেন এই ইউরোলজিস্ট। তিনি বলেন, ‘সামাজিক ও ধর্মীয় ভুল ধারণা, সচেতনতার অভাব, হাসপাতালের সীমিত অবকাঠামো, আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং জাতীয় স্তরে কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই কার্যক্রম গতি পাচ্ছে না।’

তবে ‘মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দেশের চিকিৎসা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নতুন আইনে কঠোর নৈতিক সুরক্ষা বজায় রেখে অঙ্গদানের প্রচলিত বাধাগুলো দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশে ‘ইমোশনাল ডোনার’ (আবেগীয় দাতা) এবং ‘জাতীয় সোয়াপ রেজিস্ট্রি’ চালু করা সম্ভব হলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।’

নতুন আইনি কাঠামো ও সফল প্রতিস্থাপনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাবে। এর ফলে শেষ পর্যায়ের অঙ্গ বিকলতায় ভোগা দেশের হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।