লস অ্যাঞ্জেলেসে রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথম ম্যাচে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচটির প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ছবি : রয়টার্স
‘সাদা পতাকা’ নিয়ে উদ্বেগ
ভুল বার্তা গেলে হুমকিতে পড়তে পারে বিনিয়োগ ও শ্রমবাজার
দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ
দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচটির প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল

আজকের খেলা

ব্রাজিল-জাপান (রাত ১১টা)
জার্মানি-প্যারাগুয়ে (রাত ২-৩০ মিনিট)
নেদারল্যান্ডস-মরক্কো (কাল সকাল ৭টা)
নক আউটের আনন্দে কঙ্গো
রোনালদোদের ড্র

৪৮ দলের বিশ্বকাপ! এতগুলো দল খেললে সেটি আবার বিশ্বকাপ হয় নাকি? প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে এমন তির্যক প্রশ্ন অনেক জায়গা থেকেই উঠেছে। কিন্তু যে কটি দল এই প্রশ্নকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে, ডিআর কঙ্গো তাদের অন্যতম। ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল দলটি। সেবার জায়ার নামে খেলা দলটি তিন ম্যাচই হেরে বাড়ির পথ ধরেছিল। তিন দেশের আয়োজনে এবারের বিশ্বকাপ ডিআর কঙ্গোর ৫২ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়েছে। সেই অপেক্ষা ঘোচানোর পরের পর্বটা হলো একদম রূপকথার গল্পের মতো। ‘কে’ গ্রুপে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা তৃতীয় স্থানধারী সেরা আট দলের একটি হিসেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ জায়গা করে নিয়েছে।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়টিও ইতিহাস হয়ে গেছে তাদের জন্য। এটাই যে বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়। অবশ্য ম্যাচের ১০ মিনিটেই এলদোর শোমুরোদভের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল উজবেকিস্তান। ১৭ মিনিটের সময় সেই গোল ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার নাথানায়েল এমবাকু ফেরত দিলেও ভিএআর রিভিউতে তা বাতিল হয়। গোলটি বিল্ড-আপের সময় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার এমবাকুর ফাউলের শিকার হন। এরপর একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, জয়হীন আরেকটি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের অপেক্ষায় ডিআর কঙ্গো। ভাবনা বদলান ইয়োয়েন ভিসা। বিরতির পর ৬৮ মিনিটের সময় পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরান এই ফরোয়ার্ড। এরপর ম্যাচের বাকি গল্পটা শুধুই ডিআর কঙ্গোর। সমতা ফিরিয়ে যেন আত্মবিশ্বাসে চড়ে বসেছিল দলটি। একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল উজবেকিস্তানের রক্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৮ মিনিটে ফিস্টন মায়েলে ও যোগ করা সময়ে ভিসার দ্বিতীয় গোলে বড় জয় নিয়েই পরের পর্বে খেলার উচ্ছ্বাসে মাতেন ডিআর কঙ্গোর খেলোয়াড়রা।
ডিআর কঙ্গোর এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল পর্তুগালকে রুখে দিয়ে। জমাট রক্ষণের সঙ্গে আক্রমণে ওঠার মুনশিয়ানা দেখিয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে বেশ প্রশংসাই কুড়িয়েছিল তারা। পরের ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য আরেকবার জানান দিয়েছে ডিআর কঙ্গো। সেরা ৩২-এর লড়াইয়ে অবশ্য তাদের আসল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সেখানে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। ‘কে’ গ্রুপ থেকে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে সেরা দুই দল হিসেবে পরের পর্বে খেলবে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল। একই সময় মায়ামিতে গোলশূন্য ড্র হয় দুই দলের ম্যাচটি। গ্রুপ সেরা হতে হলে জিততেই হতো পর্তুগালকে। উল্টো কলম্বিয়ার বিপক্ষে হতাশই করে তারা। তাদের সেরা তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও ছিলেন ম্লান এবং মলিন।
ম্যাচজুড়ে অবশ্য দাপট দেখিয়েছে কলম্বিয়া। শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তারা। লুইস দিয়াজের শট পোস্টে প্রতিহত হয়ে বল চলে আসে জন কর্দোবার কাছে। কিন্তু তাঁর হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৭ মিনিটে কর্দোবা পর্তুগিজ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে জোরালো শট নিলেও তা দারুণভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। ২২ মিনিটে কলম্বিয়ার আরো একটি নিশ্চিত সুযোগ পর্তুগালের ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস গোললাইন থেকে ফেরত পাঠান। ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। কর্নার থেকে ডেভিনসন সানচেজ দারুণ হেডে বল জালে জড়ালে উৎসবে মেতে ওঠে কলম্বিয়ান সমর্থকরা। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন। ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, সানচেজের পায়ের আঙুল পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল। ফলে গোলটি বাতিল হয়। ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দুই দলকে। গ্রুপ সেরা হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে পেয়েছে কলম্বিয়া। রানার্সআপ পর্তুগালকে লড়তে হবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
জামায়াত আমির
জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন; বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। এই কৃতিত্ব বাংলাদেশের যুবসমাজের।’
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘এই আন্দোলনের প্রধান নায়ক তারেক রহমান।’ তারেক রহমান এই বাজেট দিয়েছেন। কাজেই এত বড় বাজেট নিয়ে আপনারা যে চিন্তিত, আমি মনে করি, আপনাদের এত চিন্তার কোনো কারণ নেই। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে।”
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি আমার একটা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। হ্যাঁ, আমি বক্তব্য রেখেছি, কিন্তু সময়টা আপনি সঠিকভাবে বলেননি। এই সময়টা ছিল ২৪ সালের এপ্রিল মাস। আর পরিবর্তনটা হয়েছে ২৪ সালের আগস্টে। আগস্টের ৫ তারিখের পর আমার এই বক্তব্য। ওই সময় যাঁদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে, আমার মনে হয়, আমরা সবাই অন্তর থেকে তাঁদের সম্মান করি, ভালোবাসি। তাঁদের এই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, ‘ড. ইউনূস আমেরিকায় গিয়ে একজনকে মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমি তাঁর ওই কথার প্রতিবাদ করে বলেছি, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’
