

মায়েদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। জীবনে চলার পথে প্রতিটি মুহূর্তে সন্তানের সঙ্গী মায়ের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ। একজন নারীর মা হয়ে ওঠার যাত্রার শুরু কৈশোরে। বয়ঃসন্ধিকালের পুষ্টির ঘাটতির ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দেয় গর্ভধারণের পর, দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা। আগামী দিনের মায়েদের যত্ন তাই কিশোর বয়স থেকেই শুরু করতে হবে। একজন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, আমাদের সমাজে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলোতে অনেক সময় ছেলে আর মেয়ে শিশুর যত্নে বৈষম্য করা হয়। কিশোরীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয় না। অথচ এ সময় থেকেই আয়রনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হয় নারীদের; তা না হলে গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
মাতৃত্বের মাধ্যমে নারীর জীবনে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। শরীর, মন ও দৈনন্দিন জীবনে আসে ছোট-বড় পরিবর্তন। গর্ভধারণের পর থেকেই একজন মায়ের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভের শিশু ও মায়ের প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি, মানসিক প্রশান্তি এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তস্বল্পতার মতো অনেক জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে এই জটিল সমস্যাগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে মা ও শিশুকে অনেক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। গর্ভবতী নারীর জন্য সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, ঘুম ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা পরিবারের সবার দায়িত্ব।
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অনেক নারী ভোগেন পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশনে। মানসিক দুর্বলতা, চাপ ও বিষণ্নতায় ভোগেন তিনি। এই ক্রান্তিলগ্নে মায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, মানসিক সহযোগিতা দেওয়া এবং প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া পরিবারের সবার কর্তব্য।
একজন নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যবয়সে যখন নারীরা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার (মেনোপজ) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান, তখন তাঁদের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের তারতম্য ঘটে, যা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। হাড়ক্ষয়, খিটখিটে মেজাজ এবং ঘুমের ব্যাঘাত মেনোপজের অন্যতম উপসর্গ। এ সময়ও নারীদের প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন। সপ্তাহে দুই দিন লাল-হলুদ রঙিন শাক-সবজি খাওয়ার পাশাপাশি পান করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি। চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে হাড়ক্ষয় কিছুটা প্রতিরোধ হয়। নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে হাড়ক্ষয় ও অন্যান্য সমস্যাও লাঘব হবে। প্রতিদিন ভোরে ১৫-২০ মিনিট রোদে বসার অভ্যাস করা জরুরি, এতে মিটবে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি।
বৃদ্ধ মায়েরা একাকিত্বে ভোগেন। এটি তাঁদের মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে। তাই আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে উৎসাহিত করা উচিত, যাতে কোনোভাবেই একাকিত্ব তাঁদের গ্রাস না করে। মনে রাখতে হবে, মায়েরা তাঁদের পরিবারের শক্তি, ভালোবাসা ও ভরসার জোগানদাতা। তাঁদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ সুস্থ প্রজন্ম।
লেখক : প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
অধ্যাপক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ
ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

ঈদ উদযাপনে ঘরে ঘরে রান্না হয় হরেক রকমের মজাদার সব খাবার। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় সেমাই-মিষ্টান্নের পাশাপাশি চর্বিযুক্ত মাংসের পদ ও বিরিয়ানি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়-স্বজনের দাওয়াতের ধাক্কায় অনেকেরই ওজন কিছুটা বেড়ে গেছে, শরীর লাগছে ভারী। অতিরিক্ত খাওয়ার (ইরহমব ঊধঃরহম) ফলে শরীরে যে বাড়তি মেদ ও মেটাবলিজমের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা ঝরিয়ে স্বাভাবিক ওজনে ফেরা এখন জরুরি।
ক্র্যাশ ডায়েট নয়
ওজন কমাতে খাওয়াদাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন অনেকেই, এক বা দুই বেলা অনাহারে থাকতে (ভধংঃরহম) শুরু করেন কেউ কেউ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হুট করে এমন কঠিন ডায়েট বা না খেয়ে থাকা (ঈত্ধংয উরবঃ) উল্টো দেহের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়াকে (সবঃধনড়ষরংস) মন্থর করে দেয়। ফলে উল্টো ওজন কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরে আরো বেশি খাওয়ার প্রবণতা (ইরহমবরহম ঈুপষব) তৈরি হতে পারে, যার প্রভাবে ওজন না কমে উল্টো বেড়ে যেতে পারে। তাই না খেয়ে থাকার পরিবর্তে খাদ্যাভ্যাস বদলানো জরুরি। খাবারে রিফাইন্ড বা পরিশোধিত শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দিন। চিনি পরিহার করুন। সাদা চাল বা ময়দার পরিবর্তে লাল চালের ভাত, ওটস বা লাল আটার রুটির মতো ‘হাই-ফাইবার কার্বোহাইড্রেট’ বেছে নিন। উচ্চ আঁশযুক্ত এই খাবারগুলো দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
খাবার পরিকল্পনা
সুষম খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম অনুযায়ী, তিন বেলার আহারে বেশি পরিমাণে খেতে হবে উদ্ভিজ্জ ও চর্বিহীন প্রোটিন। প্রতি বেলার খাবারের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ হতে হবে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত শর্করা (লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস ইত্যাদি)। খাবারের বাকি ২৫ শতাংশ হতে হবে লিন প্রোটিন (যেমন—চর্বিহীন মাংস, মাছ বা ডিম) এবং বাকি ২৫ শতাংশ হবে শাক-সবজি বা সালাদ। এর পাশাপাশি মেনে চলতে হবে ‘৮০/২০ নিয়ম’। এর অর্থ, ভরপেট না খেয়ে পেটের ২০ শতাংশ খালি রেখে খাওয়া। এটি আপনার পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ কমাবে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতাও দূর করবে।
ঝেড়ে ফেলুন অতিরিক্ত সোডিয়াম
ঈদের গুরুপাক খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখে (ডধঃবৎ ডবরমযঃ)। এর ফলে দেহের ওজন সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। দেহে জমা অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে দিনে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা আবশ্যক। তবে যাঁদের কিডনি বা অন্যান্য রোগ আছে, তাঁরা অবশ্যই পানির পরিমাণ চিকিৎসকের কাছে জেনে নেবেন। মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে পানি। এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম বেরিয়ে যাবে এবং ওয়াটার ওয়েট কমবে। চিনিযুক্ত জুস বা কোমল পানীয় পুরোপুরি বর্জন করে লেবুর পানি, ডাবের পানি কিংবা আদা-জোয়ানের ভেষজ চা পান করতে পারেন।
শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম
ওজন কমাতে শুধু ডায়েটই যথেষ্ট নয়, শারীরিক কসরতও জরুরি। জিমে গিয়ে তীব্র ‘পানিশমেন্ট ওয়ার্কআউট’ না করে দৈনিক ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা বা মাঝারি শরীরচর্চা করুন। জিমে যেতে না চাইলে সাইক্লিং বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দৈনিক সাত-আট ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমানোর হরমোনগুলো সচল রাখে। ঘুমের অভাব হলে ‘ঘেরলিন’ (ক্ষুধা উদ্দীপক হরমোন) বৃদ্ধি পায় এবং ‘লেপটিন’ (তৃপ্তি কমানোর হরমোন) কমে যায়। এতে মিষ্টি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে; দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়ে পড়ে কঠিন।
ওজন না কমলে করণীয়
সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো পরিবর্তন না দেখেন, তাহলে অবহেলা না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিন। অনেক সময় থাইরয়েড কিংবা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো হরমোনাল জটিলতার কারণে শরীর মেদ ধরে রাখে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সঠিক চিকিৎসা জরুরি।
লেখক : কনসালট্যান্ট
হরমোন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ
অরোরা হাসপাতাল

শিশুদের মধ্যে গ্লকোমা বিরল এক রোগ। ১০ হাজারে একজন শিশুর ক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় বা জন্মের কিছু সময় পার হলে এই রোগ দেখা দিতে পারে। নবজাতকের চোখের সমস্যা শনাক্ত করা দুরূহ, তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এমনকি চিরতরে অন্ধও হয়ে যেতে পারে শিশু। তাই অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কেন হয় জন্মগত গ্লকোমা
চোখের অভ্যন্তরীণ তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত না হলে দেখা দেয় জন্মগত গ্লকোমা। এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো চোখের কোণের অস্বাভাবিক গঠন। চোখের কোণের আকৃতি স্বাভাবিক হলে চোখের ভেতরের তরল সহজেই বের হতে পারে। কিন্তু জন্মগত গ্লকোমা আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এই কোণ ঠিকভাবে গঠিত হয় না, ফলে তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না এবং চোখের চাপ বৃদ্ধি পায়।
বংশগত কারণে হয় এ রোগ। পিতা-মাতা যদি বংশগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে সন্তানও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কিছু জিনগত মিউটেশন জন্মগত গ্লকোমার সঙ্গে সম্পর্কিত।
উপসর্গ
শিশুর বয়স অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে জন্মগত গ্লকোমার লক্ষণ। সাধারণ কিছু উপসর্গের মধ্যে আছে—
♦ চোখের আকৃতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
পাওয়া : শিশু জন্মের পর বা কয়েক মাসের মধ্যে চোখ বড় হয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে পড়লে সেটি গ্লকোমার লক্ষণ।
♦ পানি ঝরা : কিছু সময় পর পর চোখে পানি ঝরে।
♦ আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা : কড়া আলোর দিকে তাকাতে অস্বস্তি বোধ করে শিশু, জ্বালা দেখা দিতে পারে।
♦ চোখ বেঁকে যাওয়া : চোখের আকৃতি বদলে যেতে পারে বা কোটরের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে চোখ।
নির্ণয়
গ্লকোমার উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে গ্লকোমার উপস্থিতি নির্ণয় করবেন চিকিৎসক। বয়স অনুসারে নির্ণয় পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, যেমন—
♦ চোখের চাপ পরিমাপ করা।
♦ কর্নিয়ার পরিধি পরিমাপ
♦ গোনিওস্কোপি
♦ আলট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য ইমেজিং টেস্ট
জন্মগত গ্লকোমার প্রকোপ দ্রুত বাড়ে, তাই চিকিৎসায় অল্প বিলম্ব হলেও স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসার সাফল্যের হার বাড়ে।
চিকিৎসা
জন্মগত গ্লকোমার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ। এর মধ্যে রয়েছে—
♦ শল্যচিকিৎসা : গোনিওটোমি করে চোখের কোণে ফুটো করে চোখের তরল নিষ্কাশন করা, ট্রাবেকুলেকটোমি করে চোখের ভেতরের অতিরিক্ত চাপ কমাতে তরল বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা, গ্লকোমা ড্রেনেজ ইমপ্লান্টের মাধ্যমে চোখে একটি ছোট ডিভাইস স্থাপন করে ভেতরের তরল বের করার ব্যবস্থা তৈরি ইত্যাদি।
♦ ওষুধ : শিশুর বয়স অনুযায়ী চোখে টপিক্যাল ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ওষুধ প্রয়োগ না করে সার্জারি করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
চিকিৎসা শেষে শিশুর চোখ নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
জটিলতা
জন্মগত গ্লকোমার চিকিৎসা সময়মতো না করলে যেসব জটিলতা তৈরি করতে পারে—
♦ স্থায়ী চোখের ক্ষতি ও অন্ধত্ব।
♦ চোখের আকৃতি বদলে যাওয়া বা ডিফর্মেশন।
♦ অন্যান্য চক্ষু সমস্যা, যেমন—চোখ বেঁকে যাওয়া বা কর্নিয়ার ক্ষতি।
যেহেতু জন্মগত গ্লকোমা বংশগতভাবে ছড়ায়, তাই গর্ভধারণের আগে পরিবারের ইতিহাস জানা গুরুত্বপূর্ণ। জিনেটিক কাউন্সেলিং করলে জন্মগত গ্লকোমার পাশাপাশি অন্যান্য বংশগত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও জন্মের পর শিশুর চোখের স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। মনে রাখা জরুরি, জন্মগত গ্লকোমা একটি গুরুতর রোগ হলেও এটি চিকিৎসাযোগ্য। দ্রুত নির্ণয় ও সার্জারি চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুকে অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করা যায়। অভিভাবক ও পরিবারের সচেতনতাই পারে শিশুকে এর থেকে রক্ষা করতে।
লেখক : কনসালট্যান্ট (চক্ষু)
দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল
সোবাহানবাগ, ঢাকা