

বর্ষা আসন্ন। এর মধ্যেই বেশ কয়েকবার বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে সারা দেশে ভারি বর্ষণ হয়েছে। বর্ষার আগমনের সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়বে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টির সময়সূচি বেশ অনিয়মিত। দীর্ঘ খরার পর আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি, হঠাৎ ভারি বর্ষণের মতো খামখেয়ালি আচরণ দেখা যাচ্ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন।
প্রকৃতিতে স্বস্তি নিয়ে এলেও বৃষ্টির প্রভাবে বাতাসে বিরাজ করে অতিরিক্ত আর্দ্রতা। এর প্রভাবে সৃষ্টি হয় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, এর সঙ্গে ধুলাবালি মিশে ফাঙ্গাস ও ভাইরাসের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়। এ সময় তাই শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের রোগ বেড়ে যায়। বিশেষ করে অ্যাজমা (হাঁপানি), সিওপিডি এবং অ্যালার্জিজনিত রোগীদের উপসর্গ বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় বেড়ে যেতে পারে। বৃষ্টিতে ভিজেও দেখা দিতে পারে নানা রোগ।
বৃষ্টিতে ভেজা পরিহার করুন
কাজের প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া বর্ষায় নৈমিত্তিক ঘটনা। আবার অনেকেই আছেন, যাঁরা বৃষ্টিবিলাস করতে ভালোবাসেন। বৃষ্টির ঠাণ্ডা পানিতে ভিজলে অ্যালার্জির উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে অনবরত হাঁচি ও সর্দি-ঠাণ্ডার সমস্যা। এসব উপসর্গ অবহেলা করলে সংক্রমণ বেড়ে গিয়ে ফুসফুসে প্রদাহ, ইনফেকশন, তীব্র কাশি-কফ কিংবা নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভেজা যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে। হুটহাট বৃষ্টিতে ভেজা এড়াতে বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের খোঁজ রাখুন। সব সময় সঙ্গে নিন ছাতা বা রেইনকোট। সম্ভব হলে বাড়তি এক সেট জামা-কাপড়ও রাখতে পারেন। সর্দি-হাঁচিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করবেন না। কাশির সঙ্গে হলুদ কফ উঠলে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। যাঁরা আগে থেকেই অ্যাজমা বা সিওপিডির মতো শ্বাসকষ্টের রোগী, তাঁরা অবশ্যই নিয়মিত ইনহেলার ও ওষুধ সেবন করবেন। উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বাসা-অফিস শুষ্ক রাখুন
বর্ষায় বাড়িঘর, বিছানাপত্র স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় এবং ছত্রাক বাসা বাঁধে। দীর্ঘস্থায়ী কাশির অন্যতম প্রধান কারণ এটি। তাই চারপাশ সব সময় পরিচ্ছন্ন ও শুকনা রাখার চেষ্টা করুন। তা না হলে ছত্রাকের প্রভাবে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের পাশপাশি ত্বকেও সংক্রমণ হতে পারে। ঘরকে ফাঙ্গাসমুক্ত রাখতে—
♦ ঘর শুকনা রাখুন : ঘর মোছার পর মেঝে দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন। দেয়াল বা ছাদে পানি চুইয়ে পড়ার সমস্যা থাকলে মেরামত করুন। ভেজা কাপড় ঘরের ভেতরে শুকাতে দেবেন না।
♦ আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন : বৃষ্টি না থাকলে দিনের কিছুটা সময় জানালা খুলে দিন, যাতে ঘরে আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। রান্নাঘর ও বাথরুমের মতো বদ্ধ ঘরে এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন।
♦ ছত্রাক পরিষ্কার : দেয়ালে কালো দাগ বা ফাঙ্গাস দেখা দিলে তা দ্রুত পরিষ্কার করুন। পুরনো ভেজা কার্পেট, বালিশ বা ম্যাট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বিছানা-বালিশ কড়া রোদে শুকিয়ে নিন।
♦ সূর্যের আলো ঢুকতে দিন : দিনের বেলা ঘরের জানালা-পর্দা সরিয়ে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ঢুকতে দিন। রোদ ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা ও জীবাণু কমাতে চমৎকার সাহায্য করে।
♦ এসি বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার : ঘরে এয়ারকন্ডিশনার থাকলে সেটির ড্রাই মোড ব্যবহার করুন। এতে ঘরের আর্দ্রতা কমবে। এসি না থাকলে ডিহিউমিডিফায়ার যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরনের যন্ত্রের দাম দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। যাঁদের বাসা-অফিস অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে, তাঁদের জন্য এমন যন্ত্র ব্যবহার করা জরুরি।
লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট
ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি বিভাগ
ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

ঈদ উদযাপনে ঘরে ঘরে রান্না হয় হরেক রকমের মজাদার সব খাবার। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় সেমাই-মিষ্টান্নের পাশাপাশি চর্বিযুক্ত মাংসের পদ ও বিরিয়ানি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়-স্বজনের দাওয়াতের ধাক্কায় অনেকেরই ওজন কিছুটা বেড়ে গেছে, শরীর লাগছে ভারী। অতিরিক্ত খাওয়ার (ইরহমব ঊধঃরহম) ফলে শরীরে যে বাড়তি মেদ ও মেটাবলিজমের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা ঝরিয়ে স্বাভাবিক ওজনে ফেরা এখন জরুরি।
ক্র্যাশ ডায়েট নয়
ওজন কমাতে খাওয়াদাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন অনেকেই, এক বা দুই বেলা অনাহারে থাকতে (ভধংঃরহম) শুরু করেন কেউ কেউ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হুট করে এমন কঠিন ডায়েট বা না খেয়ে থাকা (ঈত্ধংয উরবঃ) উল্টো দেহের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়াকে (সবঃধনড়ষরংস) মন্থর করে দেয়। ফলে উল্টো ওজন কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পরে আরো বেশি খাওয়ার প্রবণতা (ইরহমবরহম ঈুপষব) তৈরি হতে পারে, যার প্রভাবে ওজন না কমে উল্টো বেড়ে যেতে পারে। তাই না খেয়ে থাকার পরিবর্তে খাদ্যাভ্যাস বদলানো জরুরি। খাবারে রিফাইন্ড বা পরিশোধিত শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দিন। চিনি পরিহার করুন। সাদা চাল বা ময়দার পরিবর্তে লাল চালের ভাত, ওটস বা লাল আটার রুটির মতো ‘হাই-ফাইবার কার্বোহাইড্রেট’ বেছে নিন। উচ্চ আঁশযুক্ত এই খাবারগুলো দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
খাবার পরিকল্পনা
সুষম খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম অনুযায়ী, তিন বেলার আহারে বেশি পরিমাণে খেতে হবে উদ্ভিজ্জ ও চর্বিহীন প্রোটিন। প্রতি বেলার খাবারের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ হতে হবে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত শর্করা (লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস ইত্যাদি)। খাবারের বাকি ২৫ শতাংশ হতে হবে লিন প্রোটিন (যেমন—চর্বিহীন মাংস, মাছ বা ডিম) এবং বাকি ২৫ শতাংশ হবে শাক-সবজি বা সালাদ। এর পাশাপাশি মেনে চলতে হবে ‘৮০/২০ নিয়ম’। এর অর্থ, ভরপেট না খেয়ে পেটের ২০ শতাংশ খালি রেখে খাওয়া। এটি আপনার পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ কমাবে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতাও দূর করবে।
ঝেড়ে ফেলুন অতিরিক্ত সোডিয়াম
ঈদের গুরুপাক খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখে (ডধঃবৎ ডবরমযঃ)। এর ফলে দেহের ওজন সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। দেহে জমা অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে দিনে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা আবশ্যক। তবে যাঁদের কিডনি বা অন্যান্য রোগ আছে, তাঁরা অবশ্যই পানির পরিমাণ চিকিৎসকের কাছে জেনে নেবেন। মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে পানি। এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম বেরিয়ে যাবে এবং ওয়াটার ওয়েট কমবে। চিনিযুক্ত জুস বা কোমল পানীয় পুরোপুরি বর্জন করে লেবুর পানি, ডাবের পানি কিংবা আদা-জোয়ানের ভেষজ চা পান করতে পারেন।
শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম
ওজন কমাতে শুধু ডায়েটই যথেষ্ট নয়, শারীরিক কসরতও জরুরি। জিমে গিয়ে তীব্র ‘পানিশমেন্ট ওয়ার্কআউট’ না করে দৈনিক ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা বা মাঝারি শরীরচর্চা করুন। জিমে যেতে না চাইলে সাইক্লিং বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দৈনিক সাত-আট ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমানোর হরমোনগুলো সচল রাখে। ঘুমের অভাব হলে ‘ঘেরলিন’ (ক্ষুধা উদ্দীপক হরমোন) বৃদ্ধি পায় এবং ‘লেপটিন’ (তৃপ্তি কমানোর হরমোন) কমে যায়। এতে মিষ্টি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে; দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়ে পড়ে কঠিন।
ওজন না কমলে করণীয়
সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো পরিবর্তন না দেখেন, তাহলে অবহেলা না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিন। অনেক সময় থাইরয়েড কিংবা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো হরমোনাল জটিলতার কারণে শরীর মেদ ধরে রাখে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সঠিক চিকিৎসা জরুরি।
লেখক : কনসালট্যান্ট
হরমোন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ
অরোরা হাসপাতাল

শিশুদের মধ্যে গ্লকোমা বিরল এক রোগ। ১০ হাজারে একজন শিশুর ক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় বা জন্মের কিছু সময় পার হলে এই রোগ দেখা দিতে পারে। নবজাতকের চোখের সমস্যা শনাক্ত করা দুরূহ, তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এমনকি চিরতরে অন্ধও হয়ে যেতে পারে শিশু। তাই অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কেন হয় জন্মগত গ্লকোমা
চোখের অভ্যন্তরীণ তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত না হলে দেখা দেয় জন্মগত গ্লকোমা। এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো চোখের কোণের অস্বাভাবিক গঠন। চোখের কোণের আকৃতি স্বাভাবিক হলে চোখের ভেতরের তরল সহজেই বের হতে পারে। কিন্তু জন্মগত গ্লকোমা আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এই কোণ ঠিকভাবে গঠিত হয় না, ফলে তরল সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না এবং চোখের চাপ বৃদ্ধি পায়।
বংশগত কারণে হয় এ রোগ। পিতা-মাতা যদি বংশগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে সন্তানও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কিছু জিনগত মিউটেশন জন্মগত গ্লকোমার সঙ্গে সম্পর্কিত।
উপসর্গ
শিশুর বয়স অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে জন্মগত গ্লকোমার লক্ষণ। সাধারণ কিছু উপসর্গের মধ্যে আছে—
♦ চোখের আকৃতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
পাওয়া : শিশু জন্মের পর বা কয়েক মাসের মধ্যে চোখ বড় হয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে পড়লে সেটি গ্লকোমার লক্ষণ।
♦ পানি ঝরা : কিছু সময় পর পর চোখে পানি ঝরে।
♦ আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা : কড়া আলোর দিকে তাকাতে অস্বস্তি বোধ করে শিশু, জ্বালা দেখা দিতে পারে।
♦ চোখ বেঁকে যাওয়া : চোখের আকৃতি বদলে যেতে পারে বা কোটরের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে চোখ।
নির্ণয়
গ্লকোমার উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে গ্লকোমার উপস্থিতি নির্ণয় করবেন চিকিৎসক। বয়স অনুসারে নির্ণয় পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, যেমন—
♦ চোখের চাপ পরিমাপ করা।
♦ কর্নিয়ার পরিধি পরিমাপ
♦ গোনিওস্কোপি
♦ আলট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য ইমেজিং টেস্ট
জন্মগত গ্লকোমার প্রকোপ দ্রুত বাড়ে, তাই চিকিৎসায় অল্প বিলম্ব হলেও স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসার সাফল্যের হার বাড়ে।
চিকিৎসা
জন্মগত গ্লকোমার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ। এর মধ্যে রয়েছে—
♦ শল্যচিকিৎসা : গোনিওটোমি করে চোখের কোণে ফুটো করে চোখের তরল নিষ্কাশন করা, ট্রাবেকুলেকটোমি করে চোখের ভেতরের অতিরিক্ত চাপ কমাতে তরল বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা, গ্লকোমা ড্রেনেজ ইমপ্লান্টের মাধ্যমে চোখে একটি ছোট ডিভাইস স্থাপন করে ভেতরের তরল বের করার ব্যবস্থা তৈরি ইত্যাদি।
♦ ওষুধ : শিশুর বয়স অনুযায়ী চোখে টপিক্যাল ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ওষুধ প্রয়োগ না করে সার্জারি করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
চিকিৎসা শেষে শিশুর চোখ নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
জটিলতা
জন্মগত গ্লকোমার চিকিৎসা সময়মতো না করলে যেসব জটিলতা তৈরি করতে পারে—
♦ স্থায়ী চোখের ক্ষতি ও অন্ধত্ব।
♦ চোখের আকৃতি বদলে যাওয়া বা ডিফর্মেশন।
♦ অন্যান্য চক্ষু সমস্যা, যেমন—চোখ বেঁকে যাওয়া বা কর্নিয়ার ক্ষতি।
যেহেতু জন্মগত গ্লকোমা বংশগতভাবে ছড়ায়, তাই গর্ভধারণের আগে পরিবারের ইতিহাস জানা গুরুত্বপূর্ণ। জিনেটিক কাউন্সেলিং করলে জন্মগত গ্লকোমার পাশাপাশি অন্যান্য বংশগত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও জন্মের পর শিশুর চোখের স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। মনে রাখা জরুরি, জন্মগত গ্লকোমা একটি গুরুতর রোগ হলেও এটি চিকিৎসাযোগ্য। দ্রুত নির্ণয় ও সার্জারি চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুকে অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করা যায়। অভিভাবক ও পরিবারের সচেতনতাই পারে শিশুকে এর থেকে রক্ষা করতে।
লেখক : কনসালট্যান্ট (চক্ষু)
দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল
সোবাহানবাগ, ঢাকা