• ই-পেপার

সমাজসেবা অধিদপ্তরে বিশাল নিয়োগ

  • ৫২ ধরনের পদে এক হাজার ৪৮৫ জন কর্মী নিয়োগ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস)। রাজস্ব খাতের স্থায়ী ও অস্থায়ী এই পদগুলো ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক জনবল নেওয়া হবে অফিস সহায়ক (৪৭৮টি), সমাজকর্মী—ইউনিয়ন (৩১২টি) ও কারিগরি প্রশিক্ষক—উপজেলা (১৫৭টি) পদে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৩ জুন ২০২৬

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ কর্মকর্তা

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ কর্মকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ৭২৫ জন অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ পরীক্ষা হবে সমন্বিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অধীনে। আবেদনের শেষ তারিখ ২ জুলাই ২০২৬। সবচেয়ে বেশি জনবল নেওয়া হবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে, ৪৭১ জন।

 

কোন ব্যাংকে কত পদ

রূপালী ব্যাংক—৮০টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক—১৬টি, বেসিক ব্যাংক—১৩টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক—৪৭১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—৪৭টি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন—২২টি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ—২টি, কর্মসংস্থান ব্যাংক—৭২টি এবং প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক—২টি।

 

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি

নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে হবে এমসিকিউ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বাংলা (২৫), ইংরেজি (২৫), সাধারণ গণিত (২০), সাধারণ জ্ঞান (২০) ও কম্পিউটার জ্ঞানের (১০) ওপর প্রশ্ন করা হয়। সব মিলিয়ে মান ১০০। নেগেটিভ মার্কিং থাকবে কি না সেটি পরীক্ষার শুরুতেই প্রশ্নপত্রে ভালো করে খেয়াল করে নিতে হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখতে পারেন। বাসায় মডেল টেস্টও দিতে পারেন বিগত পরীক্ষার প্রশ্নের আলোকে। বিগত পরীক্ষাগুলোতে বাংলায় ব্যাকরণ থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে এবং সাহিত্য থেকে তুলনামূলক কম প্রশ্ন এসেছে। বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ‘ভাষা শিক্ষা’ বইটি সহায়ক হবে। ইংরেজি বিষয়ে গ্রামার ও ভোকাবুলারি থেকে প্রশ্ন এলেও ইংরেজি সাহিত্য থেকে তেমন প্রশ্ন আসে না বললেই চলে। ইংরেজিতে প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলনের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লাইভ মডেল টেস্টে অংশ নিতে পারেন। গণিতে ভালো করতে হলে অবশ্যই পাটিগণিত টাইপের অঙ্কে বেশি জোর দিতে হবে এবং জিআরই/জিম্যাটের গণিত অংশ সহায়ক হতে পারে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে পত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটার ও প্রযুক্তি বিষয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিষয়ে বিশদ জ্ঞান রাখতে হবে।

 

বেতন

অফিসার (জেনারেল) পদটি দশম গ্রেডের। বেতন স্কেল—১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা। এর সঙ্গে থাকছে নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা।

 

আবেদনের যোগ্যতা

স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট/সমমান এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে ন্যূনতম একটিতে প্রথম বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে। কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদনের বয়সসীমা—১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী বয়স ২১ থেকে ৩২ বছর।

 

আবেদনের লিংক ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : https://erecruitment.bb.org.bd

 

♦ চাকরি আছে ডেস্ক

 

 

ভাইভা অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন আশরাফ রহমান। তিনি ৪৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন?
আশরাফ রহমান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে পড়াশোনা করেছি। ভাইভা হয়েছিল ৬ জানুয়ারি ২০২৬। ভাইভা বোর্ডে ছিলাম ১৫ মিনিটের মতো।

 

আমি : স্যার, আসতে পারি?

চেয়ারম্যান : আসুন, আসসালামু আলাইকুম (আমি সালাম দেওয়ার আগেই তিনজন স্যার আমাকে সালাম দেন। আমি সালামের উত্তর দিয়ে নিজেও সালাম দিয়েছি। এরপর স্যার আমাকে কাছে ডেকে হ্যান্ডশেক করেন। মানচিত্র দেখিয়ে প্রশ্ন শুরু করেন)। ভেনেজুয়েলা নামের একটি দেশ আছে। এই দেশ নিয়ে এত আলোচনা কেন?

—স্যার, সম্প্রতি মার্কিন স্পেশাল ফোর্স এবং গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ যৌথভাবে ভেনেজুয়েলায় অপারেশন চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে গিয়েছে।

চেয়ারম্যান : ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোয় আন্তর্জাতিক আইনের কি লঙ্ঘন হয়েছে? হলে সেটা কী?

—জি স্যার, জাতিসংঘ সনদের ধারা ২(১)-এ সভারিন ইকুয়ালিটির বিষয়ে উল্লেখ আছে। এই ধারার একটি দিক হলো কোনো দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ধারা ২(৪) অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোনো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র এই দুটি ধারাই লঙ্ঘন করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

চেয়ারম্যান : আপনার ক্যাডার পছন্দক্রম বলুন।

—স্যার, বিসিএস অ্যাডমিন, কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট... (সব কটি বললাম)।

চেয়ারম্যান : কাস্টমসে তো অনেক টাকা-পয়সা! হা হা হা... (এ কথায় বোর্ডের তিনজন স্যারই হাসলেন। আমিও হাসিমুখে বললাম, স্যার, টাকা তো বিজনেস করলেও আয় করা যাবে, কিন্তু পলিসি মেকিং আমার কাছে প্রাধান্য পেয়েছে।) Why administration is your first choice?

@Sir, Since my early age, I have wanted to work for grassroots people. Besides, I have prioritized my family’s decision as well as the facilities offered in the BCS Administration Cadre.

 

এক্সটার্নাল-১ : আপনি কি নার্ভাস?

—(মুচকি হেসে) জি স্যার, একটু নার্ভাস লাগছে!

এক্সটার্নাল-১ : ভয় পাওয়ার কিছু নেই! আমরা তো আপনাকে বকাঝকা করছি না! আচ্ছা, এই যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সিআইএ তুলে নিয়ে গেল বা হামলা চালাল, এর পেছনে কারণ কী?

—স্যার, আমেরিকার অভিযোগ দুটি—অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার। এই দুটি অজুহাত দেখিয়ে মূলত তারা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালিয়েছে।

এক্সটার্নাল-১ : আর কোনো কারণ নেই? আপনার কী মনে হয়?

—জি স্যার, আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম বা মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর। কারণ ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ভারী তেলের মজুদ আছে। রাশিয়া বা অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের খনিজ তেল হালকা। আর যুক্তরাষ্ট্রে ভারী তেলের চাহিদা বেশি।

এক্সটার্নাল-১ : এটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, আপনি কি একমত?

—জি স্যার।

এক্সটার্নাল-১ : ইরাকে যুদ্ধের সময় আপনার জন্ম হয়েছে? এ যুদ্ধের বিষয়ে আপনি জানেন?

—জি স্যার।

এক্সটার্নাল-১ : যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরাকে হামলা করেছিল?

—স্যার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থায়ন এবং রাসায়নিক অস্ত্র মজুদের কারণ দেখিয়ে।

এক্সটার্নাল-১ : হ্যাঁ, অস্ত্রের মজুদ। তারপর?
—স্যার, ইরাকে মার্কিন জোট বাহিনী ব্যাপক হামলা চালায়। ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে (সাদ্দাম হোসেন) আটক করে বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি দেওয়া হয়।

এক্সটার্নাল-১ : বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

—স্যার, পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমি প্রথমে বলব রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন...(স্যার থামিয়ে দিয়ে বললেন, পয়েন্ট আকারে না, বিস্তারিত বলুন।)

—স্যার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। কারণ বাংলাদেশের অনেক বন্ধু রাষ্ট্রের মায়ানমার স্পেশালি আরাকানে স্বার্থ রয়েছে। যেমন—চীনের তেল-গ্যাসের পাইপলাইন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ভারতের কালাদান প্রজেক্ট, রাশিয়ারও বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ গভীর। রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশনে বাংলাদেশ এই দেশগুলোর জোরালো সমর্থন পাচ্ছে না।

দ্বিতীয়ত স্যার, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন। পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যাসহ বর্তমানে পুশ ইনের মতো ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন ছড়ানোর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

এক্সটার্নাল-১ : আর নেই? আরো আছে তো। বড় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি...

—জি স্যার, বৃহৎ রাষ্ট্র যেমন—একদিকে চীন-রাশিয়া কিংবা ভারতের মন জোগানো, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।

এক্সটার্নাল-১ : ন্যামের নাম শুনেছেন? কী এটা?

—স্যার, নন-অ্যালাইনড মুভমেন্ট। শীতল যুদ্ধের শুরুতে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বড় শক্তির জোটে যুক্ত না হয়ে নিরপেক্ষ থাকা।

এক্সটার্নাল-১ : কোয়াডের সদস্যদের নাম বলুন।

—অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।

এক্সটার্নাল-১ : বাংলাদেশ কি আইপিএসে যোগ দিতে দিতে চায়?

—জি স্যার। বাংলাদেশ তার নিজস্ব ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক প্রকাশ করেছে।

এক্সটার্নাল-১ : এটা তো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। চীন বিষয়টি ভালোভাবে নেবে না। সে ক্ষেত্রে চীনকে আপনি কিভাবে হ্যান্ডল করবেন? চীনকে পাশে রাখা প্রয়োজন কেন?

—স্যার, চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে চীনের প্রভাব বাড়ছে। এ ছাড়া চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চীনা অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সামরিক শক্তিতে চীন বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী দেশ। আমাদের দেশের অস্ত্র আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে চীন থেকে...(এতটুকু শোনার পর চেয়ারম্যান স্যার বললেন, টাইম শেষ হয়ে যাচ্ছে।)

 

এক্সটার্নাল-২ : আপনি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন?

—স্যার, গণিত। 

এক্সটার্নাল-২ : পরিসংখ্যান পড়েছেন না?

—জি স্যার। আমাদের দুটি নন-মেজর পরিসংখ্যান কোর্স ছিল।

(এরপর স্যার স্ট্যাটিস্টিকস থেকে একটি ফর্মুলার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। আমি এটা পড়েছিলাম, কিন্তু মনে পড়ছিল না। তাই বলতে পারিনি। স্যার আমার নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, গুছিয়ে উত্তর দিয়েছি।)

 

চেয়ারম্যান : ওকে, আপনি আসতে পারেন। আপনার কাগজপত্র নিয়ে যান।

—ধন্যবাদ, স্যার। (সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসি।)

 

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

পিএসসির অধীনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা হবে ১৪ জুন ২০২৬

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। নবম গ্রেডের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (ইলেকট্রিক্যাল), সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা (দশম গ্রেড) এবং সামুদ্রিক মৎস্য শাখার পরিদর্শক (দশম গ্রেড) পদের লিখিত পরীক্ষা হবে ১৪ জুন ২০২৬। পরীক্ষা চলবে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পরীক্ষার কেন্দ্র—পিএসসির মাল্টিপারপাস হল ও শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পিএসসির ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) ও আবেদনসংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট

(http://bpsc.teletalk.com.bd) থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ডাউনলোড করা যাবে।

 

দরকারি তথ্য

♦ লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৪০, সাধারণ জ্ঞানে ৪০ এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বিষয়ে (ইলেকট্রিক্যাল/প্রাণিবিদ্যা) ৮০ নম্বর অর্থাৎ মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন উত্তরপত্র ব্যবহার করতে হবে।

♦ যেসব প্রার্থী সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও সামুদ্রিক মৎস্য শাখার পরিদর্শক—উভয় পদেই আবেদন করেছেন, তাঁরা যেকোনো একটি পদের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। পরীক্ষার দিন শুধু সেই পদের প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে।

♦ যেসব প্রতিবন্ধী প্রার্থী পরীক্ষার জন্য শ্রুতিলেখক চান, তাঁদের ৪ জুনের মধ্যে অফিস চলাকালীন পিএসসির ইউনিট-৮-এর পরিচালক বরাবর আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

♦ পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষার কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

♦ পরীক্ষাকেন্দ্রে বই, ব্যাগ, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা যাবে না। সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। তবে সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

 

♦ চাকরি আছে ডেস্ক

 

 

ভাইভা অভিজ্ঞতা

সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তার কী কী গুণ থাকা উচিত?

খুলনা মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করেছেন ডা. সৌমিত্র রায়। তিনি ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে অষ্টম হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তার কী কী গুণ থাকা উচিত?
ডা. সৌমিত্র রায়

আমার বিসিএস ক্যাডার পছন্দক্রমে প্রথমেই ছিল প্রশাসন। ভাইভা বোর্ডে ছিলাম ১০ মিনিটের মতো।
চেয়ারম্যান : আপনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন?

স্যার, খুলনা মেডিক্যাল কলেজে।

আপনিও ডাক্তার! আগের জন কি আপনার ব্যাচমেট?

জি স্যার।

আপনি কোথায় চাকরি করছেন?

একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্যাথলজির লেকচারার হিসেবে আছি।

৪৪ ও ৪৮তম বিসিএসে আপনার ফল কী ছিল?

স্যার, আমি ৪৪তম আর ৪৮তম দুটি বিসিএসেই স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। ৪৮তম বিসিএসে আপনার বোর্ডেই ভাইভা দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।

প্রথম পছন্দ কী?

স্যার, বিসিএস প্রশাসন।

(একটু হেসে) আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ক্যাডারে আসতে চাচ্ছেন নাকি?

স্যার, আপনারাই আমার অনুপ্রেরণা। আমি যখন থেকে বিসিএস দেব ঠিক করেছি, তখন থেকেই আমার অ্যাডমিন ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন। ৪৫তম বিসিএসে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে আপনার কী কী গুণ থাকা উচিত?

ধন্যবাদ, স্যার। একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে আমি মূলত পাঁচটি প্রধান গুণকে প্রাধান্য দেব—

​১. কার্যকর নেতৃত্ব : মাঠ পর্যায়ে একটি বড় টিমকে কার্যকর করতে এবং উৎসাহ জোগাতে সামনে থেকে দিকনির্দেশনা।

২. সততা ও নৈতিকতা : যেকোনো প্রলোভন বা চাপের মুখে নিজের নৈতিকতায় অবিচল থেকে সরকারি আমানত রক্ষা।

৩. জনসেবার মানসিকতা : নিজেকে জনগণের শাসক নয়, বরং সেবক মনে করা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল থাকার চেষ্টা।

৪. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা : জটিল বা জরুরি পরিস্থিতিতে আইন ও যুক্তির ভিত্তিতে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।

৫. পেশাদারি ও নিরপেক্ষতা : ব্যক্তিগত আবেগ বা পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্রীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন।

আপনি বললেন লিডারশিপের কথা। আপনি কি আপনার মেডিক্যাল লাইফে কোনো লিডারশিপে জড়িত ছিলেন? কোনো ক্লাবের সদস্য ছিলেন?

স্যার, আমি সন্ধানীর সক্রিয় সদস্য ছিলাম।

ব্লাড ডোনেট করেছেন?

জি স্যার, আমি ১০ বারের মতো ব্লাড ডোনেট করেছি।

গাজা (ফিলিস্তিন) শান্তিচুক্তিতে কয়টি দফা আছে?

স্যার, ২০টি।

কী কী গ্রিনহাউস গ্যাস আছে?

গ্রিনহাউস গ্যাস হলো বায়ুমণ্ডলের সেসব গ্যাস, যা পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ আটকে রেখে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। এর মধ্যে প্রধান হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, ওজোন এবং বিভিন্ন ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি)।

 

এক্সটার্নাল-১ : ধরুন, একজন কর্মকর্তা হিসেবে আপনি জানতে পারলেন অফিসের একজন ঘুষ খায় এবং একজন দেরি করে আসে। আপনি কী ব্যবস্থা নেবেন?

একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাকে নীতিগতভাবে কঠোর কিন্তু পদ্ধতিগতভাবে কৌশলী হতে হবে। আমি দুটি সমস্যাকে ভিন্নভাবে সমাধান করব—

​এক. ঘুষ বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে—দুর্নীতির বিষয়ে আমি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করব। যেহেতু এটি একটি গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ, তাই আমি সরাসরি অ্যাকশনে যাব। প্রথমে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ (যেমন—দালিলিক প্রমাণ বা ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য) সংগ্রহ করব। প্রমাণ পাওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। তাই এখানে আপস করব না।

​দুই. দেরিতে আসা মূলত শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা। এ ক্ষেত্রে আমার প্রথম পদক্ষেপ হবে কাউন্সেলিং। আমি তাকে ডেকে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলব, দেরিতে আসার কারণ জানার চেষ্টা করব। যদি কোনো যৌক্তিক পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে, তবে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছাড় দিয়ে মূলধারায় ফেরার সুযোগ দেব। তবে সতর্ক করার পরও যদি অভ্যাসের পরিবর্তন না হয়, তবে অফিসের হাজিরা খাতায় ‘লাল কালি’ দেওয়া বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো দাপ্তরিক পদক্ষেপ নেব।

 

এক্সটার্নাল-২ : Why Communication skill is important in cadre service?

In cadre service, communication skill is indispensable as it acts as the vital bridge between government policies and the general public. A cadre officer must possess the ability to simplify complex legal or administrative orders for citizens, ensuring transparency and building public trust. Furthermore, during crises or emergencies, precise and authoritative communication is essential for maintaining law and order and coordinating between various departments.

In which article of constitution duty of a civil service officer is written?

21.

Can you describe?

(আমি ২১ নম্বর অনুচ্ছেদটি ইংরেজিতে বললাম। এরপর স্যার আমাকে কাগজ নিয়ে চলে যেতে বললেন। ৪৮তম বিসিএসেও এই স্যারের বোর্ডে ভাইভা দিয়েছিলাম। স্যার খুব হাসিখুশি ও বন্ধুসুলভ। তিনি সাধারণত কম সময়েই ভাইভা শেষ করেন।)