• ই-পেপার

বসুন্ধরার এমন উদ্যোগ নারীদের স্বনির্ভর করবে

  • সুরাইয়া জেরিন রনি, জাতীয় সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত), বগুড়া-জয়পুরহাট

বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে

সাইফুল ইসলাম, সাবেক মেয়র, গাবতলী পৌরসভা ও বগুড়া জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক

বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলী উপজেলায় বসুন্ধরা গ্রুপের মানবিক কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানাই। পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অসহায় নারীদের বাছাই করে তাঁদের বিনামূল্যে সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। এটি খুবই ব্যতিক্রম ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই নারীরা দক্ষ হয়ে যাওয়ার পর বসুন্ধরা গ্রুপ তাঁদের একটি করে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দিয়ে তাঁদের আর্থিকভাবে সচ্ছলতার পথ দেখানো অত্যন্ত মানবিক কাজ। শুভসংঘের মাধ্যমে সারা দেশে বসুন্ধরা গ্রুপের এমন উদ্যোগ দরিদ্র অসহায় নারীদের যেমন দক্ষ করে গড়ে তুলবে, তেমনি সেলাই মেশিন পেয়ে তাঁদের অভাব দূর হবে নানামুখী উপার্জনের মাধ্যমে। বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মানবিক কর্মকাণ্ড অসহায় দরিদ্রদের স্বনির্ভর করছে। বসুন্ধরার এমন মানবিক কাজের ধারা অব্যাহত থাকুক। দোয়া ও শুভ কামনা তাদের জন্য।

 

দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করছে বসুন্ধরা গ্রুপ

আব্দুর রহিম পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক, গাবতলী পৌর বিএনপি, বগুড়া

দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করছে বসুন্ধরা গ্রুপ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে খুব কাছে থেকে দেখেছি, তিনি সব সময় দেশ ও জনগণের কল্যাণচিন্তা করেন। তাঁর কাছে জেনেছি, ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’। দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ নারীদের স্বাবলম্বী করতে যে কর্মসূচি নিয়েছে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। গ্রামের দরিদ্র পবিরারের নারীরা স্বাবলম্বী হলে দেশ আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে। সবাইকে দেশ গঠনে অংশগ্রহণ করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবার সহযোগিতাই পারে একটি সুন্দর দেশ উপহার দিতে। ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই কথা সবাইকে ধারণ করতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ শুভসংঘের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র নারীদের বিনামূল্যে সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন দিচ্ছে, এটি সত্যি প্রশংসনীয়। এমন মহতী কাজের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

 

 

 

পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাবেন সাদিয়া

শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান হাসিব
পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাবেন সাদিয়া

বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে পড়েন সাদিয়া। গাবতলী পৌর এলাকার ক্ষিদ্রধামা গ্রামের শাম্মী সাদিয়ার বাবা কৃষি কাজ করেন, মা গৃহিণী। দিনে দিনে পড়াশোনার খরচ বেড়েছে। কৃষক বাবার কাছ থেকে খরচ নিতেও অনেকটা সংকোচ বোধ করেন সাদিয়া। সব সময়ই ভাবতেন নিজের কিছু করতে হবে। নিজে কিছু করলে পড়াশোনার খরচও চলবে, সংসারেরও উপকার হবে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় শুভসংঘের উদ্যোগে বিনামূল্যের সেলাই প্রশিক্ষণ তাঁর জীবনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। ফ্রিতে প্রশিক্ষণ পাবেন, আবার বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পাবেন—এমন খবরে শুভসংঘের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেন। তিন মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সেলাইয়ের নানা কাজে দক্ষ হয়েছেন। কাপড় কাটা শিখেছেন। প্রশিক্ষণ শেষে অন্যদের সঙ্গে সাদিয়াকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। নতুন সেলাই মেশিন পেয়ে খুশি এই কলেজ শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান স্যারের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছি, তার পরও পড়াশোনায় খরচ হয় অনেক। বাবা সংসার চালিয়ে এখন আর খরচ দিতে পারেন না। এই সেলাই মেশিন আমার জন্য আশার আলো। প্রশিক্ষণ পেয়ে শিখতে পেরেছি নানা ধরনের সেলাই ও জামার কাটিং। এখন মেশিন পেয়ে পুরোদমে কাজ করব। এই কাজ থেকে যা উপার্জন হবে, তা দিয়ে নিজের পড়ার খরচ চলবে, আবার মা-বাবাকেও সহযোগিতা করতে পারব। মা-বাবার ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। কোনো চিন্তা থাকবে না। আমার মতো হাজারো শিক্ষার্থীর বাতিঘর বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘ। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন।’

 

 

জাফরিনের সংসারে অভাব দূর হবে

তাহমিদ আরেফিন সাজিদ
জাফরিনের সংসারে অভাব দূর হবে

জাফরিন আক্তারের বাড়ি গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী এলাকায়। স্বামী দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যে আয় করেন, তা দিয়ে সংসারের খরচ চললেও ছেলেদের পড়াশোনার ব্যয় মেটানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই ছেলে পড়াশোনা করে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে, ছেলেরা বড় হচ্ছে, তাদের খরচও বাড়ছে। স্বামীর স্বল্প আয়ে সব খরচ মেটানো যায় না। নিজে কিছু উপার্জন করতে পারলে সংসারের অভাব ঘুচবে। কিন্তু আয়ের কোনো পথ পাচ্ছিলেন না তিনি। অবশেষে জাফরিনের পাশে দাঁড়াল দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা। গাবতলীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তিন মাস নিয়েছেন বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপ তাঁকে উপহার হিসেবে দিয়েছে একটি সেলাই মেশিন। বসুন্ধরা গ্রুপের এই উপহার তাঁকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্বনির্ভর হওয়ার। এখন তাঁর সংসারের অভাব ঘুচবে, নিজে কাজ করবেন, আয় করবেন। স্বামীর সংসারে সহযোগিতা করবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ নিয়েছি বিনামূল্যে। সেলাই মেশিনও পেলাম বিনামূল্যে। এখন যেন কাজ করে খেতে পারি, সংসারে যাতে ভালো কিছু করতে পারি, সবার দোয়া চাই। কাজ শিখেছি, সেলাই মেশিনে কাজ করে এখন আমি সংসারের অভাব ঘোচাব। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের জন্য অনেক অনেক দোয়া করি। আল্লাহ তাঁদের সবার ভালো করুন।’