তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
মো. আমিনুল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
মো. আমিনুল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

হোক না বিশ্বকাপ উপলক্ষে গা-গরমের ম্যাচ, তবু স্পেনের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ তো সহসা আসে না ইরাকের ফুটবলারদের কাছে। এর ওপর ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে
ড্রও করেছেন তাঁরা। এটা ইব্রাহিম বায়েস-আলি জাসিমদের জন্য সারা জীবন মনে রাখার মতো অর্জন। তবে ম্যাচ শেষে উদযাপনের চেয়ে ইরাকি ফুটবলাররা বেশি ব্যস্ত ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তুলতে। বিশেষ করে লামিন ইয়ামালকে পেয়ে যেন আত্মহারা তাঁরা। চোট পুরোপুরি ভালো না হওয়ায় এই ম্যাচে মাঠে নামেননি ১৮ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক। বেঞ্চেও ছিলেন না। তবু ম্যাচ শেষে তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভেসে যান ইরাকি ফুটবলাররা।
কেউ সেলফি তোলে, কেউ করমর্দন করে, কেউ আবার স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে ভিডিও করে। আধুনিক ফুটবলের নতুন পোস্টার বয়কে সামনে পেয়ে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। আর হাসিমুখে সবার আবদার পূরণ করেছেন ইয়ামাল। এই দৃশ্যই যেন বর্তমান স্পেন দলের প্রতিচ্ছবি।
একসময় যাদের পরিচয় ছিল জাভি-ইনিয়েস্তা-কাসিয়াসদের দল হিসেবে, আজ সেই স্পেনের ঝাণ্ডা ওড়াচ্ছেন ইয়ামাল। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণদের একজনকে ঘিরেই নতুন স্বপ্ন বুনছে স্প্যানিশরা। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের যে সোনালি স্মৃতি এখনো দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়, সেই গৌরব আবার ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামছে স্পেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের অন্যতম বড় ফুটবলশক্তি স্পেন। তবে একসময় তাদের ঘিরে এমন অভিযোগের পাহাড় জমেছিল যে বড় আসরে সফল হতে পারে না। সেই অপবাদ ঘুচিয়ে ২০০৮ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালে আবারও ইউরো জিতে ইতিহাস গড়ে স্পেন। বিশ্ব ফুটবলে খুব কম দলই এভাবে বিশ্ব ও ইউরোপ শাসন করেছে। জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ইকার কাসিয়াস, সার্জিও রামোস, ডেভিড ভিয়া, কার্লোস পুয়োলদের সেই দল স্পেনকে ট্রফি জেতানোর পাশাপাশি ফুটবলকে শিল্পে পরিণত করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে স্বর্ণযুগের অবসান হয়। একে একে বিদায় নেন এই কিংবদন্তিরা। এরপর বিশ্বকাপ ও ইউরোর কয়েকটি আসরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি স্প্যানিশরা। অনেকেই তখন এই ভাবনা শুরু করে দেয় যে স্পেনের আধিপত্যের যুগ শেষ হতে চলেছে। কিন্তু পুনর্জন্মের গল্প লিখে আবার নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে দলটি। একঝাঁক তরুণ ফুটবলার আবারও উচ্ছ্বাসে ভাসান স্প্যানিশদের। সর্বশেষ ইউরোর শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন ইয়ামালরা। এবার বিশ্বকাপ ট্রফি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে দলটি।
এই দলের সবচেয়ে বড় স্বপ্নসারথি ইয়ামাল। অথচ কয়েক বছর আগেও কেউই চিনত না তাঁকে। আজ তিনিই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকা। বয়স এখনো কৈশোরের গণ্ডি পার করেননি, অথচ তাঁর পায়ের জাদু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বিস্তর, বিশ্বের তাবড় ফুটবলবোদ্ধারাও তর্কে জড়াচ্ছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়াল বিভ্রান্ত করে এগিয়ে যাওয়া, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা পাস, কিংবা হঠাৎ করেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া গোল—ইয়ামাল যেন সব বিস্ময়কে ছাপিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এটাও মনে রাখতে হবে, স্পেনের সামর্থ্য কোনো একক তারকার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। বরং তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভারসাম্যপূর্ণ দল। জাভি-ইনিয়েস্তারা না থাকলেও এখনো মাঝমাঠে রয়েছেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার। পাশাপাশি গতি, বলের দখল ধরে রাখা এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও স্পেন এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় পরাশক্তি। সবকিছুর সমন্বয়ে উত্তর আমেরিকায় এবার ২০১০ সালের সেই সোনালি স্মৃতি আরেকবার ফেরাতে প্রস্তুত স্পেন। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে নতুন আশা বুনছে দলটি। ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো অতীত থেকে অনুপ্রেরণা খোঁজা, কিন্তু ভবিষ্যৎ লেখা হয় বর্তমানের পায়ে। আর সেই বর্তমানের উজ্জ্বল আলো হয়ে স্পেনকে পথ দেখাচ্ছেন ইয়ামাল।

চার বছরের রুহি হামে আক্রান্ত। ১১ দিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে। এখন অনেকটাই সুস্থ বোধ করায় মায়ের পাশে বসে নিজের এক্স-রে রিপোর্ট দেখছে। গতকাল তোলা। ছবি : লুৎফর রহমান

বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যাংক ও বীমা খাতে নৈরাজ্য বন্ধ করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের আমির।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া
গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন এবং আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জামায়াত নেতারা বাংলাদেশের চামড়াশিল্প, পাটশিল্প, তৈরি পোশাক খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তুর্কি প্রতিনিধিরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য সর্বোচ্চ অনুদানদাতা দেশ তুরস্ক। সংকটের একটি যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটিকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জামায়াতের আমির তুরস্ককে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের উদ্দেশে একটি সম্মানসূচক শুভেচ্ছাপত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বাংলাদেশ সফরের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়।