পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে কেনাকাটা বা দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার নেই বললেই চলে। অর্থাৎ তারা পুরোপুরি ক্যাশলেস হতে চলেছে। বাংলাদেশেও ক্যাশলেস লেনদেন শুরু হয়েছে। তবে তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অথচ ক্যাশলেস লেনদেনের বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। নিরাপত্তা বেশি। নগদ টাকার মতো ছিনতাই, চুরি-ডাকাতির ভয় নেই। ঘুষ, দুর্নীতি ও কর ফাঁকি ঠেকাতেও ক্যাশলেস লেনদেন সুবিধাজনক। কাগুজে নোট ছাপানোর জন্য রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
‘বাংলা কিউআর’ নামের এই উদ্যোগ পুরোপুরি চালু হলে একজন গ্রাহক নগদ টাকা ছাড়াই সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। এ জন্য দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে চলতি জুন মাসের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমত, গ্রাহকের একটি ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিক্রেতাকে ব্যাংক বা এমএফএসের মাধ্যমে বাংলা কিউআর এজেন্ট হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মুদি দোকান, সবজি বাজার থেকে শুরু করে বড় শপিং মল পর্যন্ত এই সেবা চালু করা গেলে ধীরে ধীরে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাঁরা মনে করেন, বাংলা কিউআর ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ব্যাপক প্রচার চালানোর প্রয়োজন রয়েছে। জানা যায়, ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো বড় বাধা হলো দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, তাদের অ্যাকাউন্টের আওতায় এনে ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত করানোর কাজটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের।
বাংলা কিউআর কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত সোমবার। বৈঠকে গভর্নর বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং নগদের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সেবাকে জনপ্রিয় করার আহবান জানান এবং সরকারি বিভিন্ন ফি এবং চার্জও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।
ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী বলেন, বাংলা কিউআর একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। বর্তমানে বিভিন্ন সেবার জন্য আলাদা এজেন্টের কাছে যেতে হয়, তবে এই ব্যবস্থায় এক এজেন্ট থেকেই সব সেবা পাওয়া যাবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসবে এবং এজেন্টদের ব্যবসাও বাড়বে। আবার যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএসের গ্রাহক একই কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।
চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় ছাড়াও কাগুজে নোটের বহুবিধ অসুবিধা রয়েছে। ছিঁড়ে যায়, পুড়ে যায়, ভিজে নষ্ট হয়, পুরনো ও ময়লা হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত নোট বদল বা বাজারে নোটের চাহিদা মেটাতে নিয়মিত নোট ছাপতে হয়। জানা যায়, কাগুজে নোট ছাপতে সরকারের বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। তা ছাড়া লেনদেন ব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়াটাও জরুরি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে দ্রুতই ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

