পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি টিউশন সেন্টারের ছাদধসে অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। পুলিশের বরাতে এ খবর জানিয়েছে দ্য ডন।
প্রতিবেদন মতে, আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অপারেশনস ফয়সাল কামরান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
লাহোর জেনারেল হাসপাতাল প্রকাশিত নিহতদের প্রাথমিক তালিকা অনুসারে নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজনের বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। সন্ধ্যা ৭টায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে লাহোর পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়ির মালিকসহ দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে ডিআইজিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অবহেলার জন্য দোষী প্রমাণিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি কামরান বলেছেন, সম্প্রতি বাড়িটি নির্মাণকারী ঠিকাদারও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন। বাড়িটির একটি অংশ নির্মাণাধীন ছিল এবং ছাদ ধসে পড়ার সময় শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে থাকা তাদের দল জানিয়েছে যে আটকে পড়া শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ ডন নিউজকে বলেন, ‘শিশুদের বয়স খুব কম এবং দুটি ঘর ব্যবহার করা হচ্ছিল। ছাদ ধসে পড়ায় শিশুরা আটকা পড়ে।’
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এধি রেসকিউ সার্ভিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি বাড়ির ঘরের ছাদ ‘হঠাৎ ধসে পড়েছে’। এতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে ধসে পড়া ছাদটি টিআর গার্ডার ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ছাদধসে মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য পুলিশ ও জেলা সরকারি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারিক মাহমুদ বলেছেন, ভবনটিতে একটি বেসরকারি টিউশন কেন্দ্র ছিল এবং এটি এলাকার এক নারী চালাতেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিকটবর্তী লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের সেখানে আনা আহত শিশুদের অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু উপস্থিত ছিল।




