পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ মহররমের একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচারের জন্য রবিবার প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে। এর একদিন আগে পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জিও নিউজের সম্প্রচার ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জিও নিউজ জানায়, ইসলামি চান্দ্র বছরের প্রথম মাস মহররম উপলক্ষে প্রচারিত 'সফর-ই-ইশক' অনুষ্ঠানের একটি অংশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সে কারণেই তারা ক্ষমা চেয়েছে। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চ্যানেলটি জানায়, মহররমের ১০ তারিখে প্রচারিত অনুষ্ঠানের একটি বিষয় সম্পাদকীয় পর্যায়ের ভুলের কারণে সম্প্রচার হয়েছে। তারা সেই ভুল স্বীকার করছে এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। জিও নিউজ আরো জানায়, ওই অনুষ্ঠানে ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের একটি ছোট অংশের মানুষের পালন করা কিছু ধর্মীয় রীতি তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ঠিক কোন ধর্মীয় রীতি দেখানো হয়েছিল, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এদিকে পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (পেমরা) জানিয়েছে, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয় বিবেচনায় ওই ধরনের দৃশ্য সম্প্রচার করা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সংস্থাটি বলেছে, ওই অনুষ্ঠান দর্শকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। পাশাপাশি এটি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। পবিত্র মহররম মাসে পাকিস্তানে গণমাধ্যমের ওপর নজরদারি আরো কঠোর করা হয়েছে। তবে সম্প্রচার স্থগিতের সিদ্ধান্তে পেমরাও তথ্যচিত্রের বিতর্কিত অংশ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ইরাকের শিয়া মুসলিমদের একটি অংশ ইসলামের প্রাথমিক দিকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো স্মরণ করে নাটক, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন করে। এই প্রথাকে 'তাজিয়া' বলা হয়। তবে ইসলামের বৃহত্তম সুন্নি ধারার অনেক আলেম এই প্রথাকে সমর্থন করেন না এবং নিরুৎসাহিত করেন।
পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ সুন্নি মুসলিম। দেশটির প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ শিয়া সম্প্রদায়ের। অতীতে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা নিয়ে কঠোর আইন রয়েছে। এসব আইনকে কেন্দ্র করে অতীতে বহুবার সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।






