• ই-পেপার

কার্টুনে প্রতিবাদ

পোল্যান্ডে রুশ শিল্পীকে গুলি করে হত্যা

ট্রাম্পের ইরান চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু, নির্বাচনের আগে কঠিন সমীকরণ

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের ইরান চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু, নির্বাচনের আগে কঠিন সমীকরণ
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চেয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক সমঝোতা সেই হিসাব উল্টে দিয়েছে। ইসরায়েলের বড় অংশের জনমত ও রাজনৈতিক মহল এই চুক্তির বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু একদিকে যেমন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের ওপর অতিনির্ভরশীলতার অভিযোগও জোরালো হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাই নিরাপত্তা, কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী। খবর ফরচুন

নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ক্যারিয়ার বাজি রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার অত্যন্ত দৃঢ় ও লৌহকঠিন সম্পর্কের ওপর। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটিই এখন তার জন্য একটি মারাত্মক রাজনৈতিক বোঝায় পরিণত হয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান চুক্তির বিরোধিতা করছে ইসরায়েলের সিংহভাগ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহল। আর এতেই নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে।

আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তিনি গভীরভাবে আশা করেছিলেন, হোয়াইট হাউসে বসা তার দেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধুর’ প্রত্যক্ষ সাহায্য নিয়ে তিনি অনায়াসে এই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিপরীতে নেতানিয়াহুকে এমন একটি চুক্তির মোকাবিলা করতে হচ্ছে যা ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রেখে দেবে।

  • চুক্তি ও সম্পর্কের অবনতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া এই পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের জনমত জরিপগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো, ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে নেতানিয়াহু যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর খুব সামান্যই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলি ধারাভাষ্যকার ইয়িনন মাগাল আগে নেতানিয়াহুর কট্টর সমর্থক ছিলেন। তিনি তেল আবিবের রেডিও ১০৩ এফএম-এ বলেছেন, ‘ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পিঠে ছুরি মেরেছেন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের ভয়াবহ হামলা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় আগে থেকেই বড় ধরনের ধস নেমেছিল।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ইরান-বিরোধী যৌথ অভিযানে ট্রাম্প বারবার বলছেন, সব সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। এতে ইসরায়েলিরা নতুন করে তাদের আধিপত্য চিন্তায় পড়ে গেছে।

দুই নেতার ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় গালিগালাজ করে তিরস্কার করেছেন ট্রাম্প। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, এই অংশীদারত্বে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েল আসলে কতটা ছোট ও অধীনস্থ অবস্থানে আছে।

গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘কঠিন লোক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, তাদের জন্য যা করা হচ্ছে, তাতে ইসরায়েলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনেও ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত ও হতাশ দেখা গেছে।

মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘লেবানন ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েল যে আচরণ করছে, তাতে আমি খুশি নই।’

সোমবার হোয়াইট হাউস জানায়, এই চুক্তির ফলে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে পারবে না এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতও রাখতে পারবে না। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আরও নিরাপদ হবে।

অন্যদিকে সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, ‘চুক্তিটি আসলে কেমন হবে, তা আমরা এখনো জানি না।’

তিনি আবার নির্বাচনে লড়ার ও জেতার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর আমি বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনি। অনেক বিষয়ে আমরা একমত হই, কিছু বিষয়ে মতের অমিল হয়। ইসরায়েলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার এবং তা রক্ষায় আমি সব সময় সোচ্চার থাকব।’

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার সিএনবিসি নিউজকে বলেন, চুক্তির খসড়া এই সপ্তাহেই প্রকাশ করা হবে। এটি পুরো অঞ্চলকে সবার জন্য নিরাপদ করবে।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এই চুক্তির পক্ষে কথা বলেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখাতে চাইছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক-ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই দুটিই দীর্ঘদিন ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি ছিল।

নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার মন্ত্রী মিরি রেগেভ গালি ইসরায়েল রেডিওকে বলেন, তেহরানে নেতৃত্ব না বদলালে এই ধ্বংস হওয়া কর্মসূচিগুলো কয়েক বছরেই আবার গড়ে তোলা সম্ভব।

  • লেবানন ও হিজবুল্লাহ ইস্যু

নেতানিয়াহুকে লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্স জানায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের ফলে ইতোমধ্যেই হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতেও বাধ্য হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছিল।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘লেবাননের বিষয়টি সমাধান করা যায় কি না, আমরা দেখতে চাই। হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের একটু কথা বলতে হবে।’

তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা ব্লুমবার্গকে নিশ্চিত করেছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। হিজবুল্লাহর কোনো হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।

রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, সেদিন বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রায় ভেস্তে দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এরপর এক ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন—তার ‘বিচারবুদ্ধি নেই’।

তবে ইসরায়েলের বেশিরভাগ মানুষ হিজবুল্লাহকে অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি মনে করে। কারণ এই গোষ্ঠী ইসরায়েল ধ্বংসের শপথ নিয়েছে এবং তেহরানের সমর্থনে উত্তর ইসরায়েলে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের নির্দেশে পিছু হটলে তাকে এই সমালোচনার মুখে পড়তে হবে যে, তিনি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন-ইরান চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ নয়। আমরা এই চুক্তির পক্ষ নই, এটি আমাদের নিরাপত্তার দিকে নজর দেয় না এবং এটি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।’

  • হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক প্রভাব

ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিদের মতো মধ্যপন্থী রাজনীতিকরা সরাসরি নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে যে ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা নেতানিয়াহু আগে থেকে বুঝতে পারেননি।

এই পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং এই সংঘাত আমেরিকা ও বিশ্বের অন্য মানুষের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই অর্থনৈতিক ক্ষতি ইসরায়েলিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির ওপর এটি বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।

ল্যাপিদ বলেন, নেতানিয়াহু আমেরিকানদের কাছে ঝুঁকির বিস্তারিত হিসাব না দিয়ে এক ধরনের অতি-আশাবাদী চিত্র তুলে ধরেছিলেন। যার ফলে যুদ্ধের মাঝপথেই তিনি তাদের আস্থা হারান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আমেরিকায় তেলের দাম বাড়ার গুরুত্ব নেতানিয়াহু বিবেচনায় নেননি।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লড়াইয়ের শুরুতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প উভয়েই ইরানি জনগণকে শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তেহরানে সরকারপন্থি টহল দলের ওপর ড্রোন হামলাও চালিয়েছিল ইসরায়েল।

কিন্তু কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। বরং তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করে। এরপর নেতানিয়াহু গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলে ইসরায়েলি বাহিনীকে দেওয়া তার নির্দেশের কথা বেশি বেশি প্রচার করতে থাকেন।

নেতানিয়াহুর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সোমবার বলেন, হুমকি না কমা পর্যন্ত সৈন্যরা তাদের অবস্থান থেকে সরবে না।

অন্যদিকে ইরান বলছে, যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টেই কার্যকর হতে হবে, যা মূলত হিজবুল্লাহকে রক্ষার একটি কৌশল। লেবানন সীমান্ত থেকে মিলিশিয়ারা ফের গুলি চালালে ইসরায়েল কীভাবে জবাব দেয়, তা নেতানিয়াহুর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

  • নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট

এই ধারাবাহিক সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ মনে করেন—৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর আর নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত নয়।

অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের আগে করা জরিপ বলছে, নেতানিয়াহু ও তার জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে মাত্র ৫১টির মতো আসন পেতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে কম।

এখন নেতানিয়াহুকে সরানোর দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সাবেক জেনারেল গাদি আইজেনকোট। তার বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা বলে দেয়, মানুষ নেতানিয়াহুর বাগাড়ম্বরপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের কাছ থেকেও নেতানিয়াহু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক দক্ষতা যতই থাকুক, ওয়াশিংটনের ওপর তার নির্ভরতা এড়ানো যায় না।

ইসরায়েল সামরিক স্বাধীনতার দাবি করলেও, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর দেশটিকে বিপুল প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয় এবং জাতিসংঘ ও অন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনৈতিক সমর্থন দেয়।

২০১৫ সালে ওবামার ইরান চুক্তির বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু রিপাবলিকানদের কাছে লবিং করতে পেরেছিলেন, যা ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি দলীয় ইস্যু করে তুলেছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন—ট্রাম্প নিজেই রিপাবলিকান, আর ডেমোক্র্যাটরা এখন ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করছে।

পিউ রিসার্চের তথ্য বলছে, উভয় দলের ৫০ বছরের কম বয়সী বেশিরভাগ মানুষ এখন ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই নেতিবাচকভাবে দেখে।

নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার মন্ত্রী জেভ এলকিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তি চাইছে, ইসরায়েল তা আটকাতে পারবে না। আমাদের কিছু প্রভাব খাটানোর সুযোগ আছে, তবে তা সীমাহীন নয়।’

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই চুক্তি নিয়ে আপত্তি থাকলেও ট্রাম্প এখনো ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট।

  • ব্যক্তিগত ও আইনি চ্যালেঞ্জ

যুদ্ধের এই ডামাডোলের বাইরে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত জীবনেও সংকট চলছে। তিনি প্রোস্টেট ক্যানসার ও হৃদরোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন নিয়মিত।

এর সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আছে, যার জন্য তাকে প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে হয়।

গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু আর নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা নিশ্চিত নন। এই কথা শুনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি দ্রুত বিবৃতি দিয়ে জানায়, তার পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতি ঠিকমতোই চলছে।

নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে সব ফৌজদারি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ট্রাম্প যখন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানান, তিনি তাতে খুশি হন।

এতে সমালোচকদের সেই অভিযোগ আরও জোর পায় যে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের কাছে সহজেই নতি স্বীকার করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিদের একটি মন্তব্যে পুরো পরিস্থিতির সারমর্ম ধরা পড়ে। তিনি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, ‘তিনি আমাদের এমন একটি পরাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করছেন, যা নিজের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও অন্যের কাছ থেকে আদেশ নেয়।’

জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু : ইউনিসেফ

অনলাইন ডেস্ক
জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু : ইউনিসেফ
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি শিশু জলবায়ুজনিত অন্তত তিনটি গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্ষতিকর প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা যায়, সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর বসবাসের অঞ্চলের ওপর জলবায়ুর আটটি প্রধান প্রভাবের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এই আটটি প্রভাব হলো : উপকূলীয় বন্যা, নদীভিত্তিক বন্যা, খরা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ (দেশভেদে ভিন্ন, তবে অন্তত টানা তিন দিন উচ্চ তাপমাত্রা), চরম তাপমাত্রা, দাবানল ও বালুঝড়।

প্রতিবেদনে মূলত ১১০ কোটি শিশুর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যারা একই সঙ্গে অন্তত তিনটি জলবায়ুজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন। বেশিরভাগ অঞ্চলে যে তিনটি সাধারণ ঝুঁকির মিল পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো— খরা, চরম তাপমাত্রা (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে) এবং তীব্র তাপপ্রবাহ। এই তিনটির যৌথ প্রভাবে বিশ্বে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়ার ৭ কোটি ৪০ লাখ, পাকিস্তানের ৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ভারতের ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু।

ইউনিসেফ জানায়, বিগত ২০ বছরে তিনটি বা তার বেশি ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব শিশুই অন্তত একটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া, ২০০ কোটি শিশু অন্তত দুটি এবং ৩৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু অন্তত চারটি ঝুঁকির মুখোমুখি। এমনকি সাতটি বা তার বেশি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিশুই রয়েছে মায়ানমারে।

জলবায়ু সংকটকে শিশুদের অধিকারের সংকট হিসেবে উল্লেখ করে ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

শিশুদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কোথায়—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম স্লেমেকার বলেন, ‘এর কোনো সংক্ষিপ্ত উত্তর নেই। তবে সব অঞ্চলের পরিস্থিতি সমান নয়। কিছু সুনির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আমরা দেখতে পেয়েছি, যেগুলো মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বেশি কেন্দ্রীভূত।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো যেসব দেশে শিশু জনসংখ্যা বেশি, সেসব দেশ অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে থাকা মোট শিশুর সংখ্যার দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে শতকরা হারের হিসাবে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় সরকারের সীমিত সক্ষমতা এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চরম মানবিক সংকটে থাকা দেশটিতে পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা অত্যন্ত সীমিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাদের ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এছাড়া, বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্র। এসব দেশের সামনে সীমিত মিঠাপানির উৎস, উচ্চ আমদানি নির্ভরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের পর সহজে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না থাকার মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
সংগৃহীত ছবি

ইন্দোনেশিয়ায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

মঙ্গলবার ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু শহরের পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব দিকে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং পালু থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে।

প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো ঝুঁকি ছিল না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি হাসপাতালের রোগীদের ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। 

প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।

প্রেমের জয়গান গাইলেন জাস্টিন ট্রুডো

অনলাইন ডেস্ক
প্রেমের জয়গান গাইলেন জাস্টিন ট্রুডো
সংগৃহীত ছবি

প্রেম কখনো কখনো মানুষকে অন্ধ করে দেয়, বোধ-বুদ্ধি ভুলিয়ে দেয়, ফেলে দেয় দারুণ বিপাকে। তেমনি এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। 

গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে একই সময়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের দুটি ম্যাচ ছিল। টরন্টোতে বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্বাগতিক কানাডা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র মাঠে নেমেছিল প্যারোগুয়ের বিপক্ষে। সাধারণ বিবেচনায় ট্রুডোর টরন্টোতেই থাকার কথা, থাকা উচিত। কিন্তু বাগড়া দিয়েছে প্রেম।

যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ের ম্যাচের আগে যে স্টেডিয়ামে গাইবেন ট্রুডোর প্রেয়সী পপ সুপারস্টার কেটি পেরি। কানাডা না পেরি, দেশ না প্রেম—এই দ্বন্দ্বে পড়েন বিশ্বের বহু তরুণীর ক্রাশ জাস্টিন ট্রুডো। শেষ পর্যন্ত প্রেমেরই জয় হয়েছে। কানাডার ম্যাচ ফেলে প্রেমিকার গান শুনতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ছুটে যান ট্রুডো। প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনই যখন সেলিব্রেটি; তখন প্রেমটা যে গোপনে করবেন, সে উপায়ও থাকে না। ক্যামেরা বারবার খুঁজে নিয়েছে এই তারকা জুটিকে। 

কেটি পেরি মঞ্চ থেকে ছুটে এসে ট্রুডোকে চুমু খাচ্ছেন, সে দৃশ্য দেখেছেন বিশ্বের কোটি মানুষ। ম্যাচজুড়ে টেলিভিশনের বিভিন্ন ক্লিপে এ জুটিকে গ্যালারিতে বসে বিয়ার পান করতে ও ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সঙ্গে, এই দৃশ্য সবারই ভালো লাগার কথা। কিন্তু কানাডিয়ানদের কাছে এটা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

ট্রুডো-পেরির প্রেমের দৃশ্য ভাইরাল হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। অনলাইনে অনেক কানাডিয়ান নাগরিক বিরক্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক কানাডিয়ান একে ‘দেশের মুখে চপেটাঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে ‘এটি কতটা কুরুচিপূর্ণ তা বলে বোঝানো যাবে না।’ অনেকে ট্রুডোকে ‘প্রতারক’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন।

তীব্র সমালোচনায় জর্জরিত জাস্টিন টুডো অবেশেষ মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে কানাডার পতাকার ইমোজি যুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘মাঝে মাঝে আপনাকে সাপোর্টিভ প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে, আপনারা জানেন কাপ জেতার জন্য আমি কাকে সমর্থন করছি।’ প্রেমের এ দোহাই ট্রুডোকে কতটা রক্ষা করবে কে জানে।

৫৩ বছর বয়সী জাস্টিন ট্রুডো এবং ৪১ বছর বয়সী পপ সুপারস্টার কেটি পেরিকে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। তবে বেশিদিন ডুবে ডুবে জল খাননি তারা। ওই বছরের ডিসেম্বরেই ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেন।

এর আগে টিভি উপস্থাপক সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে ট্রুডোর ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হয় ২০২৩ সালে। কেটি পেরিও ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইংলিশ কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে সংসার করেন।

কানাডিয়ানরা যতই গালাগাল করুক, কেটি পেরি নিশ্চয়ই এমন দায়িত্ববান, সাপোর্টিভ প্রেমিক পেয়ে খুশি।