• ই-পেপার

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, জেলেনস্কির চিঠির জবাবে পুতিন

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে জরুরি পরিস্থিতি কাটল, সতর্কতা তুলে নিল নাসা

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে জরুরি পরিস্থিতি কাটল, সতর্কতা তুলে নিল নাসা
ছবি : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বায়ু লিকের সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠায় গতকাল শুক্রবার পাঁচ মহাকাশচারীকে প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং প্রয়োজনে স্টেশন ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, স্টেশনের রাশিয়ান অংশে একটি ফাটল মেরামতের কাজ চলাকালে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুক্রবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৯টা ৪ মিনিটে নাসার মিশন কন্ট্রোল স্টেশনে থাকা ক্রু-১২ মিশনের চার সদস্যকে তাদের ডক করা স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানে প্রবেশের নির্দেশ দেয়। এই চারজনের মধ্যে ছিলেন দুই মার্কিন মহাকাশচারী, একজন ফরাসি মহাকাশচারী এবং একজন রুশ মহাকাশচারী।

তাদের সঙ্গে স্টেশনে থাকা আরো একজন মার্কিন মহাকাশচারীকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত স্টেশন ত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা পর নাসার ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় এবং মহাকাশচারীদের আবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এ সময় নাসা ও রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস বায়ু লিকের মাত্রা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছিল।

গত কয়েক মাস ধরে নাসা ও রসকসমস স্টেশনের রাশিয়ান অংশে থাকা জেভেজদা সার্ভিস মডিউলে দেখা দেওয়া ছোট ছোট বায়ু লিকের কারণ এবং তা মেরামতের উপায় নিয়ে আলোচনা করে আসছে। এই মডিউলটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে মহাকাশচারীরা বসবাস ও কাজ করেন।

শুক্রবার রসকসমস জানায়, তাদের বিশেষজ্ঞরা স্টেশনে দুটি বায়ু লিক শনাক্ত করেছেন। তবে এগুলো থেকে ক্রু সদস্যদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি নেই। সংস্থাটি আরো জানায়, একটি লিক দ্রুত বন্ধ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি বন্ধ করার প্রস্তুতি চলছে। রসকসমসের মতে, এই লিকগুলোর কারণে মহাকাশযান বা স্টেশনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম বর্তমানে হুমকির মুখে নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাসার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বায়ু লিকের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং লিকের হার প্রতিদিন প্রায় ১ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২ পাউন্ডে পৌঁছে যায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দুটি পৃথক মিশনের মোট সাতজন মহাকাশচারী অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে স্টেশনে পৌঁছানো ক্রু-১২ দলের চার সদস্য রয়েছেন।

এই শক্তি সদস্যরা নাসার মহাকাশচারী জেসিকা মেইর ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির মহাকাশচারী সোফি অ্যাডেনোট এবং মহাকাশচারী সংস্থা মহাকাশচারী কসমস-এর মহাকাশচারী আন্দ্রে ফেডিয়ায়েভ। বায়ু লিকের ঘটনা নিয়ে নাসা ও রসকসমস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

স্টেশনে থাকা অন্য দলের সদস্যরা হলেন মার্কিন মহাকাশচারী ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস এবং রুশ মহাকাশচারী সের্গেই কুদ-সভারচকভ এবং সের্গেই মিকায়েভ। তারা গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিলেন।

নাসার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, কুদ-সভারচকভ ও মিকায়েভকে জরুরি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলা হয়নি। বরং তারা একটি করাত ব্যবহার করে এমন একটি অংশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছিলেন, যেখানে বায়ু লিকের উৎস হিসেবে সন্দেহ করা ফাটলটি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

তবে নাসার কর্মকর্তারা এই পদ্ধতির সঙ্গে একমত ছিলেন না। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোল কেন্দ্র সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মহাকাশচারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, যাতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

নাসার মুখপাত্র বেথানি স্টিভেন্স জানান, রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ফাটল মেরামতের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর নাসা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় এবং মহাকাশচারীদের আবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

স্টিভেন্স বলেন, ‘বায়ু লিকের সমস্যা সমাধানে আমরা রসকসমসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ইতিহাসে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ খুবই বিরল ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বা বায়ু লিকের হারের পরিবর্তনের কারণে কয়েকবার এমন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও ২৭ বছরের ইতিহাসে কখনোই মহাকাশচারীদের স্টেশন পুরোপুরি ত্যাগ করতে হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০৩২ সাল পর্যন্ত চালু রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বেসরকারি কম্পানিগুলোকে স্টেশনের বিকল্প অবকাঠামো তৈরির জন্য আরো সময় দেওয়া।

এই বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। তারা যথাক্রমে মার্কিন সিনেটের বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও পরিবহন কমিটির চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সদস্য। আইনপ্রণেতাদের মতে, মহাকাশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নেতারা বিলটি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : রয়টার্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশ কুয়েত এবং বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোনগুলো হুমকি সৃষ্টি করার আগেই সেগুলো ভূপাতিত করা হয়। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউনাইটেড স্টেড কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি তারা ভূপাতিত করেছে। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এ পর্যন্ত মার্কিন সেনা সদস্যদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরানের যে দাবি, তা সঠিক নয়।’

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে এবং অঞ্চলটিতে নিজেদের সদস্য ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা ‘এরোস্পেস মিসাইল’ ব্যবহার করে অঞ্চলে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটিগুলোতে’ হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি তাসনিম এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে সেগুলোর কোনোটিই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে উৎক্ষেপণ করা চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও বৃহত্তর তুনব এলাকার উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর কথাও জানায় তারা। 

এদিকে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার ওমান উপসাগরে তারা মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন জাহাজগুলো ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য নৌযানকে হয়রানি করছিল। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি অস্বীকার করেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের জেবডিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে একজন ছিলেন প্যারামেডিক। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় দেশজুড়ে অন্তত এক ডজন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
 

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-এর (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া এই আন্দোলনকে এবার রাজপথে নিয়ে যাওয়া হবে। এ উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।

নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসইর দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ (শনিবার) দিল্লিতে বড়সড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি)। তাদের দাবি, এই ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি চাইবেন।

বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে। সেখানে বহু ছাত্র-যুবক অংশ নিতে পারেন বলে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ হবে এবং সংবিধান মেনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের অনুকরণে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি গত মাসে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এক শুনানিতে সরকার-সমালোচনাকারী কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে খবর প্রকাশের পর এই সংগঠনের জন্ম হয়। তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিরোধী দল আম আদমি পার্টির (এএপি) সাবেক কর্মী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে ১৬ মে অনলাইনে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের দাবি, ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ভারতের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, এই স্লোগান নিয়ে সংগঠনটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। এদিকে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন অভিজিৎ দীপকে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা অভিজিৎ দিপকে আজকের সমাবেশে নিজেই নেতৃত্ব দেবেন। তবে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলটি প্রশাসনের সব নিয়ম মেনে চলবে বলে জানিয়েছে।

দিল্লির কর্মসূচির আগে সংগঠনটি তিনজন নতুন মুখপাত্রের নামও ঘোষণা করেছে। অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি জানিয়েছে, সাংবাদিক সৌরভ দাসকে প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং সাবেক ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আশুতোষ রানকা সংগঠনের নীতি ও অবস্থান গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।

দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও বরুণ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা দিল্লি পুলিশের কাছে বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়েছি এবং প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের আইন ও বিধি মেনেই আমরা কর্মসূচি পালন করব।’

এদিকে এই সংগঠনের ডাকে আজ দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার ছাত্র-যুবকের জমায়েত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ কারণে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাজধানীর সব প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নয়া দিল্লি জেলা ও অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর, প্রধান রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (আইএসবিটি) এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সঙ্গে দিল্লার সংযোগকারী সীমান্ত এলাকায় কঠোর তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এই ছাত্র-যুব আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে যন্তর মন্তরের সমাবেশে যোগ দিতে পারেন লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। লাদাখের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত বছর তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। এর আগেই তিনি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ওয়াংচুক লিখেছেন, ‘আমরা যদি না লড়ি, তাহলে আর কে লড়বে? এখনই যদি না করি, তাহলে কবে করব? পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ৬ জুন আমি দিল্লিতে সিজেপির সদস্যদের পাশে দাঁড়াব। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এত বড় সংকট তৈরি হলে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর উচিত নিজে থেকেই পদত্যাগ করা। কারণ এর সঙ্গে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।’ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানান। 

বিক্ষোভের ঠিক আগের দিন, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রসঙ্গ।  

সংবাদকর্মীরা মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতে ফেরার পথে অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে কোনো ‘বহিষ্কার’ বা ‘ভিসার অপব্যবহার’ সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন প্রশাসন ভারতকে জানিয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে দিল্লির জন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা। আন্দোলনকারীদের প্রথমে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছে জড়ো হয়ে সেখান থেকে মিছিল করে মূল সমাবেশস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে সংগঠনটি বেশ কিছু নির্দেশনাও জারি করেছে। অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা ও একটি বই সঙ্গে রাখতে, কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করতে এবং কোনো উসকানি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য পানি, সানস্ক্রিন ও টুপি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফুল দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে একা না এসে দলবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া, উসকানিমূলক মন্তব্য এড়িয়ে চলা এবং খালি পেটে কর্মসূচিতে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় মজার ছলে বলা হয়েছে, ‘বিপ্লব করতে গেলে ব্রেকফাস্ট করাটা মাস্ট!’


 

যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর শরীরে আবার মিলল মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর শরীরে আবার মিলল মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গবাদি পশুর জন্য মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’-এর দ্বিতীয় একটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। চলতি সপ্তাহে যেখানে প্রথম এই পরজীবীটি পাওয়া গিয়েছিল, তার থেকে ৫.৬ মাইল (৯ কিলোমিটার) দূরে নতুন এই সংক্রমণটি শনাক্ত হলো। ফলে মার্কিন গবাদি পশুপালকদের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ইউএসডিএ জানিয়েছে, টেক্সাসের জাভালা কাউন্টির একটি খামারে এক মাস বয়সী একটি বাছুরের শরীরে এই ক্ষতিকর পরজীবীটি পাওয়া গেছে। অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস (এপিএইচআইএস) বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক নমুনা পরীক্ষা করার পর এই দ্বিতীয় উপদ্রবটি নিশ্চিত করেছে। তবে আশেপাশের এলাকার অন্যান্য খামার থেকে সংগৃহীত নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

স্ক্রুওয়ার্ম হলো মূলত এক ধরণের পরজীবী মাছি। এটি গরু বা অন্য যেকোনো উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর খোলা ক্ষত বা নরম চামড়ায় ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা বের হওয়ার পর, এরা পশুর জ্যান্ত মাংস ও টিস্যু কুড়ে কুড়ে খায় এবং রক্ত চুষে জীবনধারণ করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে আক্রান্ত পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এর আগে ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এই পরজীবীর প্রাদুর্ভাব বন্যপ্রাণী ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। টেক্সাস আমেরিকার বৃহত্তম গবাদি পশু উৎপাদনকারী রাজ্য হওয়ায়, এবারও এর বিস্তার ঘটলে পশুদের মৃত্যুসহ চিকিৎসা ও অতিরিক্ত শ্রমজনিত কারণে খামারিদের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। মেক্সিকোর মধ্য দিয়ে এই পোকাটি উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা নিয়ে গত এক বছর ধরেই টেক্সাসের খামারিরা আশঙ্কার মধ্যে ছিলেন।

ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন প্রশাসন গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেক্সিকো থেকে জীবিত গবাদি পশু আমদানি বন্ধ রেখেছে। এ ছাড়া এই ক্ষতিকর পোকার বিস্তার রোধ করতে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ল্যাবরেটরিতে বন্ধ্যা মাছি উৎপাদন করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া, পোকা ধরার জন্য ফাঁদ পাতার কর্মসূচি বাড়ানো এবং খামারগুলোতে গবাদি পশু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা।

সূত্র : রয়টার্স