ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বলের লাইনে পজিশন নিয়েছিলেন নিখুঁতভাবেই। উঁচুতে লাফিয়ে উঠে মাথাও ছোঁয়ালেন দারুণভাবে। বল গিয়ে আছড়ে পড়ল জালে! কিন্তু এমন নিখুঁত ফিনিশিংয়ের পরও বুনো উল্লাসের বদলে দুই হাতে মুখ ঢেকে মাঠেই মুষড়ে পড়লেন মোহামেদ হানি। কারণ, বলটি তিনি প্রতিপক্ষের নয়, জড়িয়েছেন নিজেদের জালেই!
ডালাস স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এই এক আত্মঘাতী ভুলেই যেন ‘ট্র্যাজিক হিরো’ বনে গেলেন ৩০ বছর বয়সী মিসরীয় ডিফেন্ডার। আর এই এক গোলের সৌজন্যেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন হানি, যা কোনো ফুটবলারই কখনো স্বপ্নেও চাইতে পারতেন না।
চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিসর। সেদিনও লাল-সবুজ জার্সিধারীদের পয়েন্ট হারানোর নেপথ্য খলনায়ক ছিলেন এই হানি। বেলজিয়ামের সেই একমাত্র গোলটিও এসেছিল তারই আত্মঘাতী উপহার থেকে।
আর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফের নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক ‘আত্মঘাতী’ গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত হানির মতো দুর্ভাগ্য সঙ্গী করে গোল করেছেন আরও ৬৫ জন ফুটবলার। তবে অভিশপ্ত সেই তালিকায় দুইবার নাম লেখানোর নজির নেই আর কারও!
হানির এই ‘উপহার’ অবশ্য ২০২৬ বিশ্বকাপকেও তুলে দিয়েছে ইতিহাসের নতুন পাতায়। চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি আত্মঘাতী গোল দেখল ফুটবলবিশ্ব, যা বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল দেখেছিল দর্শকেরা।




