• ই-পেপার

‘বাংলাদেশকে সত্যিই ভালোবাসি, তাদের সমর্থন অসাধারণ’—এমি মার্তিনেজ

নকআউটে আর্জেন্টিনার পথ সহজ, ইউরোপের জায়ান্টদের কঠিন সমীকরণ

ক্রীড়া ডেস্ক
নকআউটে আর্জেন্টিনার পথ সহজ, ইউরোপের জায়ান্টদের কঠিন সমীকরণ
ছবি : রয়টার্স

রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা আর অঘটনে ভরা গ্রুপ পর্ব শেষে চূড়ান্ত হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের লাইনআপ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে শতভাগ সাফল্য নিয়ে নকআউটে উঠেছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ছন্দে রয়েছে লে ব্লুরা।

গ্রুপ পর্বে জার্মানি, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন নকআউটে উঠলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ পায়নি। বিশেষ করে জার্মানি শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে।

নকআউট সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল ভিন্ন ব্র্যাকেটে অবস্থান করছে। ফলে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই এখন কেবল ফাইনালেই সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ চারের আগে তুলনামূলক সহজ পথ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ৩২-এ মেসিদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। আফ্রিকার দলটি এবার চমক দেখিয়ে নকআউটে উঠলেও শক্তির বিচারে এগিয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই ম্যাচে জিতলে আর্জেন্টিনা খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে। সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া, ঘানা কিংবা আলজেরিয়ার যেকোনো একটি দল।

সেমিফাইনালে অবশ্য অপেক্ষা করতে পারে বড় পরীক্ষা। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, নরওয়ে কিংবা আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী দলগুলোর কোনো একটির মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে প্লটের অপর প্রান্তে জমে উঠেছে ইউরোপের পরাশক্তিদের লড়াই। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মতো দলগুলো একই অংশে থাকায় শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে।

সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, শেষ ষোলো কিংবা পরবর্তী ধাপেই মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স-জার্মানি এবং স্পেন-পর্তুগালের মতো হাইভোল্টেজ লড়াই। ফলে ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হতে পারে একাধিক শিরোপাপ্রত্যাশী দলকে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্লটের একদিকে যেখানে আর্জেন্টিনার পথ তুলনামূলক মসৃণ, অন্যদিকে ইউরোপের পরাশক্তিদের সামনে শুরু থেকেই অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষার। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুরু থেকেই জমে উঠতে যাচ্ছে একের পর এক মহারণ।

মেসির বিশ্বরেকর্ড, কেইনের কীর্তি—বিশ্বকাপে এক দিনে যত ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির বিশ্বরেকর্ড, কেইনের কীর্তি—বিশ্বকাপে এক দিনে যত ইতিহাস

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে রেকর্ড আর ইতিহাসে ভরপুর এক দিনে। শেষ দিনের ম্যাচগুলোতে লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, লুকা মডরিচ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রিয়াদ মাহরেজসহ একাধিক তারকা গড়েছেন নতুন নতুন মাইলফলক। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে ডিআর কঙ্গো, আর নাটকীয় ড্রয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া।

মেসির বিশ্বরেকর্ড

জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারানোর ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি। এই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এ ছাড়া বিশ্বকাপে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৯টি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গ্রুপ পর্বে ছয় গোল করে তিনি ১৯৯৪ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ছয় গোলের কীর্তিও গড়েছেন। বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে তার গোল এখন ছয়টি, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে লাউতারো মার্তিনেজ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন নবম ম্যাচে। অন্যদিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস এক ম্যাচে ১৫৪টি সফল পাস দিয়ে গত ৬০ বছরে আর্জেন্টিনার হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

কেইনের নতুন মাইলফলক

পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে গোল করে হ্যারি কেইন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার গোলসংখ্যা এখন ১১, যা গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ভেঙেছে।

জুড বেলিংহ্যামও ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করে গত ৬০ বছরে ইংল্যান্ডের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।

রোনালদোর পাশে আরেক রেকর্ড

কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে পর্তুগালের জার্সিতে বিশ্বকাপে ২৫তম ম্যাচ খেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৯ ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখনো মেসির দখলে।

৪০ বছর বয়সেও মডরিচের জাদু

ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ জয়ে অ্যাসিস্ট করে ৪০ বছর ২৯১ দিন বয়সে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েছেন লুকা মডরিচ। একই সঙ্গে মদ্রিচ ও ইভান পেরিসিচ প্রথম ক্রোয়াট হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি করে ম্যাচ শুরুর একাদশে নামার কীর্তি গড়েছেন।

ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস

উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ডিআর কঙ্গো। দলটির হয়ে ইয়োয়ানে উইসা তিন গোল করে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন গোল করা চতুর্থ আফ্রিকান ফুটবলার হয়েছেন।

মাহরেজ ও আলজেরিয়ার রেকর্ড

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে রিয়াদ মাহরেজ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা হয়েছেন। ৩৫ বছর ১২৬ দিন বয়সে তিনি এই কীর্তি গড়েন।

অন্যদিকে ইনজুরি সময়ে সাসা কালাইজদজিচের গোল অস্ট্রিয়াকে নকআউটে তুলেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম ম্যাচ, যেখানে যোগ করা সময়ে এক দল এগিয়ে যাওয়ার পর অপর দল সমতাসূচক গোল করেছে।

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপ এখন প্রবেশ করছে নকআউট পর্বে। তবে শেষ দিনের রোমাঞ্চ আর তারকাদের রেকর্ডে এবারের আসরের গ্রুপ পর্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।

নকআউটের ভাগ্য সহায় হয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
নকআউটের ভাগ্য সহায় হয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপের নিয়মে সেরা আট তৃতীয় হওয়া দল নকআউটে ওঠার সুযোগ পেলেও সেই তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

গ্রুপ ‘এ’-তে একটি জয় ও দুটি হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ এবং শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একই ব্যবধানে হেরে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা জটিল করে ফেলে তারা।

শেষ দিনে অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছিল কোরিয়ার ভাগ্য। শুরুতে সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকলেও প্রথমে ক্রোয়েশিয়া ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে এগিয়ে যায়। এরপর ডিআর কঙ্গো উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট অর্জন করলে দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষ আটের বাইরে ছিটকে পড়ে। ফলে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় তাদের।

এদিকে, ডিআর কঙ্গো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে আলজেরিয়া নাটকীয়ভাবে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়।

এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ১২তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। এর আগে তারা তিনবার নকআউট পর্বে খেলেছিল। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল দলটি। এ ছাড়া ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে খেলেছিল কোরিয়ানরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধাই পেরোতে পারল না তারা।

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার নাটকীয় ড্রয়ে কপাল পুড়ল ইরানের

ক্রীড়া ডেস্ক
আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার নাটকীয় ড্রয়ে কপাল পুড়ল ইরানের
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে। রবিবার (২৮ জুন) গ্রুপ জে-তে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্রয়ের পর শেষ ৩২-এ ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় এশিয়ার দলটির। সেরা আট তৃতীয় হওয়া দলের তালিকায় নবম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে তারা।

নকআউটে উঠতে হলে আলজেরিয়া বা অস্ট্রিয়ার যেকোনো এক দলকে হারতে হতো। কিন্তু দুই দলের রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ে সেই সুযোগ আর পায়নি ইরান। ফলে বিশ্বকাপে সপ্তমবার অংশ নিয়েও প্রথমবারের মতো নকআউটে ওঠার অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হলো তাদের।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আয়োজক দেশের আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি। তার অভিযোগ, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে।

ম্যাচ শেষে ঘালেনোয়ি বলেন, ‘আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে মোটেও ভালো আচরণ করেনি। ভবিষ্যতে কোনো দল যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত। এত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও তারা যেভাবে লড়াই করেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। তারপরও আমরা ভালো খেলেছি এবং বিশ্বের কাছে ইরানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছি। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’

বিশ্বকাপ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানকে অ্যারিজোনার টুকসন থেকে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নিতে হয়। এ ছাড়া তিনটি গ্রুপ ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতেও নানা ধরনের ভ্রমণ ও লজিস্টিক সমস্যার মুখোমুখি হয় দলটি।

বিদায়ের আগে নিজেদের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তাও রেখে যায় ইরান। সেখানে সিয়াটলের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়, ‘ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি চরিত্রেরও পরীক্ষা।’