• ই-পেপার

‘বাজি’ জিতে কোচের কাছ থেকে উপহার চাচ্ছেন ভিনি

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্কোর ৭-১

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের স্কোর ৭-১
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বে ‘৭-১’ সংখ্যাটি শুনলেই ব্রাজিল সমর্থকদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে সেই দুঃস্বপ্নের পরাজয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে একই সংখ্যা এবার সেলেসাওদের জন্য নিয়ে এলো স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন আশার বার্তা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ শেষে ব্রাজিল করেছে ৭ গোল, হজম করেছে মাত্র ১টি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে কার্লো আনচেলত্তির দল ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিশ্চিত করেছে শেষ ৩২-এ জায়গা।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর একটি গোল যোগ করেন মাথেউস কুনিয়া। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল।

গ্রুপ পর্বে ৭ গোল করে মাত্র ১ গোল হজম করার ঘটনা ব্রাজিলের জন্য নতুন নয়। সর্বশেষ ২০০৬ বিশ্বকাপেও একই পরিসংখ্যান ছিল সেলেসাওদের। সেবার ক্রোয়েশিয়াকে ১-০, অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ এবং জাপানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিখুঁতভাবে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল তারা।

এবারও আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড—তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এর মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

আরো একটি পরিসংখ্যান ব্রাজিল সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে। এর আগে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন মাত্র চারজন—জর্জিনহো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনালদো ও রিভালদো (২০০২)। আর প্রতিবারই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা উঠেছিল ব্রাজিলের হাতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

গ্রুপে সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। তিন পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ড এখন সেরা তৃতীয় দলের আশা নিয়ে অপেক্ষা করছে। আর তিন ম্যাচেই হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে হাইতি।

আর্জেন্টিনার একাদশে মেসি-মার্তিনেজসহ আসছে বড় পরিবর্তন

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার একাদশে মেসি-মার্তিনেজসহ আসছে বড় পরিবর্তন
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপসেরা হয়ে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই নকআউট পর্বের টিকিট কেটে ফেলেছে। ফলে রবিবার জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি আলবিসেলেস্তেদের জন্য স্রেফ নিয়মরক্ষার। আর এমন এক সমীকরণের ম্যাচে শুরুর একাদশে বড়সড় ওলটপালটের আভাস দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিশেষ করে দলের দুই প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে নতুন ছক কষছেন এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের জোরালো গুঞ্জন, নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বাড়তি চাপ থেকে দূরে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে তার মাঠে নামাটা প্রায় নিশ্চিত। ধাপে ধাপে ফিটনেস ধরে রাখার পরিকল্পনায় মেসিকে হয়তো পুরো ম্যাচ খেলানো হবে না। তিনি কি শুরুর একাদশে থাকবেন নাকি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামবেন—সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচ শুরুর আগেই নেবেন স্কালোনি। চলমান বিশ্বকাপে ৫ গোল করে ইতিমধ্যেই গোল্ডেন বুটের রেসে সবার ওপরে আছেন এই কিংবদন্তি।

মেসির পাশাপাশি অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে নিয়েও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোচিং স্টাফ। সম্প্রতি ডান হাতের অনামিকায় চোট পেয়েছিলেন এই বাজপাখি। অবশ্য চোট কাটিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে গ্লাভস হাতে মাঠে নামার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এমি। শেষ পর্যন্ত স্কালোনি তাকে সবুজ সংকেত দেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে নিয়মিত একাদশের একঝাঁক তারকাকে বিশ্রামে দেখা যেতে পারে।

অস্ট্রিয়া ম্যাচে হালকা চোটের কারণে বাইরে থাকা গঞ্জালো মন্তিয়েল ফিরতে পারেন রক্ষণভাগে। নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে সেন্টার ব্যাকে জুটি বাঁধতে পারেন মার্কোস সেনেসি কিংবা ফাকুন্দো মেদিনা। আর বাঁ প্রান্ত সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন নিকোলাস তালিয়াফিকো।

মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগেও বড় পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের আগের প্রস্তুতি ম্যাচের কৌশলকে মাথায় রেখে সাজানো হতে পারে রবিবারের একাদশ।

মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন এজেকিয়েল পালাসিওস অথবা ভ্যালেন্তিন বারকো। উইংয়ে গতি বাড়াতে সুযোগ পেতে পারেন জুলিয়ানো সিমিওনে ও জিওভানি লো সেলসো।

আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় শুরুর একাদশে স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেজকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে সুযোগ মিলতে পারে হোসে লোপেজেরও।

আর যদি মেসিকে শুরুর একাদশে না রাখা হয়, তবে মাঠে তার চেনা ভূমিকা ও সৃজনশীলতা সামলানোর গুরুদায়িত্ব পড়তে পারে তরুণ তুর্কি নিকোলাস পাজের কাঁধে। 
 

ছবিতে রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন

ক্রীড়া ডেস্ক
ছবিতে রাজপুত্রের প্রত্যাবর্তন
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে আগেও ‘ডুবিয়েছিল’ বিতর্কিত এই রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে আগেও ‘ডুবিয়েছিল’ বিতর্কিত এই রেফারি
সংগৃহীত ছবি

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। মাঠের পারফরম্যান্সে আবারও আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, করেছেন জোড়া গোল। তবে ম্যাচের পর ব্রাজিলিয়ানদের এই বড় জয় ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোসের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ভিএআরের মারপ্যাঁচে পড়ে হ্যাটট্রিকবঞ্চিত হয়েছেন ভিনি, যা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক তারকারা।

চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও সেই ফর্ম ধরে রেখেছিলেন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রির দ্বিধার সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন তিনি। এরপর ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। কিন্তু সেলেসাওদের সেই গোল উদযাপনের আনন্দ স্থায়ী হয়নি। পিচ সাইড মনিটরে রিপ্লে দেখে রেফারি সিজার রামোস ফাউলের অজুহাতে গোলটি বাতিল করে দেন।

তার দাবি, বল কেড়ে নেওয়ার সময় হেনড্রিকে বাধা দিয়েছিলেন ভিনি। রেফারির এই সিদ্ধান্তে ডাগআউটে থাকা ব্রাজিলের কোচ ও ফুটবলাররা তাৎক্ষণিক ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বিতর্কিত সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হলেও দমে যাননি ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের শুরুতে স্কট ম্যাককেনার ভুলে ৭ মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন তিনি। প্রথমার্ধের ঠিক আগে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। মাঝে ২২ মিনিটের গোলটি বাতিল না হলে প্রথমার্ধেই ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় এক হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন ভিনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ম্যাচে মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোসের এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও সেলেসাওদের ম্যাচ নিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের সেই ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে রেফারি ছিলেন এই রামোস। সেদিন সুইজারল্যান্ডের সমতাসূচক গোলের আগে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, যা এড়িয়ে যান তিনি। এ ছাড়া ম্যাচের শেষভাগে পেনাল্টি বক্সে গ্যাব্রিয়েল জেসুস ফাউলের শিকার হলেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি এই মেক্সিকান।

সে সময় ম্যাচ শেষে ফিফার রেফারি কমিটির কাছে অফিশিয়ালি লিখিত অভিযোগও করেছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। বিশেষ করে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার না করার পেছনে রামোসের অনীহা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল তারা।