পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আইসিসির মে মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতলেন মুশফিকুর রহিম। আজ (২২ জুন) এক বিবৃতিতে মুশফিকের মাসসেরা হওয়ার খবর জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
মাসসেরা হওয়ার প্রতিযোগিতায় মুশফিক পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশ দলের সতীর্থ তাইজুল ইসলাম ও নেপালের দীপেন্দ্র সিং ঐরিকে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মুশফিকুর রহিম ষাটের বেশি গড়ে করেছিলেন ২৫৩ রান। মিরপুরে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি করেছিলেন ৭১ রান, সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১৩৭। এই পারফরম্যান্স তাকে সিরিজসেরার পুরস্কারও এনে দেয়।
অন্যদিকে, তাইজুল ছিলেন সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। বাঁহাতি স্পিনার ২ ম্যাচে ১৯.৬১ গড়ে নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। সিলেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রানের বিনিময়ে পান ৬ উইকেটের দেখা। পাশাপাশি সিরিজে ব্যাট হাতে ৫৮ রানও করেন তিনি।
এ নিয়ে টানা দুই মাস বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার মাসসেরা হলেন। গত এপ্রিলে এই স্বীকৃতি জুটেছিল আলোচিত ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার।
মুশফিকুর রহিম দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসির মাসসেরা হলেন। তিনি ছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এমন কীর্তি আছে শুধু সাকিব আল হাসানের।
আর কয়েক মিনিট পরেই বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া।
অধিনায়ক লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আছে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে।
তাই বলে কি আর্জেন্টিনাকে থামানোর কোনো উপায় নেই? অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক অন্তত মেসি-মার্তিনেজদের দুর্বলতা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বরং প্রতিপক্ষের বন্দনাতেই মেতেছেন।
ডালাসে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রাংনিকের সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটার দুর্বলতা কোথায়?’ ৬৭ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ বেশ নাটকীয় ঢংয়েই উত্তর দিয়েছেন, ‘চলুন, আমরা (আর্জেন্টিনার) দুর্বলতা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু সত্যি বলতে আমরা এমন কিছু খুঁজে পাইনি।’
আর্জেন্টিনার কোনো খুঁত খুঁজে না পেলেও দলটির শক্তির জায়গাগুলো ঠিকই চিহ্নিত রাংনিক। চ্যালেঞ্জটা পাহাড়সম হলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর ভরসা রাখছেন তিনি।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে চমক উপহার দিতে চান রাংনিক, ‘আমাদের খুব কৌশলী ও সাহসী হতে হবে। সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। একটা চমক হতে পারে। ম্যাচ ড্র হতে পারে, এমনকি আমরা জিতেও যেতে পারি। ফুটবলে সবই সম্ভব।’
ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসির গোলসংখ্যা এখন ১৬। আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের মালিক বনে যাবেন তিনি। সেটা হতে পারে আজ রাতেই।
তবে রাংনিক মনে করেন, শুধু মেসিকে নিয়ে পড়ে থাকলে ভুল হবে, ‘প্রতিটি পজিশনেই আর্জেন্টিনা অসাধারণ। তাদের শুধু মেসি নয়, আরো অনেকেই আছে।’
প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে ইংল্যান্ড। চোট নিয়ে কিছু সমস্যা থাকায় সেরা একাদশ নামাতে পারেনি ইংল্যান্ড দলের হেড কোচ থমাস টুখেল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের সেরা খেলোয়াড় উইঙ্গার বুকায়ো সাকা দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন।
পেশির ইনজুরির কারণে গত শনিবার থেকে সাকা ব্যক্তিগত অনুশীলনে ছিলেন। কয়েক মাস ধরে আর্সেনালের হয়ে ঘরোয়া মৌসুমে এই ইনজুরি তাকে বেশ ভুগিয়েছে।
ইংল্যান্ড দলের হেড কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছেন পানামার বিপক্ষে গ্রুপ-এল’র শেষ ম্যাচের আগে তিনি রাইট উইঙ্গার সাকার ফিটনেস নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। যদিও রোববার অনুশীলনে সাকা নিজের ফিটনেস প্রমাণ করেছেন।
আরো পড়ুন
রাস্তায় ঘুমানো আলীরেজাই ইরানের নায়ক
এ সম্পর্কে টুখেল বলেন, ‘আমি ফিজিও ডিপার্টমেন্টের কেউ নই। কিন্তু তিনি অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। যে কারণে আশাবাদী হওয়াই যায়। আমি মনে করি গত কয়েক বছর সাকা ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক আসর মিলিয়ে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। আর্সেনালের হয়ে সে লিগ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সে একজন অত্যন্ত উঁচু মানের খেলোয়াড় এবং তার প্রভাব মাঠে পুরো দলের ওপর পড়ে। সেটা আর্সেনাল কিংবা ইংল্যান্ড, যে দলই হোক না কেন। সবাই জানে দলের জন্য সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তার মতো খেলোয়াড়ের দলে প্রয়োজন রয়েছেন। এই ধরনের খেলোয়াড়কে সবসময়ই খেলানোর জন্য প্রস্তুত রাখতে হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’
একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সাকা ইংল্যান্ডের দলীয় ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছেন। ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের প্রথম ম্যাচে সাকা শেষ ১৮ মিনিট মাঠে ছিলেন। তার স্থানে আর্সেনাল সতীর্থ নোনি মাদুয়েকেকে মূল একাদশে খেলানো হয়।
১০০তম ম্যাচের আগে এমবাপ্পে বললেন, ‘আমি ইতিহাসের অংশ হতে চাই’
ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সের হয়ে আজ নিজেদের ১০০তম ম্যাচ খেলবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি : ফিফা
ফ্রান্সের জার্সিতে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন তিনি।
এবার ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আরেকটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে এমবাপ্পে। আজ রাতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত তিনি।
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া সব সময়ই আনন্দের। এর চেয়ে বড় কিছু নেই। ১০০ একটি ঐতিহাসিক সংখ্যা। আর বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পারা আমার জন্য বিশেষ ব্যাপার।’
ফ্রান্সের ইতিহাসে কমপক্ষে ১০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দশম ফুটবলার হতে যাচ্ছেন এমবাপ্পে। তবে সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক উগো লরিসের রেকর্ড থেকে এখনো অনেক দূরে আছেন। লরিস জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১৪৫ ম্যাচ।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবাপ্পে, ‘ম্যাচের ফলই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জিততে হবে। কারণ, জয় পেলেই আমরা পরের পর্বে উঠব।’
সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: এক্স
২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফ্রান্সের হয়ে অভিষেক হয় এমবাপ্পের। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার নাম হয়ে উঠেছেন তিনি। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে অলিভিয়ে জিরুর ৫৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে এখন তার নামের পাশে ৫৮টি আন্তর্জাতিক গোল।
বিশ্বকাপই মূলত এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি করেছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম তারকা ছিলেন তিনি। সেই আসরে করেছিলেন ৪ গোল।
এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে করেন ৮ গোল, যার মধ্যে ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্মরণীয় হ্যাটট্রিকও ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে শিরোপা হারাতে হয়েছিল ফরাসিদের।
নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে অধিনায়ক এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আমি জানি বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে আমি ৬ কোটি ৭০ লাখের বেশি ফরাসির প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি শুধু দেশের ইতিহাসের অংশ হতে চাই।’
বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড নিয়েও কথা বলেছেন এমবাপ্পে। বর্তমানে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা ১৪। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড এবার ছুঁয়েছেন লিওনেল মেসি। সেই রেকর্ড থেকে মাত্র দুই গোল দূরে রয়েছেন এমবাপ্পে।
এ প্রসঙ্গে ফরাসি অধিনায়ক বলেছেন, ‘জানতাম, লিও (মেসি) গোল করবে, সে সব সময়ই করে। রেকর্ড এখন তার দখলে। আমি তার ঠিক পেছনে আছি এবং গোল করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। এতে আমি রেকর্ডের আরো কাছে পৌঁছাব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলকে যত দূর সম্ভব, এগিয়ে নেওয়া।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা রসিকতা করেছেন এমবাপ্পে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো চল্লিশের ঘরে গিয়েও বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, এমন প্রশ্নে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে খেলব না। এর আগেই আপনারা আমাকে বিদায় করে দেবেন।’