• ই-পেপার

বিশ্বকাপের ‘কালো ঘোড়া’ নরওয়ে

জাপান কোচের অভিনব কৌশল ভাইরাল

ক্রীড়া ডেস্ক
জাপান কোচের অভিনব কৌশল ভাইরাল
জাপানের প্রধান কোচ মরিয়াসু (ডানে) ও তার এক সহকারী কোড ব্যবহার করে মাঠে বার্তা পাঠান। ছবি: এক্স

জাপানকে কেন এশিয়ার গর্ব বলা হয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডালাসে গতকাল রাতে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান। 

তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে এখন জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মরিয়াসু। ম্যাচের শেষ দিকে মরিয়াসুর ব্যবহার করা এক অভিনব কোচিং কৌশল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।

৮৮ মিনিট পর্যন্ত জাপান ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। তখন সাইডলাইনে মরিয়াসু ও তার সহকারীরা একটি সাদা বোর্ড ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বার্তা দেন। 

JAPAN
জাপানিদের গোল উদযাপন। ছবি: এক্স

বোর্ডে বড় করে বাকি সময়ের ক্ষণগণনা দেখানো হচ্ছিল— ‘৫ মিনিট’, ‘৪ মিনিট’, ‘৩ মিনিট’, ‘২ মিনিট’, ‘১ মিনিট’। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে জরুরি অবস্থার অনুভূতি সৃষ্টি করা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। এই কৌশলের সুফলও দ্রুত পান মরিয়াসু। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গোল করে জাপানকে সমতায় ফেরান দাইচি কামাদা। 

ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরিয়াসুর এই পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক তার উপস্থিত বুদ্ধি এবং খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার কৌশলের প্রশংসা করেছে। কেউ কেউ এটিকে আধুনিক ফুটবলে কার্যকর ও ব্যতিক্রমী কোচিংয়ের উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেছেন।

কেউ কেউ এই কৌশলের সমালোচনাও করেছেন। অস্ট্রেলিয়াকে এএফসি এশিয়ান কাপ ও টটেনহাম হটস্পারকে উয়েফা ইউরোপা লিগ জেতানো কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগুলু মনে করেন, সময়ের হিসাব দেখানোর কৌশলটি আকর্ষণীয় হলেও জাপানের খেলার ধরনে আরো বেশি আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা উচিত ছিল।

তবে যিনি যাই বলুন, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানো এবং কোচ মরিয়াসুর অভিনব নির্দেশনা বিশ্বকাপের শুরুতেই জাপানকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সাইডলাইনের এই দৃশ্যও এখন ফুটবল বিশ্বে অন্যতম আলোচিত বিষয়।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জাপানের পরের ম্যাচ আগামী রবিবার (২১ জুন); প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া। 

গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় স্পেনকে রুখে দিয়ে বিরতিতে কেপ ভার্দে

ক্রীড়া ডেস্ক
গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় স্পেনকে রুখে দিয়ে বিরতিতে কেপ ভার্দে
পাঞ্চ করছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছে কেপ ভার্দে। অভিষেক ম্যাচে আবার প্রতিপক্ষ ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন। বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ২ নম্বরে তারা। তবে শক্তি-সামর্থ্যে ঢের এগিয়ে থাকা স্পেনকে ঠিকই প্রথমার্ধে আটকিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার দ্বীপ রাষ্ট্রটি। 

আটলান্টা স্টেডিয়ামের প্রথমার্ধে কোন গোল হজম করেনি কেপ ভার্দে। তাতে বড় অবদান গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার। ম্যাচে ৩টি দুর্দান্ত সেভ দিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক। 

শুরু থেকেই বল পজিশন ধরে রেখে খেলা স্পেন ৩৬ মিনিটে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পায়। পেদ্রির শট কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভজিনহা। তবে কুকুরেলা অফসাইড হওয়ায় কর্নার বাতিল হয়।

অবশ্য ৩৮ মিনিটে গোল পেয়েই গিয়েছিল স্পেন। তবে ফেরান তোরেসকে হতাশ করে ক্রসবার। ফিরতি সুযোগ পেয়েছিলেন মিকেল ওয়ারজাবাল। নিখুঁত এক হেডও নিয়েছিলেন তিনি, তবে দারুণ এক ক্ষিপ্রতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন ভোজিনিয়া। ৪৫ মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত সেভ দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।

বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে শট নিয়েছিলেন তোরেস। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরে ফেলেন ভোজিনিয়া। যোগ করা সময়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক। বিরতিতে যাওয়ার আগে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে কর্নার পেয়েছিল স্পেন। পেদ্রির নেওয়া কর্নারে দারুণ এক হেড নিয়েছিলেন আমেরিক লাপোর্তে। তবে জালে জড়ানোর আগেই ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে গতিপথ বদলে দেন ভাজিনহা। তাতে ২০১০ বিশ্বকাপজয়ীদের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে।

ম্যাচের আগে ফ্লাইট বিলম্বে ফিফার সমালোচনায় উরুগুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচের আগে ফ্লাইট বিলম্বে ফিফার সমালোচনায় উরুগুয়ে

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ‘গ্রুপ’ এইচের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে মাঠে নামবেন। ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। মেক্সিকোর কানকুনে অনুশীলনের জন্য ক্যাম্প গেড়েছিল মার্সেলো বিয়েলসার দল। সেখানে থেকে মিয়ামি আসতে বাধে বিপত্তি। বিশৃঙ্খল ভ্রমণ বিলম্বের জন্য ফিফার তীব্র সমালোচনা করেছে উরুগুয়ে

সোমবার (১৫ জুন) মেক্সিকো থেকে মিয়ামিতে আসার জন্য ফিফার সরবরাহ করা চার্টার্ড বিমানের কাগজ ও অনুমতিপত্র ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তাতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিমানটিকে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে মেক্সিকোতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে উরুগুয়ে দল। এতে তাদের পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-ম্যাচ প্রস্তুতি ও শিডিউল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। 

সমস্যা সমাধানের জন্য ফিফাকে তড়িঘড়ি করে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করতে হয়। যার কারণে উড্ডয়নের সময় কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।

ফ্লাইট বিলম্বের মেক্সিকোর টিম হোটেলেই বাড়তি সময় বিশ্রাম নিতে বাধ্য হয় উরুগুয়ের ফুটবলাররা।

স্পোর্টস মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম দ্য অ্যাথলেটিক করা এক প্রশ্নের জবাবে উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানান, এই সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলার পেছনে শতভাগ দায় ফিফার।

এই চরম প্রতিকূল ভ্রমণ ক্লান্তি নিয়েই কয়েক ঘণ্টা পর মাঠে নামবে উরুগুয়ে।

খেলোয়াড়দের বিনা মূল্যে সেবা দেবে মাইকেয়ার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
খেলোয়াড়দের বিনা মূল্যে সেবা দেবে মাইকেয়ার
সৌজন্য ছবি

দেশের খেলোয়াড় ও অ্যাথলেটদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত মাইকেয়ার হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি খেলাধুলাজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও ইনজুরি ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘সমন্বিত স্পোর্টস মেডিসিন বোর্ড’ গঠন করেছে।

গত রোববার (১৪ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মাইকেয়ার হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের অর্থোপেডিক্স ও স্পোর্টস সার্জারির চিফ কনসালটেন্ট ডা. শেখ মু. আব্দুল্লাহ আল রাফি। তিনি জানান, খেলাধুলার সময় সৃষ্ট ইনজুরি, হাঁটুর ব্যথা, লিগামেন্টজনিত সমস্যা, মাংসপেশির আঘাত, পুনর্বাসন এবং পারফরম্যান্স উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে দেশের সব খেলোয়াড় ও অ্যাথলেট এই বিশেষ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক স্পোর্টস সার্জন এবং স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্টদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড খেলোয়াড়দের জন্য সমন্বিত মূল্যায়ন ও চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবে।

এই উদ্যোগের আওতায় সব নিবন্ধিত স্পোর্টসম্যান ও অ্যাথলেটদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে কনসালটেশন সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্পোর্টস ইনজুরি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ও সার্জারিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, একসঙ্গে তিনজন বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণের সুযোগ এবং পেশাদার খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ব্যবস্থাও থাকবে।

ডা. রাফি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য আধুনিক ও সমন্বিত স্পোর্টস মেডিসিন সেবা সহজলভ্য করাই আমাদের লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদানের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স উন্নয়ন এবং দ্রুত মাঠে ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি আরো জানান, বিনা মূল্যে এই বিশেষ ক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য আগাম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সেবা গ্রহণের সময় খেলোয়াড়দের ক্লাব আইডি কার্ড অথবা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের আইডি কার্ড সঙ্গে আনতে হবে।

মাইকেয়ার হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার আশা করছে, এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং খেলাধুলাজনিত আঘাত প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।