জার্মানি-কুরাসাও ম্যাচটি এমনিতেই আলোচনায়। আলোচনায় থাকার কারণ সকলের জানা। কুরাসাওকে ৭-১ ব্যবধানে জার্মানি বিধ্বস্ত করায় ব্রাজিলকে টেনে এনে অনেকে মজা নেওয়ায় ম্যাচটি আরও ব্যাপকভাবে আলোচনায়। কেননা ২০১৪ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের সমান ৭-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল এই জার্মানিই।
তবে এবার বিতর্কিত ঘটনার কারণে শিরোনামে এসেছে ম্যাচটি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) কক্ষে একটি ইশারা দিয়েছেন রেফারি শন ইভান্স। হাতের মাধ্যমে ইশারা দেওয়ায় তা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চরম ডানপন্থী গোষ্ঠীর সাইন দেখিয়েছিন বলে অনেক বলছে। আবার কেউ কেউ বলছে সম্মতির ইঙ্গি হিসেবে ‘ওকে’ দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রেফারি।
ভিএআর রুমে যে সাইন দেখিয়েছেন ইভান্স তা ছিল এমন। বুড়ো আঙুল ও তর্জনী একত্রে করে গোলচিহ্নের মতো করেন এবং বাকি তিন আঙুল প্রসারিত রাখেন। এটাকে সাধারণত ‘ওকে’ বা সম্মতির ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু চরম ডানপন্থী গোষ্ঠী এটিকে ‘হোয়াইট পাওয়ারের’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এমন সাইন ২০১৯ সালে আদালতে দেখিয়েছিলেন ব্রেন্টোন টাররেন্ট। যিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করে ৫০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।
এমন সাইন দেখানোর জন্য বিশ্বকাপের অফিশিয়াল প্যানেল থেকে তাকে বাদ দেওয়ার জন্য ফিফার কাছে আর্জি করেছে বৈষম্যবিরোধী সংস্থা ফেয়ার নেটওয়ার্ক। এক বিবৃতিতে তারা লিখেছে, ‘ফুটবলের একটি বৈশ্বিক আসরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্যানেল যখন ক্যামেরার সামনে থাকে, তখন তিনি কেন এমন ইঙ্গিত করলেন? এটি ইচ্ছাকৃতভাবে চরম ডানপন্থী প্রতীক প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়।’ তার এই সাইন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এখন ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
২০১৬ সালে পেশাদার রেফারি হিসেবে কাজ শুরু করেন ইভান্স। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরের বছর, ২০১৭ সালে ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো এভারে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার বিতর্কিত সাইনের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্যে করেনি ফিফা।




