• ই-পেপার

সারা দেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু, যেসব শিশু পাবে এই ক্যাপসুল

২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৪ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৪ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৭ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। রবিবার (২৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৪১ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১৬ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭১০ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৬১৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টেকসই অঙ্গদান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ চান সমাজকল্যাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
টেকসই অঙ্গদান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ চান সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অঙ্গদান বহু মরণাপন্ন রোগীর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মৃত রোগীর কিডনি ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত তাজা থাকে এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য জনগণের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

লাইভ ও ডিসিজড ডোনার ট্রান্সপ্লান্টেশন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাজার হাজার কিডনি রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) হারুন-উর- রশিদের সভাপতিত্বে রাফায়েল ইন্টারন্যাশনাল ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি, এশিয়ান সোসাইটি অব ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টার নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর কিউরি আন, অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্টার্ন সিডনি এলএইচডি ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিলের প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান, দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার স্থায়ী কমিশনার এমিরিটাস অধ্যাপক ইন সু্ং মুন, ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের এমডি অধ্যাপক হি ইয়ং শিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেফ্রোলজিস্ট, ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেন।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন।

দেশে বছরে মাত্র কয়েকশত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে মৃত ডোনার থেকে ট্রান্সপ্লান্টের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। আর্থিক সংকটের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় ট্রান্সপ্লান্ট সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন বলেও তারা জানান।

বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, সরকারকে কিডনি চিকিৎসা সেবাকে আরো সুলভ ও সহজলভ্য করতে নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। এ সম্মেলন মৃত ডোনার থেকে কিডনি দানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং ট্রান্সপ্লান্টেশন সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি সুষমা রেজা ও কুশালের বিচ্ছেদ

অনলাইন ডেস্ক
আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি সুষমা রেজা ও কুশালের বিচ্ছেদ
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সাইদুল আশরাফ কুশাল দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন। শনিবার (২৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা তার স্বামী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুশালের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানান।

ফেসবুক দেওয়া ওই পোস্টে কুশালকে ট্যাগ করে সুষমা রেজা লিখেছেন, অনেক ভেবেচিন্তে, দীর্ঘ আত্মসমালোচনার পর আমরা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কথাই আপনাদের জানাচ্ছি।

তিনি লিখেছেন, ‘এত দিন ধরে যারা আমাদের ভালোবেসেছেন, আমাদের পথচলার সঙ্গী হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই এই সংবাদটি কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে—সেটা আমরা বুঝি। সেই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই আমরা চেয়েছি, খবরটি অন্য কোথাও থেকে নয়, আমাদের দুজনের কাছ থেকেই আপনারা শুনুন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আমরা আপনাদের দোয়া কামনা করছি।’

খুব অল্প বয়সে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. সুষমা রেজা বলেন, ‘দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা একটি পরিবার গড়েছি, আমাদের সন্তানদের বড় হতে দেখেছি আর জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতি একসঙ্গে বয়ে নিয়ে চলেছি। সেই স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে সব সময়।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুজনই উপলব্ধি করেছি, আমাদের সম্পর্ক সেই জায়গাটিতে নেই, যেখান থেকে আমরা শুরু করেছিলাম। সময়ের সাথে সাথে আমরা বদলেছি, সম্পর্কটাও বদলেছে। একটা সময় পরিবর্তনগুলো দেখে আমরা বুঝতে পেরেছি, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই আমাদের দুজনের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।’

ডা. সুষমা আরো বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতোই আমাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, ছিল সংগ্রাম, ছিল সীমাবদ্ধতা, আবার ছিল অসংখ্য আশীর্বাদও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনারা আমাদের জীবনের যে মুহূর্তগুলো দেখেছেন, সেগুলো কখনোই একটি নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল না। ওগুলো ছিল আমাদের জীবনের সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমরা আন্তরিকভাবে বেঁচেছি, ভালোবেসেছি এবং আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করেছেন সে জন্য আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।’

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে একটি ব্যক্তিগত ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই অসংখ্য মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি অনুরোধ জানিয়েছে বলেছেন, ‘আমাদের জীবনের এই সময়টুকুকে অনুগ্রহ করে অনুমান, গুজব কিংবা বিচার-বিশ্লেষণের বিষয় করে তুলবেন না। প্রায় ২০ বছরের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছি আমরা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং এক ধরনের শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।’

ডা. সুষমা রেজা এবং ডা. কুশাল চিকিৎসক দম্পতি মানসিক স্বাস্থ্য ও সঠিক লাইফ স্টাইলের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এ ছাড়া তারা দুজনে মিলে ‘লাইফ স্পিং’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক কাজ পরিচালনা করতেন। নিজেদের জীবনের নানা সংগ্রামের গল্প সুন্দরভাবে তুলে ধরার কারণে মানুষ তাদেরকে ‘আইডিয়াল কাপল’ হিসেবেও গ্রহণ করে।

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে যা বলল বিএমইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে যা বলল বিএমইউ
সংগৃহীত ছবি

আইন, সুশাসন ও আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সই করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্রফেসর ইমেরিটাস পদে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সবার অবগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো। এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গৃহীত নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে এই নিয়োগকে ঘিরে একাধিক প্রক্রিয়াগত, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জারি করা অফিস আদেশে ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়। এই নিয়োগকালে তাকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি, চিকিৎসা সুবিধা এবং সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক দায় ছিল সীমিত এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে আবদ্ধ। এই নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সিন্ডিকেট এই নিয়োগ নিয়ে কোনো আপত্তি করেনি।

বিএমইউ জানায়, তার নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে ২০ জুন, ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম সভায় প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে প্রফেসর ইমেরিটাস পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আজীবন নিয়োগের বিধানসহ আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়। এটি ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের জন্য সিন্ডিকেট মিটিং। এই নিয়োগে অধ্যাপক আবদুল্লাহর মাসিক সম্মানি নির্ধারণ করা হয় অধ্যাপক হিসেবে তার অবসরে যাওয়ার সময়ের ভেতর ভাতার সমান। এর পাশাপাশি তিনি আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, স্টাফসহ অফিস ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। সিন্ডিকেটের বাজেট অধিবেশনে মূল এজেন্ডার বাইরে এই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন নজিরবিহীন ও বেআইনি। এতে প্রতীয়মান হয় যে এই নিয়োগ তড়িঘড়ি বিবেচনার মাধ্যমে একজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।

এ পর্যন্ত তিনি এই খাতে আনুমানিক সাড়ে ১৪ লাখ টাকারও বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাদেশের ধারা ৫ অনুযায়ী বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, উপাচার্য কর্তৃক মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদানের বিধান রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ক্ষেত্রে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কেবলমাত্র একজন সদস্যের প্রস্তাব অনুযায়ী তাকে আজীবনের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যোগ্যতা হিসেবে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই নিয়োগের পর গত প্রায় ২ বছর তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে আসেননি, শিক্ষাদান করেননি, কোনো গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেননি কিংবা প্রশাসনকেও অবহিত করেননি। কিন্তু ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস পদে নিয়োগের নজির রয়েছে। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোনো প্রফেসর ইমেরিটাসকে আজীবনের জন্য পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক এবং এ ধরনের বিস্তৃত আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানের নজির পাওয়া যায় না। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি পর্যালোচনাকালে দেখতে পায় যে এই ব্যবস্থার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও পুনরাবৃত্ত (Recurring) আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, ২০২২ সালের ব্যবস্থায় প্রফেসর ইমেরিটাস পদ ছিল একটি সীমিত সম্মানিভিত্তিক (Honorarium-based) পদ। কিন্তু ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে প্রচলিত রীতিতে দেওয়া সম্মানির পরিবর্তে কার্যত বেতন-সদৃশ আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এই পরিবর্তন প্রফেসর ইমেরিটাস পদের আর্থিক প্রকৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে এবং একটি সম্মানসূচক পদ কার্যত বেতনসদৃশ আর্থিক সুবিধাসংবলিত পদে রূপান্তরিত হয়েছে বলে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিএমইউ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি অনুযায়ী অর্থ কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের তত্ত্বাবধান এবং আর্থিক বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান। প্রফেসর ইমেরিটাস পদের এ ধরনের আর্থিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থ কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করা যুক্তিসংগত ও প্রত্যাশিত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে বিষয়টি অর্থ কমিটিতে উপস্থাপন, আর্থিক বিশ্লেষণ কিংবা অর্থ কমিটির সুপারিশের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে আর্থিক সুশাসনের বিষয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, বেআইনিভাবে এজেন্ডার বাইরে প্রস্তাব উত্থাপন করে, কোনো অধ্যাদেশ সংশোধনের পর একই সভায় সেই সংশোধিত বিধানের সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করা প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত এবং এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। বর্তমান সিন্ডিকেট গত ১৩ জুনের সভায় সমস্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ২৮ জুন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগকে বিধি বহির্ভূত বিবেচনায় বাতিল করতে বাধ্য হয়।

টাকা ফেতর দেয়ার বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বিধি অনুযায়ী যদি কোনো নিয়োগ পরবর্তীকালে প্রক্রিয়াগত বা আইনগত ত্রুটির কারণে বাতিল বা অকার্যকর বলে বিবেচিত হয়, তাহলে সেই নিয়োগের ভিত্তিতে দেয়া আর্থিক সুবিধাও পুনরুদ্ধারের বাধ্যবাধকতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রয়েছে। সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত সময়ের বেতনের টাকা ফেরত দেয়ার অনুরোধ করেছে। এটি প্রচলিত আইনের বিধান, কাউকে হয়রানি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য নয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়সমূহের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে যে, আজীবনের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস পদে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বাস করে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি রক্ষার স্বার্থে আইন ও বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।