প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো চালুর ঘোষণায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। তবে সব শ্রেণির কর্মীদের জন্য বিষয়টি সমানভাবে স্পষ্ট নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলের মূল সুবিধাভোগী হলেও পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকর হতে পারে। আর বিভিন্ন ভাতা চালু হতে পারে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে।
সূত্রে জানা গেছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে পুরো নতুন বেতনকাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে ভালো হতো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়নকে অধিক বাস্তবসম্মত মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে এ জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে কিভাবে, কোন ধাপে এবং কারা আগে এই সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।
বাজেট-পরবর্তী আলোচনা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নবম পে স্কেল এখনো সবার জন্য নিশ্চিত সুবিধা হয়ে ওঠেনি। বরং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে থাকা একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দটি সরাসরি ‘স্যালারি অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস’ খাতে না দেখিয়ে ‘নেট পাবলিক সার্ভিস’-এর আওতায় রাখা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্ভাব্য সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের গতির ওপর।
নবম পে কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট, গ্রেডভিত্তিক কাঠামো ও প্রথম ধাপে কত শতাংশ কার্যকর হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।








