• ই-পেপার

জাইমার অন্যরকম আড্ডা

ঋণ পুনর্গঠনে সিটি গ্রুপের পাশে ৩৬ ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
ঋণ পুনর্গঠনে সিটি গ্রুপের পাশে ৩৬ ব্যাংক

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া ঋণ পুনর্গঠনে একমত হয়েছে দেশি-বিদেশি ৩৬ ব্যাংক। গ্রুপটির বড় ধরনের আর্থিক সংকটে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ পুনর্গঠন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ব্যাংকগুলো কর্মকর্তারা হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

এ বৈঠকের যার মূল উদ্দেশ্য হলো, গ্রুপটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রভিশনিংয়ের (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) চাপ এড়ানো। ঋণগুলোকে এখনই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করে এ প্রস্তাবের আওতায় সেটি পুনর্গঠন করা এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো।

সিটি গ্রুপের এ ঋণগুলো এখনও শ্রেণীকৃত করা হয়নি। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা এ বৈঠকের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীটির বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং এখানে প্রায় ২৫ হাজার কর্মী কর্মরত আছেন।

অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে খরচ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিটি গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড) ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন। যদি ৩৬ট ব্যাংক একমত হয়, তবে তারা পর্ষদে বসার জন্য দুই বা তিনজন প্রতিনিধি মনোনীত করবে। এটি মূলত বৈশ্বিক ঋণ পুনর্গঠন মডেল এবং 'ওয়াটারফল মেকানিজম' অনুসরণ করে করা হচ্ছে।

এ প্রক্রিয়ায় ৩৬টি ব্যাংকের যৌথ মালিকানায় একটি কেন্দ্রীয় এসক্রো অ্যাকাউন্ট থাকবে। ওয়াটারফল মেকানিজমের আওতায়, সমস্ত নগদ অর্থ বা ক্যাশ ফ্লো এই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি হয়, তবে সেই টাকা প্রথমে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এরপর সেই ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা সিটি গ্রুপকে চলতি মূলধন হিসেবে ফেরত দেওয়া হবে এবং বাকি ২০ টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

একটি সূত্র জানায়, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের উদ্যোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও এই প্রস্তাবিত সমাধানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাসরুর আরেফিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জানিয়েছেন, সুবিধাগুলো চালু রাখতে এবং ব্যাংকগুলোকে ঋণের প্রভিশনের বোঝা থেকে বাঁচাতে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত ঋণগুলো খেলাপি না করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে বিশেষ অনুমোদন চাওয়া হবে। একটি স্বতন্ত্র মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে এবং এতে বাইরের পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।

একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে আমরা জানি না, তবে আমরা এ পদ্ধতিতে এগোচ্ছি। কোনো একটি ব্যাংক যদি এককভাবে পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু সব ব্যাংক একসঙ্গে কাজ করলে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’

২০২৩ সালে সিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের মৃত্যুর পর সমস্যার শুরু হয়। ব্যবস্থাপনায় একক নিয়ন্ত্রণের অভাবে গ্রুপটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

সিটি গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাসান বলেন, আর্থিক সংকটের জন্য মূলত বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান, ব্যাংকের সমর্থন কমে যাওয়া এবং টাকার তীব্র অবমূল্যায়নকে দায়ী করেন। আমদানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ২০২২ সাল থেকে আমরা ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান দিয়েছি, যা আমাদের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের সংকট তাদের কার্যক্রমকে আরও সংকুচিত করেছে, কারণ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে বা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি সরবরাহকারীরা কিছু স্থানীয় ব্যাংকের ইস্যু করা এলসি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তার মতে, টাকার অবমূল্যায়ন এবং ঋণের সীমা সংকুচিত হওয়ায়, গ্রুপটির ক্রয়ক্ষমতা প্রায় ৯০ কোটি (৯০০ মিলিয়ন) ডলার কমে গেছে। কার্যত আমরা প্রায় ৯০ কোটি ডলারের আমদানি সক্ষমতা হারিয়েছি।

তিনি বলেন, যখন ডলারের দাম বেড়ে গেল এবং ব্যাংকগুলো ঋণের সীমা কমিয়ে দিল, তখন গ্রুপের আমদানি সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন বেশ কয়েকটি ব্যাংক বড় করপোরেট গ্রাহকদের সহায়তা দিতে কার্যত অক্ষম হয়ে পড়ে। এক্সিম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা ফেরত পাওয়ার পরও আগের মতো সহায়তা দেয়নি।

যেমন ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকার একটি রিভলভিং ক্রেডিট লিমিট ছিল। ৫ আগস্টের পর সেই সুবিধা কার্যত ভেঙে পড়ে। বিদেশি সরবরাহকারী এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো কিছু স্থানীয় ব্যাংকের ইস্যু করা এলসি গ্রহণ করতে রাজি ছিল না, কারণ ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

আমরা এক্সিম ব্যাংককেও প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি, কিন্তু আগে যে সমর্থন পেতাম তা আর পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি ব্যাংকের এলসি কনফার্ম করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যার ফলে কাগজে-কলমে একটি ঋণ সুবিধা থাকলেও, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর মূল্য ছিল না। কারণ আমাদের সাপ্লায়াররা (সরবরাহকারীরা) সেটা গ্রহণ করত না।

মো. হাসান বলেন, এক সময় ব্যাংকগুলোতে আমাদের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সীমা বা ব্যাংকিং লিমিট ছিল। ডলারের বিনিময় হার যখন ৮৫ টাকা ছিল, তখন এর ক্রয়ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। কিন্তু ডলারের দাম ১২৫ টাকা হওয়ায়, সেই ক্রয়ক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ডলারে। এর মানে আমরা প্রায় ৯০ কোটি ডলারের আমদানি সক্ষমতা হারিয়েছি। বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক কার্যকর সহায়তা দিতে সক্ষম এবং তাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, আমরা ব্যাংকের অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে জিরো-কুপন বন্ড ছাড়ার পথও খুঁজেছিলাম। আমরা প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি বন্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু অনুমোদন পেতেই প্রায় ১৪ মাস সময় লেগে যায়। এ ধরনের বিলম্ব আর্থিক পরিকল্পনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। অনুমোদন যখন আসে ততক্ষণে বাজারের পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং সুদের হার অনেক বেড়ে গেছে।

সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘শুরুতে আমরা অর্থায়নের খরচ ১০ শতাংশের কাছাকাছি আশা করেছিলাম, কিন্তু বন্ড অনুমোদিত হওয়ার সময় বাজারের সুদের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশে উঠে যায়। যেহেতু সরকারি সিকিউরিটিজগুলোতেই ১২ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন দেওয়া হচ্ছিল, তাই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একটি করপোরেট বন্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ রেট অফার করার প্রয়োজন হতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ধরনের অর্থায়নের খরচ মোটেও টেকসই নয়। আমাদের এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চলতি মূলধন।’

এ ব্যবসায়ী বলেন, মুন্সীগঞ্জে ছয়টি শিল্প প্রকল্পের গ্যাস সংযোগে বিলম্বের কারণে সিটি গ্রুপের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে রয়েছে, অথচ এর বিপরীতে অর্থায়নের খরচ বা সুদ ক্রমাগত জমা হচ্ছে। গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত কিন্তু চালু করা যাচ্ছে না এমন প্রকল্পগুলোর কারণে সুদ, স্থায়ী খরচ, বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে আমাদের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানত হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা জমা দিয়েছি এবং গ্যাস অবকাঠামো তৈরিতে নিজেরাই বিপুল বিনিয়োগ করেছি। আইডিয়ালি সরকারের এই অবকাঠামোর বেশিরভাগ তৈরি করার কথা ছিল। প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে আমরা নিজস্ব খরচে পাইপলাইন ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা নির্মাণ করেছি, কিন্তু তবুও আমরা গ্যাস পাইনি" –তিনি যোগ করেন।

তিনি আরও বলেন,আমরা যখন এই বিনিয়োগগুলোর পরিকল্পনা করেছিলাম, তখন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশসহ সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা চালু ছিল। কিন্তু আমরা বিনিয়োগ করার পর নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে চিনি, ভোজ্যতেল, সিমেন্ট এবং স্টিলের মতো খাতগুলোকে সেই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ধরনের নীতিগত অসঙ্গতি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

হাসান বলেন, প্রকল্পগুলোতে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও যুক্ত আছেন। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একটি অংশীদারের সিমেন্ট ও কাগজ প্রকল্পসহ দুটি যৌথ উদ্যোগে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসব বিনিয়োগকারী কিছু প্রতিশ্রুতি এবং প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম শুরু না হওয়ায়, তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন বিকল্প হিসেবে এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (এক্সিট অপশন) বিষয়ে আলোচনা করছেন।

তিনি বলেন, গ্রুপটি ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করেছে তবে কেবল পুনর্গঠনই কোনো সমাধান নয়। কারখানাগুলো অবশ্যই চালু হতে হবে। চলতি মূলধন এবং জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া ঋণ পুনর্গঠন করা হলেও টাকা পরিশোধ করা অসম্ভব। আমাদের ব্যবসাগুলো যেহেতু আমদানিনির্ভর তাই ব্যাংকের সমর্থন অপরিহার্য।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জনশক্তি রপ্তানি কমছে

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জনশক্তি রপ্তানি কমছে

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও সৌদির কড়াকড়িতে জনশক্তি রপ্তানি কমছে। ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র পাওয়া কর্মীর সংখ্যা ৪৪ হাজার থেকে ৬৫ হাজারের মধ্যে রয়েছে। অথচ মহামারির পর প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার কর্মী বিদেশে যেতেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারি লক্ষ্যমাত্রার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির নির্বাচনী অঙ্গীকারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিএমইটির সূত্রমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬৫ হাজার ৬৩৪ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র পেয়েছেন। এরপর মার্চে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৪ হাজার ৬৫৮ জনে। এপ্রিলে ৪৮ হাজার ৮৫৯ জন এবং মে মাসে ৬০ হাজার ১১৯ জন কর্মী ছাড়পত্র পেয়েছেন। মে মাসে ৩০ হাজার ৫০৯ জন কর্মী নিয়ে সৌদি আরব ছিল বাংলাদেশি কর্মীদের শীর্ষ গন্তব্য। এরপর কাতারে গেছেন ৮ হাজার ৯০১ জন এবং সিঙ্গাপুরে ৫ হাজার ৬৮৩ জন। টিবিএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

কোভিড মহামারির আগে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার কর্মী বিদেশে যেতেন। মে মাসে ৬০ হাজার ১১৯ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা এপ্রিলের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা এখনো প্রায় ৪৩ শতাংশ কম।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে কর্মী নিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে দেশের শ্রম রপ্তানির গতি ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলো যেন কম দক্ষ কর্মীদের জন্য পুনরায় খোলে সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন সৌদি ভিসার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। জুনে আমরা মাত্র দুই-তিনটি নতুন সৌদি ভিসা পেয়েছি। মে মাসে এ সংখ্যা ছিল ছয়-সাতটির মতো, আর তার আগের মাসে ছিল প্রায় ১০ থেকে ১২টি।

৮ জুন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সংসদে জানান, আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন। দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী পাঠানো বাড়িয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৪৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৯৫ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী

ভবিষ্যতে মহামারি, সংক্রামক প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
ভবিষ্যতে মহামারি, সংক্রামক প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার
ফাইল ছবি

দেশে ভবিষ্যতে মহামারি ও সংক্রামক প্রতিরোধে সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, 'বাজেটের মধ্যেও সেটি যুক্ত করা হয়েছে।'

দেশে নার্সের প্রচুর সংকট আছে বলে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্য খাত এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। দেশে নার্স ও মিডওয়াইফের ব্যাপক সংকট রয়েছে। আর বর্তমানে যা আছে ৩ থেকে ৫ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন।

ঢাকায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

দেশের ৮০ ভাগ চিকিৎসক থাকছেন শহরে, অথচ ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখনও দেশ থেকে চিকিৎসক ও নার্স বিদেশে পাঠানোর মতো অবস্থা তৈরি হয়নি।

বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা, বেতন বৃদ্ধির রূপরেখা চূড়ান্তে বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা, বেতন বৃদ্ধির রূপরেখা চূড়ান্তে বৈঠক

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হবে। নতুব এই পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হবে। বিশেষ সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেন। 

বাজেট প্রস্তাব পেশের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কোনো পে স্কেল হচ্ছে না অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের কোনো বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না। কিন্তু জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে। তাই আমরা অবশ্যই এ দিকটা দেখব।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাবনা এবং সশস্ত্রবাহিনীর বেতন কাঠামোসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলায় সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা আর পৃথকভাবে বহাল থাকবে না বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরতরা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে কর্মরত চাকরিজীবীরা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পান।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই থেকে পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে ১০ম ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে ৩৫ শতাংশ। আর ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ। ফলে বাতিল হবে বিশেষ সুবিধা।