• ই-পেপার

সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা, পাঠানো হয়েছে চিঠি

স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান ‘যার যার ধর্মীয় রীতিতে’

জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে তিনি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

এর মাধ্যমে সংসদকক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের অবসান ঘটল।

স্পিকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য আপত্তি ও মতামত তুলে ধরেছিলেন। সে কারণে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ, সংসদকক্ষ ত্যাগ কিংবা নিজ আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। বিধিতে সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ থাকলেও কীভাবে তা করতে হবে, সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। অতীতে বিধিতে থাকা ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। যাঁর যাঁর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেদিন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদকক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে স্পিকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এরপর বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানান। তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

বাজেট আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা

টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জরুরি
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনাসমূহ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, গ্রিড আধুনিকীকরণ, শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, গৃহস্থালি ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রণোদনার সুযোগ বাড়াতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা : টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ড্রিম রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

সভায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু জলবায়ু বা পরিবেশগত প্রয়োজন নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য যে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

এ ছাড়া একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, বিনিয়োগ সহায়তা বৃদ্ধি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধরা’র সদস্যসচিব শরীফ জামিল বলেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এম. এস. সিদ্দিকী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেলকে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশগত সুবিধাগুলোর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে বাধা দূরীকরণ এবং যুবসমাজ ও নাগরিকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরো বক্তব্য দেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, বুয়েটের অধ্যাপক (অব.) ড. ইজাজ হোসেন, স্রেডা’র পরিচালক (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (জ্বালানি ও পরিবেশ) তানজিনা দিলশাদ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুক প্রমূখ।

ওয়াশিং মেশিন-মাইক্রোওয়েভ ওভেন ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ওয়াশিং মেশিন-মাইক্রোওয়েভ ওভেন ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি ঘিরে জাতীয় সংসদে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের উত্থাপিত এ দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ কটাক্ষমূলক মন্তব্য করলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পার্থর বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট সদস্যের জন্য ‘অসম্মানজনক’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্যদের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন আন্দালিব রহমান পার্থ। বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশের মানুষ একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংসদের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো এখানে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সংসদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা শুধু জনপ্রতিনিধিই নন, সংসদেরও প্রতিনিধি। দেশের ভেতরে ও বাইরে তারা সংসদের ভাবমূর্তি বহন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘জামায়াত এমপির ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দাবি’ শিরোনামের খবরের উল্লেখ করে বলেন, এমন সংবাদ তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত করেছে এবং সংসদের জন্যও অস্বস্তিকর।

বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরার জায়গা সংসদ। সেখানে একজন সদস্য যদি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দা না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তাহলে সেটি সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখা দরকার।

একাদশ সংসদে গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে এমপি পার্থ বলেন, যখন গাড়ি ও প্লটের মতো সুবিধা ত্যাগ করা হয়েছে, তখন কেন সংসদে দাঁড়িয়ে মাইক্রোওভেন বা ওয়াশিং মেশিন নিয়ে আলোচনা করতে হবে?

এ সময় কৌতুকের সুরে আন্দলিব রহমান পার্থ বলেন, যদি ভবিষ্যতে আমার ভাইয়ের মাইক্রোওভেন বা পর্দার প্রয়োজন হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইক্রোওভেন দিতে প্রস্তুত আছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, তিনি যেন একটি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে তাকেও পর্দার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করতাম। তাহলে আমরা মিলে তার সংসার গুছিয়ে দিতে পারতাম।

সংসদে উপস্থিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে পার্থর বক্তব্যেও প্রতি সমর্থন জানান। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। বাজেট অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তিনি নিজের জন্য নয়, সংসদের দেওয়া আবাসিক ভবনে থাকা সব সদস্যের সুবিধার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিষয়টি সংসদে না বললেও হতো। তবে তিনি এমন কোনো গর্হিত অপরাধ করেননি। সংসদ সদস্যদের আবাসনসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য সংসদীয় কমিটি রয়েছে। সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত।

তিনি আরো বলেন, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দা এমন কোনো বড় সুবিধা নয় যে তা নিয়ে সংসদে বড় ধরনের বিতর্ক হওয়া উচিত। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

পার্থর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, আপনি যেভাবে একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, সেটিও তার জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। তিনি নিজের জন্য চাননি, সবার জন্য চেয়েছেন। তাই এ নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই।

এরপর স্পিকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য সবার জন্য একটি দাবি উত্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি সংসদে না তুলে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে জানানো যেত।

তবে পার্থর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গাড়ি, প্লটসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। তিনি একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, কিন্তু নিজেই আবার সবকিছু দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়ে দিলেন। অথচ কেউ তার কাছে কিছু চাননি।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত নয় যে এখানে দাঁড়িয়ে কারো সম্মানে আঘাত করা হবে। সংসদে পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ফ্ল্যাটগুলোর দরজা-জানালায় এখনো পর্দা লাগানো হয়নি। পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্পিকারের সহায়তা কামনা করেন তিনি। পরদিন বৃহস্পতিবার সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সংসদে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অতিরিক্ত ১.৪ কোটি ইউরো দেবে ইইউ

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অতিরিক্ত ১.৪ কোটি ইউরো দেবে ইইউ
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। 

বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ সহায়তার ঘোষণা দেয়।

সংস্থাগুলো জানায়, ইইউর মানবিক সহায়তা এবং আগের উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি এই অর্থায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্য উপকৃত হবেন। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তাই এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, আজকের এই ১.৪ কোটি ইউরো সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষকে সহায়তা করবে, আর রোহিঙ্গাদের জন্য শিক্ষা ও কাজের দক্ষতা শেখার সুযোগ বাড়াবে। এতে তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের মর্যাদা রক্ষা করা, তাদের সক্ষম করে তোলা এবং সুযোগ এলে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মায়ানমারে ফেরার জন্য প্রস্তুত করা।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেনটেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেন, গত নয় বছর ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই সহায়তা তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা পাওয়া, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প, সীমিত সম্পদ এবং দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনের কারণে রোহিঙ্গারা অনেক ঝুঁকিতে আছেন। ক্যাম্পে নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত আলো, কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সহজে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকা জরুরি, যাতে শরণার্থীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা পায়। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মানবপাচার এবং শোষণের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের ফলে নারী ও শিশুদের জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে বাইরে যেতে হয় না, ফলে তাদের নিরাপত্তা বাড়ে। একই সঙ্গে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বন উজাড়ের চাপ কমায়। পাশাপাশি, জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো জরুরি, যাতে শরণার্থীরা সাহায্যের ওপর কম নির্ভর করেন এবং নিজের জীবনে নিজের ভূমিকা ও লক্ষ্য খুঁজে পান।

এতে বলা হয়, আগামী ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এই সহায়তা ঘোষণা করা হলো।  এ দিবসটি সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে নিজ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষের দৃঢ়তা ও শক্তিকে সম্মান জানানোর সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সহায়তাকারী, যারা মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো ও টেকসই সমাধানে জোর দেয়। জরুরি সেবা চালু রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা এখনো অনেক প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় ২০২৫-২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) বাস্তবায়নে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকার, মানবিক সংস্থা এবং দাতাদের সঙ্গে কাজ করছে। চলতি বছরে এই পরিকল্পনার জন্য ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন, যাতে নতুন আগতসহ ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জরুরি চাহিদা পূরণ করা যায় এবং তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।