কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একদিকে মেটার স্মার্ট চশমায় মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার গোপন উদ্যোগের তথ্য সামনে এসেছে, অন্যদিকে সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পেন্টাগনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ওয়্যার্ড-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটা পেন্টাগনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান র্যাংক ওয়ান কম্পিউটিং-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের রে-ব্যান ও ওকলি স্মার্ট গ্লাসে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির একটি প্রোটোটাইপ বা ডেমো তৈরি করেছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি অভ্যন্তরীণ প্রকল্পের আওতায় স্মার্ট গ্লাসের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও থেকে মানুষের পরিচয় শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছিল। এ উদ্দেশ্যে মেটার অ্যাপে প্রয়োজনীয় কোডও যুক্ত করা হয়েছিল, যদিও তা কখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের অজান্তে নজরদারির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সমালোচনার মুখে পরে মেটা সংশ্লিষ্ট কোড অপসারণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অ্যানথ্রপিক। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পরিচালনা বা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে ব্যবহারের ওপর থাকা নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও অ্যামোডেই বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সম্ভব হলেও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পেন্টাগনের চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনতে রাজি হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় অ্যানথ্রপিক ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আইনি বিরোধও সামনে এসেছে। কম্পানিটি অভিযোগ করেছে, সামরিক কাজে তাদের ক্লাউড চ্যাটবট ব্যবহারের নিয়ম শিথিল করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সরকারি সংস্থাগুলো তাদের পণ্য ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ নেয়।
চলতি বছরের ৯ মার্চ অ্যানথ্রপিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের প্রযুক্তিকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় সরকার তাদের কার্যত কালো তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করেছে।
গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) রয়টার্স এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে দাখিল করা নথিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মেটার স্মার্ট গ্লাস বিতর্ক এবং অ্যানথ্রপিক-পেন্টাগন বিরোধ দেখিয়ে দিচ্ছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গোপনীয়তা, নাগরিক অধিকার ও সামরিক ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন আরো তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানি ও সরকারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়েও নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।





