• ই-পেপার

২৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিলেন টেইলর ও ট্র্যাভিস

পর্তুগালে নিষিদ্ধ বই নিয়ে লাইব্রেরি চালু করলেন দুয়া লিপা

বিনোদন ডেস্ক
পর্তুগালে নিষিদ্ধ বই নিয়ে লাইব্রেরি চালু করলেন দুয়া লিপা
দুয়া লিপা, ছবি: ইন্সটাগ্রাম

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা দুয়া লিপা পর্তুগালের পোর্তো শহরে নিষিদ্ধ ও সেন্সরশিপের শিকার বই নিয়ে একটি স্থায়ী লাইব্রেরি চালু করেছেন। ‘দ্য ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি’ নামে এই উদ্যোগের লক্ষ্য মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বই পড়ার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা।

গত ২৭ জুন ‘বাবেল ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেস্টিভ্যাল’-এ লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করা হয়। এটি পর্তুগালের বিখ্যাত বইয়ের দোকান লিভ্রারিয়া লেলো-র ভেতরে অবস্থিত।

তত
দুয়া লিপা, ছবি: ইন্সটাগ্রাম

এটি দুয়া লিপার প্রথম ফিজিক্যাল লাইব্রেরি। তার ২০২২ সালে চালু করা সার্ভিস-৯৫ বুক ক্লাবেরই একটি সম্প্রসারিত উদ্যোগ এটি।

লাইব্রেরি উদ্বোধনের সময় দুয়া লিপা বলেন, কোনো বই নিষিদ্ধ হলে শুধু একটি গল্পই হারিয়ে যায় না, বরং হারিয়ে যায় মানুষের চিন্তা, মতপ্রকাশ এবং প্রশ্ন করার সুযোগ। তিনি বলেন, এই লাইব্রেরি সেই সব লেখক, বই ও পাঠকদের জন্য, যারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে বিশ্বাস করেন।

‘দ্য ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি’-তে ১০০টি বই রাখা হয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ হয়েছে অথবা সেন্সরশিপের মুখে পড়েছে। বইগুলো চারটি বিষয়ের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে—ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, কণ্ঠস্বর ও স্মৃতি।

দদদ
'দ্য ম্যানিফেস্টো লাইব্রেরি' নামের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এমন বইগুলোকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা, যেগুলো মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করে এবং সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে বার্তা দেয়।

সংগ্রহে রয়েছে মার্গারেট অ্যাটউডের দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল, জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪, সিমোন দ্য বোভোয়ারের দ্য সেকেন্ড সেক্স, ইয়োকো ওগাওয়ার দ্য মেমোরি পুলিশ এবং সালমান রুশদির দ্য স্যাটানিক ভার্সেস-এর মতো আলোচিত বই।

দুয়া লিপা বলেন, তিনি চান এই লাইব্রেরি লেখক ও পাঠকদের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা হয়ে উঠুক। যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে বই পড়তে, নতুন ধারণা জানতে এবং মতবিনিময় করতে পারবেন।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্কুল ও পাবলিক লাইব্রেরিতে বই নিষিদ্ধ করার ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাঠকদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বইগুলো তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন দুয়া লিপা।

পরিবেশ সচেতনতার কথা বলতে গিয়ে ট্রলের শিকার দিয়া মির্জা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পরিবেশ সচেতনতার কথা বলতে গিয়ে ট্রলের শিকার দিয়া মির্জা

২০০০ সালে ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল’ খেতাব জিতে লাইমলাইটে আসেন দিয়া মির্জা। ২০০১ সালে ব্লকবাস্টার ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ দিয়ে বলিউডে তার অভিষেক। এরপর তিনি লাগে রাহো মুন্না ভাই, সঞ্জু, দশ, হানিমুন ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, থাপ্পড়-এর মতো জনপ্রিয় ও আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন।

২০২১ সালে ব্যবসায়ী বৈভব রেখিকে বিয়ের পর থেকে অভিনয়ে অনিয়মিত দিয়া। ৫ বছর বয়সী ছেলে অভ্যিয়ান রেখি এবং বৈভবের আগের পক্ষের কন্যা ১৭ বছর বয়সী সামায়রা রেখিকে নিয়ে দিয়া মির্জা এখন বলিউডের সুখী পরিবারের ছবি।

ওটিটিতে বেছে বেছে কাজ করলেও দিয়া মির্জা এখন অভিনেত্রী নন, পরিবেশকর্মী হিসেবে বেশি পরিচিত। নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস থেকে তিনি পরিবেশ সচেতনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর তথ্যচিত্র ও শর্টফিল্ম বানান। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যক্তিগত জীবনে প্লাস্টিক ব্যবহার পুরোপুরি বর্জন করেছেন দিয়া।

সমুদ্রসৈকত প্লাস্টিকমুক্ত করা, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, গাছ লাগানোর জন্য তিনি নিয়মিত ক্যাম্পেইন করেন। পরিবেশবান্ধব বাঁশের কাগজের ব্যবসা এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিং স্টার্টআপের সঙ্গেও যুক্ত দিয়া মির্জা। পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক নানা দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। দিয়া জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির শুভেচ্ছা দূত। এ ছাড়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একজন বিশেষ দূত তিনি।

পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজের জন্য ২০২৩ সালে বিবিসি তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান দেয়। তবে পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে কাজ করা আর আন্তর্জাতিক নানা স্বীকৃতিতে কিছুই যায় আসে না নেটিজেনদের। সম্প্রতি এক পডকাস্টে পরিবেশ সচেতনতার কথা বলতে গিয়ে নেটিজেনদের ট্রলের শিকার  হয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রী সোহা আলী খানের পডকাস্টে দিয়া মির্জা তার ৫ বছরের ছেলে অভ্যিয়ানের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। একবার এক ডেলিভারি বয় ডাব নিয়ে তাদের বাসায় এসেছিল। প্লাস্টিকের ব্যাগে ডাব আনতে দেখে বিরক্ত হয়েছিলেন দিয়া। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘বেচারা (ডেলিভারি বয়) জানত না কার বাসায় প্লাস্টিক নিয়ে এসেছে।’ মায়ের পরিবেশ সচেতনতার কথা জানে ৫ বছরের ছেলে অভ্যিয়ানও। দরজা খুলে অভ্যিয়ান কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ায় এবং  ডেলিভারি বয়কে বলে, ‘ভাইয়া প্লাস্টিক ব্যাগে এনেছেন কেন? আমাদের বাসায় প্লাস্টিক নিষেধ। আপনি এটাকে প্লাস্টিক থেকে বের করুন, নিচে রাখুন এবং প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্লাস্টিক স্ট্র নিয়ে যান।’

সোহাও পডকাস্টে অভ্যিয়ানের সচেতনতার প্রশংসা করে বলেন, ‘ভেবে দেখো, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বিশ্বাসের জায়গায় এভাবে অটল থাকা!’

কিন্তু পডকাস্টের এ ক্লিপ ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন দিয়া মির্জা ও তার ছেলে। সোহা আলী যাকে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকা বলছেন, নেটিজেনদের কাছে সেটাই মনে হয়েছে অহঙ্কার। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এদের অধিকারবোধের বাড়াবাড়ি সত্যিই অবিশ্বাস্য, এটা তাদের মৌলিক সম্মান এবং ভদ্রতাবোধকেও অন্ধ করে দেয়। আপনি যদি প্লাস্টিক না চান, তবে নিজেই ঠেলাগাড়িতে গিয়ে কিনে আনুন এবং কাগজের ব্যাগে করে বহন করুন।’

আরেকজন দিয়া মির্জাকে ভণ্ড হিসেবে অভিহিত করে লিখেছেন, ‘আপনি যদি পরিবেশ বাঁচানোর বিষয়ে সত্যিই এত গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে ডাবের পানির জন্য বিক্রেতার কাছে স্টিলের পাত্র নিয়ে যান। বিক্রেতাকে আপনার বাড়িতে এসে পৌঁছে দেওয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই দিন।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘এই ভিডিওটি দুটি ভিন্ন ভারতকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, একটা ছেলে যার বাস্তব পৃথিবী কীভাবে চলে সে সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, যে প্লাস্টিক নিয়ে চিন্তিত; এবং একজন ডেলিভারিম্যান যার মূল ফোকাস হলো কোনোমতে দিন গুজরান করা।’

তবে অভিনেত্রী ও দিয়া মির্জার ঘনিষ্ঠ রিচা চাড্ডা নেটিজেরদের ওপর পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তারকাদের ওপর মানুষের আক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আপনারা সবাই অবাক হন যে কেন অভিনেতারা মুখ খোলেন না?  মুখ খুললে নিয়মিত কিছু মগজহীন সন্দেহভাজনের হেনস্তা সইতে হয়।’ ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, ‘অবশ্যই তারকাদের ওপর চড়াও হোন ভাই, অভিনেতাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কী বা আর আসে যায়। মাঝেমধ্যেই তো আত্মহত্যা করে মুখরোচক খবরের জোগান দেওয়াও শিল্পীদের দায়িত্ব হওয়া উচিত। তাই না?’

ক্ষিপ্ত রিচা লিখেছেন, ‘সচেতন নারীরা যদি তাদের সিলেবাসের বাইরে কোনো কথা বলেন, তবে তাদের লজ্জিত করা হবে। যেন তারা শুধু লিপস্টিক, বিকিনি, মেকআপ নিয়েই কথা বলবে।’

দিয়া মির্জার পরিবেশ সচেতনতার নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রিচা লেখেন, ‘এই বিষয়গুলো একটু খুঁজে দেখুন, কারণ আপনারা যদি একটি ৫ বছরের বাচ্চাকে হেনস্তা করতে পারেন, তবে গুগলে একটা সাধারণ সার্চও করতে পারবেন, তাই না?’

রিচা লেখেন, ‘দিয়া পরিবেশ রক্ষার জন্য একদিনে যা করেন, এসব ইউটিউবার আর ব্লগাররা সারা বছরেও তা করেন না।’ দিয়া মির্জার বিলাসী জীবনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রিচা জানান, দিয়া তার বিয়েতে ১১০০ গাছ উপহার দিয়েছিল।

শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, ভোট দেবেন ৫৭৩ শিল্পী

অনলাইন ডেস্ক
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, ভোট দেবেন ৫৭৩ শিল্পী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে শুক্রবার সাড়ে ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ও বেলা ১টা থেকে থাকবে এক ঘণ্টা নামাজের বিরতি।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ভোটার, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে প্রাঙ্গণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এবারের নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একটি প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান, সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। আরেকটি প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন জয় চৌধুরী। অন্যদিকে ১১টি কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদের বিপরীতে দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই গণনা শুরু হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আজই ঘোষণা করা হবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির ফলাফল।

যুক্তরাষ্ট্রে স্টেডিয়াম কিনে শাহরুখ খানের ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে স্টেডিয়াম কিনে শাহরুখ খানের ইতিহাস

বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সাফল্যের তালিকায় এবার যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। এবার ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনায় নির্মিত ‘নাইট রাইডার্স ক্রিকেট গ্রাউন্ড’-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক মাইলফলক গড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে নিজেদের উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ ও পরিচালনার পথে হাঁটল তারা।

নতুন এই ভেন্যুতে বুধবার রাতে প্রথমবারের মতো মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স মুখোমুখি হয়েছিল ওয়াশিংটন ফ্রিডমের। নিজেদের নতুন মাঠে অভিষেকটা সুখকর হয়নি শাহরুখ খানের দলের। আট উইকেটের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। তবে পরাজয়ের আড়ালেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নতুন স্টেডিয়ামটি, যা যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামটি আইসিসির সব ধরনের নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। মাঠের কেন্দ্রীয় স্কয়ারে রয়েছে আটটি পিচ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নির্ধারিত পরিমাপের খেলার মাঠ এবং ১২০ ফুট উচ্চতার ছয়টি ফ্লাডলাইট টাওয়ার। নির্মাণকাজে প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মাটি স্থানান্তর করতে হয়েছে। আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে এটিকে উত্তর আমেরিকার ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই মাঠটির গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে আরেকটি কারণে। ২০২৮ সালের লসঅ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরে আসছে বহু বছর পর, আর সেই প্রতিযোগিতার ক্রিকেট ম্যাচগুলোর অন্যতম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে এই স্টেডিয়াম। ফলে শুধু মেজর লিগ ক্রিকেট নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে এটি।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জন্য স্থায়ী আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের সংখ্যা খুবই সীমিত। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ ইয়র্কে যে মাঠে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল, সেটি ছিল অস্থায়ীভাবে তৈরি করা ভেন্যু। কিন্তু পোমোনার এই স্টেডিয়ামটি বছরজুড়ে ক্রিকেট আয়োজনের জন্য স্থায়ীভাবে নির্মিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন নাইট রাইডার্স গ্রুপের সহমালিক শাহরুখ খান।

তিনি লিখেছেন, ‘যা একদিন শুধু একটি স্বপ্ন ছিল, আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফেয়ারপ্লেক্স এবং নাইট রাইডার্সের অংশীদারত্ব শুধু একটি ক্রিকেট মাঠ তৈরির জন্য নয়, বরং এমন একটি জায়গা গড়ে তোলার জন্য, যেখানে খেলাধুলার পাশাপাশি বিনোদন, পরিবার এবং মানুষের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো জায়গা করে নেবে। আমরা চাই এটি আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করুক।’

নাইট রাইডার্স স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভেঙ্কি মহীশূরও এই প্রকল্পকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি স্টেডিয়াম নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে নাইট রাইডার্সের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

তিনি বলেন, এমন একটি ভেন্যু গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য ছিল, যেখানে খেলোয়াড়রা খেলতে আগ্রহী হবে, দর্শকেরা উপভোগ করবেন এবং স্থানীয় সম্প্রদায় এটিকে নিজেদের ক্রিকেটের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করবে।

স্টেডিয়ামটির প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও (আইসিসি)। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ভেন্যুর ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে, মেজর লিগ ক্রিকেটে অবশেষে নাইট রাইডার্সের নতুন স্টেডিয়াম যাত্রা শুরু করল, যা দেখতে দৃষ্টিনন্দন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উদ্বোধনী আয়োজনকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে আনুষ্ঠানিক প্রথম বল করেন সাবেক এনবিএ চ্যাম্পিয়ন মেটা ওয়ার্ল্ড পিস, যিনি একসময় রন আর্টেস্ট নামে পরিচিত ছিলেন। সাবেক লস অ্যাঞ্জেলেস ল্যাকার্স তারকার উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে ক্রিকেটের বাড়তে থাকা সংযোগেরই প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী কয়েক দিনে মেজর লিগ ক্রিকেটের একাধিক ম্যাচ এই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের বিশ্বাস, বিশ্বমানের এই ভেন্যুকে কেন্দ্র করে লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে খেলাটির প্রসারে নতুন গতি যোগ হবে।

বর্তমানে শাহরুখ খানের নাইট রাইডার্স গ্রুপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক। তাদের অন্যতম সফল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স, যারা তিনবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শিরোপা জিতেছে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্সও সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি। এবার সেই সফলতার পরিধি মাঠের বাইরেও বিস্তৃত হলো আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের মাধ্যমে। অনেকের মতে, এটি শুধু নাইট রাইডার্স গ্রুপের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যও একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।