ভারতের ব্লকবাস্টার ‘পুষ্পা’ সিনেমায় মূল্যবান লাল চন্দন পাচার করে কোটি কোটি রুপি কামিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা আল্লু আর্জুন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি অভিনব সব কৌশল বেছে নিতেন। পুষ্পা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তেমন এক অভিনব কায়দায় মাদক পাচারের চেষ্টা করেছিল তেলেঙ্গানার একটি চক্র। সিনেমায় সফল হলেও বাস্তবে পাচারকারীরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেছে।
পুষ্পায় লাল চন্দন পাচারের জন্য আল্লু আর্জুন নানা কায়দা অবলম্বন করতেন। তার মধ্যে একটি ছিল দুধের ট্যাঙ্কারের নিচে গোপন কুঠুরি বানিয়ে তাতে লাল চন্দন পাচার করা। তেমনিভাবে পাচারকারীরা একটি কন্টেইনারে গোপন কুঠুরি বানিয়ে গাঁজা পাচার করছিল। কিন্তু পুষ্পা সিনেমা তো শুধু পাচারকারীরা দেখেনি, পুলিশও নিশ্চয়ই দেখেছে। তাই গোপন কুঠুরি আর গোপন থাকেনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেলেঙ্গানার ঈগল ফোর্স এবং ভদ্রাদ্রি কোঠাগুদেম পুলিশ যৌথভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি কনটেইনার ট্রাক এবং সেটির পাহারায় থাকা একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করে।
মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ দলটি আইটিসি পেপারস বোর্ড ওয়েস্ট গেটের কাছে যানবাহন দুটিকে আটকে দেয়। গোপন কুঠুরি থেকে পুলিশ ২ কোটি ৬২ লাখ রুপি মূল্যের ৫২৫ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই গাঁজা ওড়িশার আল্লুরিকোটা বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তেলেঙ্গানায় প্রবেশের আগে তা অন্ধ্রপ্রদেশের তুলাসিপাকা হয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চালানটি খাম্মাম, ওয়ারাঙ্গল, আদিলাবাদ এবং মহারাষ্ট্র হয়ে উত্তর প্রদেশে যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে ওড়িশার একজন মাদক সরবরাহকারী, অন্ধ্রপ্রদেশের একজন এসকর্ট আরোহী এবং উত্তর প্রদেশের এক ট্রাক চালক। এই চক্রের আরো কয়েকজন সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ। সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছেন কন্টেইনার ট্রাকের মালিক এবং মাদকের সম্ভাব্য গ্রাহকরাও।







