• ই-পেপার

মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের মুখে হাসি ফেরান ‘পুতুলওয়ালা’ মুস্তাফা মনোয়ার

মনে মনে শাহরুখের প্রেমিকা, পর্দায় হতে হয়েছিল বোন

অনলাইন ডেস্ক
মনে মনে শাহরুখের প্রেমিকা, পর্দায় হতে হয়েছিল বোন

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের অন্ধ ভক্ত তিনি, মনে মনে তার প্রেমে হাবুডুবুও খাচ্ছেন। অথচ রুপালি পর্দায় তাকেই হতে হয়েছিল শাহরুখের বোন! ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কভি হ্যাঁ কভি না’-তে শাহরুখ খানের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী সাদিয়া সিদ্দিকি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সিনেমায় বাধ্য হয়ে অভিনয় করা এবং শুটিং সেটের একঝাঁক অম্লমধুর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি।

১৯৯৩ সালে ‘হামরাহি’ ধারাবাহিকে সাদিয়ার অভিনয় দেখে তাকে এই চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে শুরুতে চরিত্রটি করতে একেবারেই রাজি ছিলেন না সাদিয়া। কারণ হিসেবে তিনি জানান, শাহরুখের প্রতি তার মনে কোনো ভাইবোনের অনুভূতি ছিল না। বরং তিনি মনে মনে ভয় পেয়েছিলেন যে তার আসল ভালো লাগার অনুভূতিটাই যদি ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায়, তবে দর্শকের কাছে তা মোটেও বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না। সাক্ষাৎকারে সাদিয়া বলেন, ‘আমি যখন এই ছবির জন্য নির্বাচিত হই, তখন আমি শাহরুখের প্রেমে বুঁদ। আমার চোখে তখন ও ছাড়া আর কেউ ছিল না। সেই সময়েও ওকে ভালোবাসতাম, এখনো ওকেই ভালোবাসি।’

সিনেমায় বোনের চরিত্রের প্রস্তাব পাওয়ার পর সাদিয়া পরিচালকের কাছে শাহরুখের নায়িকা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। শেষ পর্যন্ত কাজটি কঠিন হলেও পেশাদারির খাতিরে সাদিয়া পর্দায় নিজের মনের অনুভূতি লুকিয়ে রাখেন। নিজের অভিনয়ের দক্ষতার জোরে চোখের ভাষায় ফুটিয়ে তোলেন নিখুঁত এক বোনের চরিত্র। তবে মনের এই গোপন কথাটি শাহরুখকে কোনো দিন সরাসরি মুখে বলা হয়ে ওঠেনি সাদিয়ার। প্রেমের কথা জানাতে না পারলেও শুটিং সেটে শাহরুখের কাছ থেকে পাওয়া যত্ন ও ব্যবহার আজীবন মনে রাখার মতো বলে জানান সাদিয়া। শট শেষ হওয়ার পর শাহরুখের একেকটি ছোট ছোট আচরণ তার মনে দাগ কেটে গিয়েছিল।

সাদিয়া স্মৃতিচারণা করে বলেন, শট শেষ হতেই শাহরুখ আমার কাছে এসে বলেছিল—‘রোদে কেন বসে আছ? গাড়িতে গিয়ে বসো, পানি খাও।’ শাহরুখ যে আমাকে আলাদা করে মনে রাখবেন, সেটাই আমি কখনো ভাবতে পারিনি। শুধু তা-ই নয়, উনি আমাকে জড়িয়েও ধরেছিলেন। বাধ্য হয়ে বোনের চরিত্রে অভিনয় করলেও কিং খানের সেই আন্তরিকতা ও স্নেহ আজও সাদিয়ার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

সূত্র : এই সময়

মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে বাংলা একাডেমির শোক

অনলাইন ডেস্ক
মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে বাংলা একাডেমির শোক
সংগৃহীত ছবি

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। সোমবার (২৯ জুন) একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এক শোকবার্তায় এই সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোকবার্তায় প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।

শোকবার্তায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার চিত্রকলায় যেমন নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি পাপেটশিল্পের মাধ্যমে কয়েক প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মাঝে শিক্ষামূলক বিনোদনের আলো ছড়িয়েছেন।’ 

শোক বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ এ দেশের গণমাধ্যমের সৃজনশীল বিকাশে তার অবদান অবিস্মরণীয়। সুদীর্ঘকাল ধরে দেশের সাংস্কৃতিক জগৎকে তিনি তার উদ্ভাবনময়তা, মেধা এবং শ্রমনিষ্ঠ সাধনায় ঋদ্ধ করে গেছেন।

এর আগে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা নিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯০ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পী। দীর্ঘ বর্ণিল কর্মজীবনে শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাকে রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা কাল

অনলাইন ডেস্ক
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা কাল

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ছেলে সাদাত মনোয়ার। সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টায় হাসপাতালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, আগামীকাল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় শহীদ মিনারে। তবে, আজ বাড়িতেই রাখা হবে মরদেহ। বনানী কবরস্থানে দাফন করতে চায় পরিবার।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের সন্তান।

নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও পরে নিজের আগ্রহের টানে কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে চারুকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পপতারকা ম্যাডোনার ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পপতারকা ম্যাডোনার ক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। ফ্যাশন সাময়িকী ‘ভোগ ইতালিয়া’-কে দেওয়া এক নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এআই-এর ওপর নির্ভর করা হলো মূলত ‘শিল্পকর্ম তৈরির বিপরীত’।     ’

ম্যাডোনা মনে করেন, বর্তমান সময়ে শিল্পীদের মূল মনোযোগ কাজের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলোয়ার বা সংখ্যার দিকে চলে গেছে। তিনি নিজের পুরনো দিনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, আগে চিত্রশিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে একে অপরের জন্য কাজ করতেন। কিন্তু আজকাল রেকর্ড ডিল বা কাজের চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কার কত ফলোয়ার আছে, তা নিয়ে বেশি ভাবা হয়।

সংখ্যার এই প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ম্যাডোনা তার ‘ব্রিং ইওর লাভ গানের লাইনের উদাহরণ দেন। গানটিতে তিনি বলেছিলেন, ‘সংখ্যা দিয়ে আমাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করো না’। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চার্ট বা স্ট্রিমিংয়ের সংখ্যা নিয়ে কখনো মাথা ঘামাননি জানিয়ে এই পপ তারকা বলেন, অ্যালগরিদম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো ঝুঁকি নেওয়ার বিপরীত, আর আমার কাছে তা শিল্প সৃষ্টিরও বিপরীত।

নতুন গান তৈরির অনুপ্রেরণা খোঁজার কৌশল নিয়ে ম্যাডোনা জানান, সৃজনশীল কাজের সময় তিনি প্রযুক্তি এবং সামাজিক ব্যস্ততা থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রাখেন। সম্প্রতি নিজের রেকর্ডসহ নানা কারণে কঠিন সময় পার করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিরতি নিতে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যেতে পছন্দ করি, কারণ এভাবেই কল্পনাকে উজ্জীবিত করা যায়। এর জন্য স্থিরতা প্রয়োজন। এমন কিছু দিন থাকা দরকার যখন আপনি শুধু প্রকৃতি, নিজের সন্তান ও ঘোড়াগুলোর সাথে সময় কাটাবেন।

প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ম্যাডোনা এবারই প্রথম কথা বললেন তা নয়। এর আগে তার ‘কনফেশনস টু – দ্য ফিল্ম’ সিনেমার প্রিমিয়ারে এক প্রশ্নোত্তর পর্বেও তিনি এর সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আপনাদের ফোনগুলো নামিয়ে রেখে (একে অপরের সঙ্গে) সংযুক্ত হোন।