• ই-পেপার

যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১৯

সাইফুল্লাহ হত্যা : বিচার দাবিতে রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইফুল্লাহ হত্যা : বিচার দাবিতে রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধায় শিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির। রবিবার (২১ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ।

সমাবেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করলেও আজ ক্ষমতায় এসে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই স্বৈরাচারী ও খুনের রাস্তা অবলম্বন করেছে। অনতিবিলম্বে এই খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে আওয়ামী লীগের মতো আপনাদেরকেও দেশের জনগণ দেশছাড়া করবে।

তিনি বলেন, গাইবান্ধায় আমাদের ভাই সাইফুল্লাহর ওপর যে বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। বিএনপি-যুবদলের এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে সাইফুল্লাহর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

সমাবেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বর্তমান বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই। দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে রক্ষা করার জন্য ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে সদা প্রস্তুত। যারা ক্ষমতার মোহে দেশে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তারা এখনই সতর্ক না হলে ৫ বছরও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, ডাইনি হাসিনার গুম-খুনের রাজনীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিএনপি আজ একটি নতুন ডাকাত দলে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, খুনি হাসিনা বলত, এ দেশ তার বাপের দেশ। আর এখন নব্য ফ্যাসিস্ট দল বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে দেশের জনগণ যেন বাংলাদেশ তাদের কাছে ইজারা দিয়েছে। দেশের প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক-বীমা, মাঠ-ঘাটসহ এমন কোনো জায়গা বাকি নেই, যেখানে তারা দখলদারি এবং ডাকাতি করেনি। তাদের এই চরম অত্যাচার ও জুলুমের কারণে দেশের মানুষ আজ তীব্রভাবে ত্যক্ত-বিরক্ত।

দপ্তর সম্পাদক উল্লেখ করেন, ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও ছাত্রদল মিলে আমাদের ৩২ জন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আপনারা যে লাশের রাজনীতি শুরু করেছেন, সাবধান হয়ে যান। এই রক্তের খেলা দেশের সাধারণ জনগণ এমনভাবে শেষ করবে, যা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।

বক্তব্যের শেষের দিকে প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে সাবধান হতে হবে। আপনারা বিএনপির চশমা খুলে ফেলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করুন।

বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু মুসা, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান, জসকু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন সদস্যসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নেতারা সাইফুল্লাহর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে অবিলম্বে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

২০ দিনে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ দিনে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে চলতি মাসের শুরু থেকেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জুনের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১ হাজার ৫৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৫৪ জন চাঁদাবাজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পুলিশি তালিকাভুক্ত এবং বাকি ৫৩ জন তালিকাবহির্ভূত। এছাড়া নগরের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের ৪৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে একই সময়ে ডিএমপির বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ ১ হাজার ২০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে আরও জানানো হয়, মহানগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে পুলিশের এ বিশেষ চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

‘বেঁচে আছি নাকি মারা গেছি, দেখার কেউ নেই’

অনলাইন ডেস্ক
‘বেঁচে আছি নাকি মারা গেছি, দেখার কেউ নেই’
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এক হাজার ৩৫০ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালটিতে সারা দিন রোগীতে উপচে পড়া ভিড় থাকে। টিকিট কাউন্টার, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং চিকিৎসক কক্ষের সামনে সব সময় রোগীদের দীর্ঘ সারি থাকে। তবে এই হাসপাতালকে ঘিরে যেন রোগীদের অভিযোগের কমতি নেই। 

সম্প্রতি একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের ইউটিউবে এক ভিডিওতে রোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ দিতে দেখা গেছে।

হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে এক রোগী বলেন, ‘রাত ৩টায় এসেছি। একটা ডাক্তারও দেখেনি। ফ্লোরের মধ্যে রেখেছে। বেঁচে আছি, নাকি মারা গেছি, কেউ দেখার নেই। বেড বয় সকালবেলা এসে টাকা চায়। ২০০ টাকা দেওয়াতে খুশি না। ৬০০ টাকা দিতে হবে। একদম ফালতু হসপিটাল।’

ভিডিওতে এক রোগীকে বলতে শোনা যায়, ‘সেবা নেওয়ার জন্য এসেছি, কিন্তু দেখতেছি এখানে যাও, ওইখানে যাও, সিরিয়াল। অথচ অনেকে ঠিকই চিকিৎসা নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ চিকিৎসা পাচ্ছে না। সকাল ৮টায় এসেছি, শুধু মাথায় এক্স-রে করার জন্য। পাঁচ মিনিটের কাজ, অথচ বেলা বাজে ১২টা।’

সিস্টারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে এক রোগী বলেন, ‘তাদের ব্যবহার এত খারাপ যে বলার মতো না। এ জায়গায় আমরা এসেছি ভালো সার্ভিস নেওয়ার জন্য। প্রত্যেকটা রোগী আসে তাদের সেবা নেওয়ার জন্য। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তারা সিস্টাররা মনে হয় একেকটা ডাক্তার।’

চর্মের সমস্যা নিয়ে আসা এক নারী রোগী বলেন, ‘আমার চর্মের সমস্যা। আমি ডাক্তারের কাছে গিয়ে হাত দেখাইছি। উনি বলতেছেন যতটুকু দেখাইছি ততটুকুতে ট্রিটমেন্ট পাব না। আমি বলছি আমার আরো শরীরে অনেক জায়গায় আছে, এটা দেখানো যাবে না। তখন তিনি বলেন যে তাহলে ট্রিটমেন্টও হবে না। আউটডোরে এত মানুষের ভেতরে কিভাবে তাকে আমি শরীর দেখাব?’

অপর এক রোগী বলেন, ‘আজকে এক সপ্তাহ ধরে স্লিপ নিয়ে বইয়া রইছি। এই ওয়ার্ডে যান, ওই ওয়ার্ডে যান। আর সত্যি কথা কি, সেবা আমরা ভালো করে পাই না। সকাল ৮টা থেকে নিয়া ১২টা পর্যন্ত সিরিয়ালে দাঁড়াইয়া রইছি। উনি বলতেছে আজকে হবে না, শনিবারে আসেন। সামনের শনিবার থেকে আবার সামনের শনিবার।’

আদিবাসী অধিকার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদিবাসী অধিকার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগের আহ্বান
ছবি: কালের কণ্ঠ

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আদিবাসীদের ভূমির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একযোগে কাজ করতে হবে।

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর কারিতাস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (সিডিআই) মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইকোলজি প্ল্যাটফর্ম (বিএপি) প্রকল্প আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।

ভূমি ও আদিবাসী অধিকার এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বিষয়ক এ অ্যাডভোকেসি সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক দাউদ জীবন দাশ বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমি অধিকার ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার বিষয়টি জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।

সেমিনারে আদিবাসীদের নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, আদিবাসীদের অনেক কিছুর নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা একটি “জেনোসাইড” (গণহত্যা)। এটি বন্ধ হওয়া দরকার। তিনি আরো বলেন, যত্রতত্র ইকোপার্ক স্থাপন বন্ধ করতে হবে। তার মতে, ইকোপার্ক মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস করে। ভূমির অধিকারসহ আদিবাসীদের সুরক্ষায় বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে আদিবাসীরা ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বারসিকের পরিচালক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই আদিবাসীরা নির্যাতিত ও বিতাড়িত হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকে যখন আদিবাসীদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য উল্লেখ করা হয়, তখন তা রাষ্ট্রীয় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাই আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকারকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিজেনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইপিডিএস)-এর সভাপতি সঞ্জীব দ্রং। তিনি আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ১৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। প্রথাগতভাবে ভোগদখলকৃত ভূমির ম্যাপিং ও নিবন্ধনের মাধ্যমে আইনি মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। বন বিভাগের গেজেট, জরিপ বা ফরেস্ট ল্যান্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসীদের জীবন ও জীবিকায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে তাদের অবহিত সম্মতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। জাতীয় উদ্যান, ইকো-পার্ক বা অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নে আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব ও মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। শত্রু সম্পত্তি ও অর্পিত সম্পত্তি আইনের কারণে হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভূমি সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ, খাজনা প্রদান ও ভূমি জরিপ বিষয়ে আদিবাসীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন কারিতাস বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেথিন প্রমিলা। এতে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিল্পী কুন্ডু, বাংলাদেশ কৃষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. বদরুল আলম, এবং কারিতাস বাংলাদেশের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অপূর্ব ম্রং ও ব্যবস্থাপক সুবাস এ. গোমেজ।