• ই-পেপার

নান্দাইল

উপবৃত্তি পায় ৬১ শিক্ষার্থী, ক্লাসে উপস্থিতি সর্বোচ্চ ১০

  • হাজিরা খাতায় উপস্থিতি শতভাগ
  • ঠিকমতো হয় না পাঠদান
  • রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট

রাস্তায় ফেলে যাওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
রাস্তায় ফেলে যাওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু
ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া শতবর্ষী অন্ধপ্রায় বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, ভরণপোষণ ও দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি পরিবারের অবহেলার শিকার হন। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে আলাদা থাকেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও দুই ছেলের নামে লিখে দেওয়ার পর তার অবস্থান আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

মফিজ উদ্দিন তার বড় ছেলের বাড়িতে থাকতেন। তবে ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে থাকা নাতনি ও তার স্বামী বৃদ্ধের দেখাশোনা করতে অনাগ্রহী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় তারা তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্দেশে গভীর রাতে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। পরে তাকে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বৃদ্ধের নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, যতদিন প্রয়োজন ততদিন মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন। এছাড়া দ্রুততার জন্য সরকারি বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মেয়ের বাড়িতে সমস্যা হলে তার জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা পরিবারের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ ঘটনাকে পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ উল্লেখ করে অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগকে মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে উপপরিচালক আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি কিশোরগঞ্জ উপজেলার কিশামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

অফিস আদেশে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিস সময়কে লোক দেখানো শোপিস বললেন প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে একটি অনলাইন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিদ্যালয়ে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা সরকারি কর্মচারীর শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ধারায় অসদাচরণের অভিযোগে এবং একই বিধিমালার ১২(১) বিধান অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বরখাস্তকালীন সময়ে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি বর্তমান কর্মস্থল বা নির্ধারিত ঠিকানার বাইরে যেতে বা অবস্থান করতে পারবেন না বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নড়াইলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইল সদর উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোস্তফা কাজী (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোস্তফা কাজী মহারাগ গ্রামের আকমল কাজীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (২৯ জুন) ভদ্রবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ভদ্রবিলা ও পলইডাঙ্গা গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শুক্রবারও এ বিষয়ে আরেকটি সালিস হওয়ার কথা ছিল।

এরই মধ্যে শুক্রবার বিকেলে বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়িতে জিনিসপত্র রেখে পুনরায় ভদ্রবিলা বাজারে যাওয়ার পথে বাজারের কাছাকাছি এলাকায় ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি মোস্তফা কাজীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু। তিনি বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার সালিস হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। শুক্রবারও সালিস হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কুলাউড়ায় আন্ত জেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া প্রতিনিধি
কুলাউড়ায় আন্ত জেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পৃথক অভিযানে আন্ত জেলা ডাকাত দলের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে কুলাউড়া থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, রাত ২টা ৩৫ মিনিটে কুলাউড়া থানার একটি বিশেষ দল উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের মানগাঁও ত্রিমোহনী সড়কে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজনকে হাতেনাতে আটক করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সৈয়ারপুর গ্রামের মো. কাউছার মিয়া (৩২), বেরিরচক গ্রামের জসিম মিয়া (৩৫), কুলাউড়া উপজেলার পশ্চিম বিলেরপাড় গ্রামের মো. সালাউদ্দিন (২৯) এবং কমলগঞ্জ উপজেলার সতিজিরগ্রাম গ্রামের রেজাউল ইসলাম মামুন (২৮)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার কাউছারের বিরুদ্ধে ১১টি, জসিমের বিরুদ্ধে ১২টি এবং সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, একটি কাটার, একটি সুইস গিয়ার ছুরি, একটি রামদা ও একটি লোহার ছোরা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে পৃথক আরেকটি অভিযানে কুলাউড়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্ত জেলা ডাকাত দলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে আহাদ মিয়াকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে। তিনি রাজনগর উপজেলার কদমহাটা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ১৪টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’