ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আরো ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে। সোমবার (২৯ জুন) চালানটি ডিপোর রিসিভিং টার্মিনালে গ্রহণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আমন মৌসুমে সেচের চাহিদা বিবেচনায় এ চালান উত্তরাঞ্চলে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। পাইপলাইন চালুর ফলে জ্বালানি পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরো নিরাপদ ও কার্যকর হয়েছে।
বিপিসি সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ চালানসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৭৯ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।
পার্বতীপুর ডিপো থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে ট্যাংকলরিযোগে রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহের ফলে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল বলেন, কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলে সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরো গতিশীল হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কৃষি, পরিবহন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।





